Home চট্টগ্রাম অল্প বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরে জমে যাচ্ছে কোমরপানি

অল্প বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরে জমে যাচ্ছে কোমরপানি

0 235

আবদুল্লাহ আল মামুন

অল্প বৃষ্টিতেই কোমর-পানি জমে যাচ্ছে চট্টগ্রাম নগরে। এর জন্য নগরের খাল-নালা অবৈধভাবে দখল হওয়াকে দায়ী করছেন নগর-পরিকল্পনাবিদরা। খাল-নালা সংরক্ষণের দায়িত্ব যাদের, সেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেরই ছয়টি স্থাপনা গড়ে উঠেছে খাল-নালা দখল করে। এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতেও কোনো উদ্যোগ নেই তাদের। এর মধ্যে নগরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম চাক্তাই খাল দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাজার ও বহুতল ভবন। জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ জরুরি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ‘সিটি করপোরেশন খাল ভরাট করে স্থাপনা করেছে-এমন কিছু আমাদের জানা নেই। খালের জায়গায় যদি সিটি করপোরেশনের ভবন থেকে থাকে তাহলে সরিয়ে নেওয়া হবে।’
২০১৪ সালের ১৬ জুলাই নদী-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের এক বৈঠকে চাক্তাই খালের সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বছরের ২০ অক্টোবর সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে জমা দেয় চাক্তাইখাল সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত গঠিত কমিটি। ওই তালিকায় দখলদার হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেরও নাম রয়েছে। নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় চাক্তাই খাল ভরাট করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গড়ে তুলেছে চারতলা ভবন। বর্তমানে রাজস্ব সার্কেল-২-এর কার্যালয় রয়েছে এখানে। এ ছাড়া চাক্তাইখালের ১৩ হাজার ১২৫ বর্গফুট জায়গা ভরাট করে গড়ে উঠেছে বহদ্দারহাট বাজার। বাজারটির পরিচালনায়ও রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া বহদ্দারহাটে স্বজন সুপার মার্কেট আড়াল করে নালার ওপর মার্কেটও নির্মাণ করেছে সিটি করপোরেশন।
সম্প্রতি নকশা বহির্ভূত ভবনের তালিকা তৈরি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই তালিকায়ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নাম রয়েছে। নকশা অনুমোদন না নিয়ে নগরের কোতোয়ালী থানার জামালখান খালের ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ভবনের একাংশে গণশৌচাগার নির্মাণ করে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুইতলা ও তৃতীয় তলা ভাড়া দেওয়া হয়েছে একটি রেস্তোরাঁকে।
নগরের নন্দনকানন পাহাড় থেকে উৎপত্তি বদরখালী খাল। কোরবানীগঞ্জের বাঁশঘাটায় খালটি চাক্তাইখালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। খালের মোহনায় সেতু। দুপাশে খালের ওপর দ্বিতল দুটি ভবন। দেখে বোঝার উপায় নেই এর নিচ দিয়ে বয়ে গেছে প্রায় ২০ ফুট চওড়া একটি খাল। খাল দখল করে ভবনগুলো নির্মাণ করেছে স্বয়ং সিটি করপোরেশন। মোহনায় ভবন তৈরি করায় উজানে খালটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। করপোরেশনের নথিপত্রে এটি এখন উত্তর বদরখালী নালা।
কোরবানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘বকশিরহাট এলাকায় ঘাট ছিল। গঞ্জের ব্যবসায়ীরা মালামাল বোঝাই করে নৌকায় নিয়ে যেত। তা ছাড়া আন্দরকিল্লা, হাজারী লেইন, টেরিবাজার, বকশিহাট, কোরবানীগঞ্জ, খাতুনগঞ্জ-এসব এলাকার পানি চলাচলের পথও এটি। সিটি করপোরেশন ভবন তৈরি করে নিজেরাই পানি চলাচলের পথটা বন্ধ করে দিয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে নগর-পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, ‘খাল সংরক্ষণের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। তারাই যদি খালের ওপর ভবন তৈরি করে তাহলে অবৈধ দখলদাররা আরও উৎসাহিত হবে। শিগগির খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে একদিন খালগুলো চট্টগ্রামের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।’
তবে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। প্রকল্পটির পরিচালক ও চউকের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় এখন আমরা খালগুলো পরিস্কারের কাজ করছি। যখন খালের দুই পাশে প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণ ও সড়কের কাজ শুরু করা হবে, তখন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।’

NO COMMENTS

Leave a Reply