Home ফিচার আগামীর নগরপিতার কাছে যানজট দূষণমুক্ত সবুজ ঢাকার প্রত্যাশা

আগামীর নগরপিতার কাছে যানজট দূষণমুক্ত সবুজ ঢাকার প্রত্যাশা

0 95

কারিকা প্রতিবেদক

প্রায় দুইকোটি মানুষের এই মেগাসিটিকে ঘিরে নগরবাসীর প্রত্যাশা কম নয়। প্রত্যাশার পারদ যেমনি উপরের দিকে তেমনি প্রাপ্তির খাতাও বলা চলে প্রায় শূন্য! । এরই মধ্যে ঢাকা পেয়ে গেছে দুই নগরপিতাকে। নতুন দায়িত্ব নেয়া এই দু’জনের প্রতি প্রত্যাশা কী- কারিকার পাঠকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো তারা কেমন ঢাকা প্রত্যাশা করেন? এমন প্রশ্নে পাঠকদের কাছ থেকে স্বর্তঃফূর্ত সাড়া পাওয়া গেছে। পাঠকরা জানিয়েছেন তাঁদের প্রত্যাশার কথা তাঁদের ভাবনার কথা।
নগরপিতার কাছে পরিস্কার পরিচ্ছন, দূষণ ও যানজটমুক্ত ঢাকার প্রত্যাশা করেন এনআরবি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালেদ হোসেন। বেসরকারি চাকরিজীবী দিলশাম মাহ্জাবিন মৌরির প্রত্যাশাও দুনীর্তি, যানজটমুক্ত সবুজ ঢাকার। সংবাদকর্মী স্বপ্ন রোজ রাজধানীর প্রতিটি বাস স্ট্যান্ডে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট ও স্তন্যদান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছেন।
প্রকৌশলী মির্জা নূর আহমেদের মতে, মেয়রদের কার্যপরিধি সীমিত থাকায় তাঁদের কাজের গন্ডিও ছকে বাঁধা। তাই নির্ধারিত কয়েকটি কাজ ছাড়া সিটি করপোরেশন স্বাধীনভাবে আর কোন কাজ করতে পারে না। নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে যানজট প্রশমন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশার উপদ্রব কমানো এবং নিরবিচ্ছিন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নগর কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সিটি করপোরেশনকে সড়ক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ট্রাফিক শৃঙ্খলার দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নত দেশের আদলে জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর সামনে ময়লা আবর্জনা থাকবে, তাদেরকে জরিমানার আওতায় আনতে হবে। ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের পাশাপাশি এসব বিষয় দেখভালের জন্য সিটি করপোরেশনের কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। মশা এবং অন্যান্য পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে আলাদা সেল গঠন করতে হবে এবং পরিবেশের কোন ক্ষতি না করে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ঢাকা ওয়াসাকে সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রনাধীন করতে হবে। অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় বা ফুটপাতে রাখলে জরিমানার বিধান চালু করতে হবে, দুনীর্তি প্রতিরোধে মেয়র এবং কাউন্সিলারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে তবেই সিটি করপোরেশন নগরবাসীর কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে বলে মত দেন অনেকেই।
বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলসের) তথ্য কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ মনে করেন, যানজট, গণপরিবহনের সংকট, ময়লা আবর্জনা, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব এবং গ্যাস-পানির দুঃপ্রাপ্যতা ঢাকার নিত্যসঙ্গী।
শুধু ধনিক শ্রেনীর কথা ভাবলেই চলবে না একই সঙ্গে নগরের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কথাও ভাবতে হবে। যারা এ নগরের প্রাণ। নাগরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশন দলমত নির্বিশেষে জনগণের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে, জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে জনহিতকর কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।
পিতার কাছে সন্তানের যেমন চাওয়া মেগাসিটি ঢাকার বাসিন্দা হিসেবে নগরপিতার কাছে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সংবাদকর্মী জিকো সালেহীনের প্রত্যাশাটাও ঠিক তেমনি। তিনি বলেন, ঢাকা সিটিকে যানজট,দূষণ ও ডেঙ্গু মুক্ত শহর হিসেবে দেখতে চাই। সেই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন বাধাহীন ফুটপাতে চলতে চাই। প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ চাই,দখল হয়ে যাওয়া খাল এবং নালার পুনরুদ্ধার চাই। প্রতিটি আঞ্চলিক সিটি করপোরেশন অফিসে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সুবিধা চাই। প্রতিদিনের কাঁচাবাজার মনিটরিং এবং দ্রব্য-মূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ চাই। পোষ্টার মুক্ত নগরী দেখতে। চাই মাদক মুক্ত সমাজ। নাগরিক হিসেবে আমাদের চাওয়া পাওয়ার শেষ নাই। প্রত্যাশা করি নবনির্বাচিত মেয়রেরা অতীতের না হওয়া কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করবেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply