Home চট্টগ্রাম আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়েই সরকার আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। আবদুচ ছালাম ,...

আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়েই সরকার আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। আবদুচ ছালাম , চেয়ারম্যান , চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(সিডিএ)।

সাক্ষাতকার গ্রহনঃ সাইফুল ইসলাম


আপনি টানা ষষ্ঠবারের মতো সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। এতবার তো এর আগে কেউ দায়িত্ব পায়নি..
২০০৯ সালের এপ্রিলে চউক (সিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে আমার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো সিডিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশে এটি একটি ইতিহাস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়েই আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন।
চউক (সিডিএ) প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রথমবার কোনো রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি নিয়োগ পেয়েছি। আমার মেয়াদকালে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন নিয়েছি। ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ করেছি। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে চট্টগ্রাম উন্নয়নের পালে ধীরগতির যে হাওয়া ছিল আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তা ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। আমি দেখিয়ে দিয়েছি সততা, আন্তরিকতা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে সত্যিকার অর্থেই উন্নয়ন সম্ভব। সমৃদ্ধ মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম What is the reason behind the development of Malaysia ? উনি দুটি শব্দ আমাকে বলেছিলেন Opportunity and the honesty । আমি আন্তরিকতা দিয়ে মানুষের পাশে থাকা এবং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার মেয়াদকালে অবকাঠামো উন্ন্য়ন, শিক্ষার উন্ন্য়ন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন তথা বহুমুখী ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ আর চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থন আমাকে কর্ম সম্পাদনে দুঃসাহসী করে তুলেছে।
আগামী দুই বছরের মেয়াদকলে আপনার কর্মপরিকল্পনা কী?
বিপুলাকৃতির অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতা দূর, যানজট নিরসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন,পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও বন্দরকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আগামী পাঁচ বছরে বন্দরের কর্মকান্ড- দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হবে। এতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি চউক (সিডিএ) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে। সে জন্য প্রায় ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা বিচ থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১৭ কিমি বেড়িবাঁধ হচ্ছে। বেড়িবাঁধ হওয়ার ফলে জলোচ্ছ্বাস থেকে শহর রক্ষা পাবে। বাইপাসের মাধ্যমে যানজট নিরসন হবে, পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং কর্ণফুলী টানেলের অ্যাপ্রোচ রোড হিসেবে ব্যবহার হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হলে নগরবাসী এর সুফল ভোগ করবে। অন্যদিকে আগামী তিন বছরের মধ্যে পতেঙ্গায় সাগরপাড়ে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের যানবাহন শহরের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে শহরের ভেতর যানজট লেগেই থাকে। তাই নগরবাসীকে ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ পর্যন্ত ৬ কিমি বাইপাস রোড নির্মাণ হচ্ছে।
লালখানবাজার থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিমি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে শুরু হবে। এতে বন্দর ও ইপিজেড এলাকার মানুষ যানজটমুক্ত হবেন।
চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে অবহেলিত এরিয়া হচ্ছে বাকলিয়া। উন্নয়নের ছোঁয়া তেমন লাগেনি। ২০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ লেনের বাকলিয়া এক্সেস রোড তৈরি করা হবে। এতে নগরীর বাকলিয়া এলাকার বিশাল অংশ উন্নয়নের আওতায় আসবে।
প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীরে সাড়ে ৮ কিমি ৪ লেনবিশিষ্ট সড়কসহ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনের জন্য কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত ১২টি খালের মুখে পাম্প হাউস ও জোয়ারের অতিরিক্ত পানি ঠেকানোর জন্য প্রতিরোধক গেট স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীর চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ এলাকা জলাবদ্ধতার সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
 বর্তমানে সারাবিশ্বে বিরাজ করছে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব। ওই প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য পরিবেশবান্ধব স্থাপনা নির্মাণে ভবন মালিকদের প্রতি আপনাদের দিকনির্দেশনা আছে কী?
আবহাওয়ার পরির্বতন বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। সে জন্য চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধ ও পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছি শহরকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করার জন্য। পাশাপাশি দুটি বেড়িবাঁধে আমরা ১ লাখ গাছের চারা রোপণ করব, যা পরিবেশ তথা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করবে। অন্যদিকে ভবন নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করতে সবাই বাধ্য।  সেখানে বাগান হবে, গাছ লাগানো হবে, মোট কথা সবুজ থাকবে। এক্ষেত্রে যারা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাবে তাদের ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত কঠোর আচরণ করতে বাধ্য হব। আমরা চাই প্রতিটি ভবনের বাসিন্দারা সবুজের মধ্যে বসবাস করুক। এর সঙ্গে সংযুক্ত আছে সুয়ারেজ সিস্টেম ডেভেলপ করা। এতে করে বর্জ্য সরাসরি নদীতে বা নালাতে পড়ে পরিবেশ দূষণ করবে না।
 জলজট, জলাবদ্ধতা ও যানজটমুক্ত চট্টগ্রাম নগরীকে নান্দনিকভাবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি আপনার করণীয় কী?
জলাবদ্ধতা নিরসনে মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। কর্ণফুলীতে ড্রেসিংয়ের প্রয়োজন হবে। বিদ্যমান খাল খনন, খাল সম্প্রসারণ এবং নতুন খাল উন্নতকরণ করতে হবে। তবে এ কাজগুলো কে করবে তা নির্ধারণ করবে সরকার। সরকার যদি চায় তাহলে সিডিএ করবে। চউকের (সিডিএ) চলমান প্রকল্প মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, লালখানবাজার থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধ, ফৌজদারহাট থেকে পতেঙ্গা বাইপাস, বাকলিয়া এক্সেস রোড, ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ লিংক রোড প্রকল্পের কাজগুলো সম্পন্ন হলে বর্তমানে নগরীর যে বহুদিনের পুরনো সমস্যা জলবদ্ধতা ও যানজট, সেটা পুরোপুরি নিরূপণ হবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply