Home মূল কাগজ আমাদের ওপর ভোক্তাদের আস্থা আছে

আমাদের ওপর ভোক্তাদের আস্থা আছে

কারিকা ডেক্স


এম এম জসিম উদ্দিন
হেড অব অপারেশন, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্পগ্রুপ বসুন্ধরা। এলপি গ্যাসখাতে আপনাদের বিনিয়োগের পেছনে কী চিন্তা কাজ করেছে?
শুধু এলপি গ্যাস নয়, বাংলাদেশে শিল্পায়নের বহু খাতই আমরা প্রথম শুরু করেছি। বাংলাদেশের সিমেন্ট, কাগজসহ অন্য অনেক শিল্প আগে আমদানি-নির্ভর ছিল। এই আমদানি-নির্ভরতা কাটাতে আমরা এসব শিল্প স্থাপন করি।
এলপি গ্যাসখাতে বাংলাদেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগ বসুন্ধরা এলপি গ্যাস। এর পেছনে কাজ করেছে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সাহেবের দূরদৃষ্টি। আমরা শুরু করি ১৯৯৯ সালে। বিপিসির পরে আমরাই প্রথম বেসরকারি খাত যারা এলপি গ্যাসে বিনিয়োগ করে। চলতি বছরের শেষে আমরা এখন দ্বিতীয় প্ল্যান্ট শুরু করতে যাচ্ছি। এ প্ল্যান্ট উদ্বোধনের ফলে আমাদের উৎপাদন-ক্ষমতা এখনকার চেয়ে দ্বিগুণে রূপ নেবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এলপি গ্যাসের বাজার কী রকম?
আমাদের এ-খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি আছে ৪০ শতাংশ। আগে উপশহর এলাকায় এলপি গ্যাসের প্রচলন বেশি ছিল। বসুন্ধরাই সর্বপ্রথম ছোট ছোট দোকানে এলপি গ্যাসের প্রচলন শুরু করে। আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে এটি রান্নার অন্যতম অনুসঙ্গ। আমরা তাদের উপযোগী করে সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রি শুরু করি।
শুধু ব্যবসার জন্য আমরা এ খাতে এগিয়ে আসিনি। আমাদের একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা রয়েছে। কারণ একটি দেশের পরিবেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে আছে মাত্র ৬ শতাংশ। যে কারণে আমাদের গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। সরকারও এ-বিষয়ে এখন মনোযোগী হয়েছে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে এলপি গ্যাসের দাম অনেক কমে এসেছে। যদি কেউ লাকড়ি কিনে ব্যবহার করে তাহলে এলপি গ্যাসের চেয়ে বেশি খরচ পড়বে। তাই দিনে দিনে এ-খাতের বাজার বিস্তৃত হচ্ছে। প্রয়োজন বাড়ছে বলেই মানুষ এ গ্যাসের ওপর ঝুঁকে পড়ছে। আগামীতে এ-খাতের বাজার আরো বাড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বর্তমানে আবাসিক খাতে গ্যাস-সংযোগ বন্ধ করার ঘোষণা এসেছে। এটি এলপি গ্যাস খাতের ওপর কিভাবে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন?
আবাসিক খাতে এলপি গ্যাস ব্যবহারের কিছু সুবিধা আছে। আবার অসুবিধাও আছে। কারণ বহুতল ভবনে গ্যাস-সংযোগ দিতে গেলে উঁচু জায়গায় গ্যাস নেয়া একটি চ্যালেঞ্জ। আমরাই সর্বপ্রথম এলপি গ্যাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্ল্যান্ট করেছি। ইতিমধ্যে আমরা রাজউকের প্রকল্প ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনির কয়েকটি প্রকল্পে এ-ধরনের কাজে হাত দিয়েছি। আমরা সিলিন্ডার-ব্যাংক স্থাপন করেছি। এই ব্যাংক থেকে গ্যাস ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। গ্যাস রিচার্জ করলেই হবে। এর জন্য আমরা ছোট ছোট পাঁচ টনের সিলিন্ডারবাহী ট্যাংকার কিনেছি। আবাসনখাতে এলপি গ্যাস ব্যবহার আমাদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি। এক্ষেত্রে সরকার আমাদের ব্যাপক সহযোগিতা করছে।

এলপি গ্যাসের দাম বেশি এমন একটি অভিযোগ শোনা যায়…
একসময় অন্য জ্বালানির চেয়ে এলপি গ্যাসের দাম বেশি ছিল। বর্তমানে বারো কেজির প্রতি সিলিন্ডার মাত্র ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায় পাওয়া যায়। আগের চেয়ে সিলিন্ডার-প্রতি প্রায় ৫০০ টাকা কমে গেছে। এখন এটি অনেক সাশ্রয়ী ও ভোক্তাবান্ধব হয়েছে।

এলপি গ্যাসের নিরাপত্তা বিষয়টিও উল্লেখ করতে হয়। এটি বিস্ফোরণের ভয় আছে...
নিরাপত্তার বিষয়টি ভোক্তার ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। সিলিন্ডারটি যথাযথভাবে সিল করা হয়েছে কিনা সেটি ভালো করে দেখতে হবে। বসুন্ধরার ওপর ভোক্তাদের আস্থা আছে। দেশে সিলিন্ডার টেস্ট করার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি আমাদের। এটি অন্য কোম্পানিও ব্যবহার করে। আমাদের এ কারখানাটি মংলায় অবস্থিত। আমাদের ভোক্তা-গৃহিনিদের প্রতি আমার অনুরোধ, ভালো কোম্পানির সিলিন্ডার ব্যবহার করুন। সিলিন্ডারের সিল-ক্যাপটি যথাযথভাবে আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করে দেখবেন। আমরা এক্ষেত্রে হলোগ্রামিক স্টিকার ব্যবহার করি।

এলপি গ্যাস নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ভবিষ্যতে বেশি পরিমাণ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া আমরা এলপি গ্যাসের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাই। বেশি পরিমাণ উৎপাদন করা গেলে দামও কমে আসবে।

বাজেটে সরকারের কাছে কোনো প্রস্তাব রাখছেন আপনারা?
এ খাতের জন্য আমাদের কিছু কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এসব বিষয়ে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। আমরা জানি সরকার এ-খাতের প্রতি মনোযোগী। তাই এলপি গ্যাসকে জনগণের আরো কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার উদ্যোগী হবে বলে মনে করছি।

NO COMMENTS

Leave a Reply