Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার ইটের বিকল্প হলো ব্লক

ইটের বিকল্প হলো ব্লক

0 4523

কারিকা ডেক্সঃ


প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শুরু হচ্ছে ভবন নির্মানের কাজ। অর্থাৎভবন নির্মাণের হার  বাড়ছে। এতে বিপুল পরিমাণে ইট ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ইট তৈরিতে প্রচুর পরিমাণে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইট পোড়াতে কয়লা এবং কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ বাড়ে যাচ্ছে।একদিকে ফসলি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে।পাশাপাশি বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বর্তমান বিসগ্ব প্রযুক্তি নির্ভর। তাই আমরা যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইটের বিকল্প কিছু এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারি তাহলে প্রাকৃতিক সম্পদ কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এসব দিক মাথায় রেখেই পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী তৈরি করছে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। রাজধানীর টেকনিক্যাল রোডে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে চার বছর ধরে নির্মাণ করা হচ্ছে এসব সামগ্রী। কিন্তু সঠিকভাবে প্রচারের উদ্যোগ না থাকায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানপর্যায়ে বিষয়টি অজানা থেকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব সামগ্রীর প্রচার হলে মাটিতে পোড়ানো ইটের প্রতি নির্ভরশীলতা কমে আসবে।

বর্তমানে বাজারে তৈরি আগুনে পোড়া একটি ইটের দাম পড়ে ৭ থেকে ৮ টাকা। অথচ পরিবেশবান্ধব এই ইটের (হলো ব্লক) দাম পড়ে ৬ থেকে ৭ টাকা। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে সাধারণ ভবনে এক বর্গফুটের নির্মাণ খরচ পড়ে এক হাজার ৮০০ টাকা। অথচ এ ধরনের ডেমোনেস্ট্রেশন বিল্ডিং তৈরি করতে প্রতি বর্গফুটে খরচ হয় মাত্র ১ হাজার ১৫০ টাকা।

পাশাপাশি সাধারণ বহুতল ভবনগুলো ভূমিকম্প সহায়ক নয়। অথচ এ ভবনগুলো ভূমিকম্প সহায়ক। এটা রিখটার স্কেলে ১০-১২ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

পঞ্চগড়ে কাঁচামাল বালু আর পাথরের গুঁড়ার সাথে সিমেন্ট মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক মানের টাইল্স ও হলো ব্লক। জেলা শহরের উপকণ্ঠে তালমা নদীর তীরে হাবিব অ্যান্ড সান ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরীামূলকভাবে উৎপাদন করছে টাইল্স ও হলো ব্লক। শুরুতে স্বল্প পরিসরে হলেও আগামীতে আরো বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনে যাবে এই শিল্প কারখানা।এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।

 

বর্তমানে ইটের জন্য মাটি কাটতে হয় বলে প্রতি বছর ফসলি জমির পরিমাণ ১ শতাংশ কমে যায়। এভাবে ফসলি জমি কমলে পাঁচ কোটি লোকের খাবারে ঘাটতি পড়বে। এ জন্য এখন থেকেই ভিন্ন ধরনের ভবন তৈরির কথা ভাবতে হবে।

 

NO COMMENTS

Leave a Reply