Home মূল কাগজ সাক্ষাৎকার আমানত সংগ্রহ ও গ্রাহকের আস্থা অর্জনই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বড় চ্যালেঞ্জ

আমানত সংগ্রহ ও গ্রাহকের আস্থা অর্জনই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বড় চ্যালেঞ্জ

0 376

কায়সার হামিদ
ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব রিটেইল বিজনেস
আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড

আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড বেসরকারি খাতে বাংলাদেশের প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান। মাত্র তিন বছর আগেও প্রতিষ্ঠানটির লোন পোর্টফলিও ছিল সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ কোটি টাকা, বর্তমানে তা পাঁচ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। গত কয়েক বছরে আইপিডিসির মুনাফাও বেড়েছে কয়েকগুন। এ বছর অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের তুলনায় ৬০ ভাগের বেশি মুনাফা করেছে। দেশের অর্থনীতি ও আইপিডিসির বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে কারিকাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব রিটেইল বিজনেস কায়সার হামিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মির্জা মাহমুদ আহমেদ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলুন। কতটা উপভোগ করেন?
বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের সঙ্গে কোনো ফার্স্ট রিলেশন (ট্র্যান্সেকশনাল একাউন্ট) থাকে না। ব্যাংকই সব সময় গ্রাহকের সঙ্গে ‘ফার্স্ট রিলেশনশিপ’ করে থাকে। ব্যাংকের গ্রাহককে কাস্টোমাইজ সার্ভিস দেয়ার জন্যই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সর্ম্পক তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের থেকে বেশি বা সমান রেটে ডিপোজিট নিয়ে ব্যাংকের সমান রেটে লোন দেয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেহেতু একই ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করে সেহেতু আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষায়িত সেবা প্রদান করতে হয়। তা না হলে ব্যাংক ছেড়ে গ্রাহক কোনোদিনই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে আগ্রহী হবেন না। ব্যাংকের প্রোডাক্টগুলো খুবই গতানুগতিক ও গৎবাঁধা। ডাক্তার, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, গৃহিনী, কৃষক সহ সব পেশার মানুষদের জন্য ব্যাংক একই ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজ করার সুযোগ আছে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তারা কাস্টোমাইজ প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারে। আর কাস্টোমাইজ প্রোডাক্ট পেলে গ্রাহক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে আগ্রহী হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার চ্যালেঞ্জ হিসেবে বলতে হয় আপনি যদি চ্যালেঞ্জ না নেন তাহলে চ্যালেঞ্জ উপভোগ করার ক্ষেত্র তৈরি হয় না। একই ধরনের কাজ করে ভালো কোনো ফলাফল আশা করা যায় না। এটা সম্ভব না। অসাধারণ সাফল্য পেতে হলে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। এ-কথা যেমন ব্যক্তিজীবনে প্রযোজ্য তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও। চ্যালেঞ্জের সঙ্গে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সহজ পদ্ধতি এবং গ্রাহক বান্ধব সেবা থাকতে হবে। এগুলো সমন্বয় করতে না পারলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভালো করা, বিশেষত ব্যাংকের থেকে ভালো করা, খুবই দুঃসাধ্য।
ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?
ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দুই জায়গাতেই আমি কাজ করেছি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করার ফলে আমার কাজ শেখার পরিধি এবং কাজের স্বাধীনতাটাও অনেক বেশি ছিল। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ব্যাংককে যেহেতু অনেক বেশি দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, তাই সেখানে শেখার জায়গাটা কম। আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে যেহেতু গ্রাহকের সঙ্গে সেকেন্ড রিলেশনশিপ গড়তে হয় তাই গ্রাহকের জন্য বাড়তি কিছু করতেই হবে। যাদের ক্রিয়েটিভিটি আছে, যারা কাস্টোমার ফোকাসড এবং আউট অব দ্য বক্স কাজ করতে চায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ক্যারিয়ার গড়ার বড় ক্ষেত্র হতে পারে। আমাদের দেশ এখন একটা গ্রোয়িং স্টেজে আছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে। প্রত্যেকের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। এরকম সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশ খুবই সম্ভাবনাময়। অনেক ধরনের নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনার সুযোগ আছে। সুতরাং লিজিং কোম্পানিতে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চায় তাদের জন্য এটা একটা বড় সুযোগ।

আইপিডিসির বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন। অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোন খাতকে আপনারা প্রাধান্য দিচ্ছেন?
আইপিডিসি এ বছর সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটেগরিতে ডি এইচ এল ডেইলি স্টার ‘বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে। প্রায় এক’শর কাছাকাছি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমরা এই সম্মাননা অর্জন করেছি। এ ছাড়াও আমরা সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স প্রদত্ত ‘বেস্ট রিটেইল ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ড’, বেস্ট সাপ্লাই চেইন অ্যাওয়ার্ডসহ অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি। আইপিডিসির ফোকাস হচ্ছে তরুণ, নারী এবং আর্থিক সেবা সুবিধার গণ্ডির বাইরের জনগোষ্ঠী। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৬৫ ভাগের বয়স ত্রিশের নিচে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে তরুণ জাতি বাংলাদেশ। এরকম একটি দেশের প্রোডাক্ট, সার্ভিসেস, জব সবকিছু যদি আপনি তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে করেন, তার মানে হচ্ছে আপনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। আইপিডিসির ব্র্যান্ডিং, কালার, কার্যক্রম, লোগো, ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস মডেল, ডিজিটাল অ্যাপ্রোচ, প্রোডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস সবকিছুই তরুণবান্ধব! আমরা মনে করি, আজকের যে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, তারাই আগামী ১০ বছরে লিডিং পজিশনে যাবে এবং অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এই উদীয়মান তরুণদের অগ্রযাত্রায় সকল আর্থিক সমস্যার ওয়ান স্টপ সলিউশন হতে চায় আইপিডিসি। আমরা ছোট ছোট ডিপোজিট স্কিম করেছি, যেগুলোর সুবিধা গ্রাহকেরা ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে নিতে পারে। আমাদের লোন প্রসেসিং এবং লোন-সুবিধাগুলো সম্পূর্ণ অ্যাপ-বেজড করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দেশে সরকারি-বেসরকারি অনেক ব্যাংক। এর বাইরে আইপিডিসির মতো ফিন্যান্স কোম্পানিগুলো অর্থনীতিতে আলাদা কী ভূমিকা রাখছে?
ঢাকার বাইরে আর্থিক সুবিধা সহজলভ্য করা, দীর্ঘমেয়াদী ঋণ-সুবিধা দেয়া, নারী ও তরুণবান্ধব প্রোডাক্ট তৈরি করা এসব ক্ষেত্রে আইপিডিসি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়াও আইপিডিসি একটি টেকনোলজি ফ্রেন্ডলি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। নিকট ভবিষ্যতে দেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে টেকনোলজি গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি যত শক্তিশালী, তারা ব্যবসায়িক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে আমাদের নতুন কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আসছে। আমরা কাস্টোমার ম্যানেজমেন্টের জন্য সিআরএম (কাস্টোমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট) সফটওয়্যার নিয়েছি। ঢাকার বাইরে থেকে সহজে যাতে গ্রাহক লোনের জন্য আবেদন করতে পারে সেজন্য লোন অরিজিনেশন সিস্টেম ইনস্টল করেছি। সেলস ডিপার্টমেন্টকে পুরো ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে। এই ডিজিটালাইজেশনটা কিন্তু এখনও সব ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান নয়। এজন্য অন্যদের থেকে আইপিডিসি এগিয়ে আছে বলে আমি মনে করি।

NO COMMENTS

Leave a Reply