Home মূল কাগজ নগরোদ্যান এক আনন্দময় জগৎ ফ্যান্টাসি কিংডম

এক আনন্দময় জগৎ ফ্যান্টাসি কিংডম

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যান্টাসি কিংডম, ঢাকার নিকটস্থ সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে এই আনন্দময় জগৎ। ২০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত পার্কটি প্রথমে থিমপার্ক পরিচয়ে যাত্রা করে, সেটা ছিল ২০০২ সাল। পরবর্তী সময়ে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়। এখন এটি একটি বিনোদনের আলাদা জগৎ বলাই উত্তম। পার্কটির প্রতিষ্ঠাতা কনকর্ড গ্রপ। বিশাল এই বিনোদন জোনে প্রবেশ করে একটি দিন কাটিয়ে দেয়া যায় অনায়াসেই।
ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রবেশ করে প্রথমেই হেরিটেজ পার্ক। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন। এ পার্কটিতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, আহ্সান মঞ্জিল, চুনাখোলা মসজিদ, কান্তজির মন্দির, জাতীয় সংসদ ভবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, সীতাকোট বিহার, পুটিয়া রাজবাড়ি ও গ্রিক মেমোরিয়ালসহ ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের রেপ্লিকা নিয়েই গড়ে উঠেছে। দেশের অনেক বৃহৎ এবং প্রাচীন স্থাপনা এমন ছোট এবং নিখুঁত যে চমকে যেতে হয়। মনে হয় ঘুরে ঘুরে সারাটা দিন দেখি কান্তজির মন্দির, স্মৃতিসৌধ এসব। সামনেই বিরাট এক নাগরদোলা। নাগরদোলায় চড়ে আপনার আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা হবে। এছাড়া আছে রাইড, লেক, কোনো পাইপ ছাড়াই ট্যাপ দিয়ে পানি পড়ার দৃশ্য। আছে পালকি, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, রিকশাসহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা উপকরণ।
এরপর বিশাল ফটক পেরিয়ে ফ্যান্টাসি কিংডম। এখানে প্রবেশ করেই আপনি হারিয়ে যাবেন বিপুল এক আনন্দজগতে। কোথাও গাড়ির ধাক্কার শব্দ, কোথাও রাইডে চড়ার আনন্দ-চিৎকার। কোথাও বিশালাকার ডাইনোসর পানি খাচ্ছে। কোথাও প্রিন্স আশু আর প্রিন্সেস লিয়া দাঁড়িয়ে। মাথার ওপর দিয়ে চিৎকার করে ছুটে যাচ্ছে রোলার কোস্টার। হ্যাঁ, মজার মজার সব রাইড এখানেই। ছোটদের জন্য আছে ঘোড়ার গাড়ি, অ্যারোপ্লেনসহ মজার আরও অনেক কিছু। বড়দের উত্তেজনাকর রাইডের মধ্যে আছে জায়ান্ট ফেরিস হুইল, জুজু ট্রেন, হ্যাপি ক্যাঙ্গারু, বাম্পার কার, ম্যাজিক কার্পেট, সান্তা মারিয়া, জিপ অ্যারাউন্ড, পানি অ্যাডভেঞ্চার, ইজি ডিজি। রাইড ছাড়াও খাবারের পর্যাপ্ত দোকান রয়েছে। আনন্দ-উল্লাসের ফাঁকে ভেতরেই সেরে নিতে পারেন দুপুরের খাবার।
ফ্যান্টাসি কিংডম শেষ করে চলে যেতে পারেন ওয়াটার কিংডমে। ফ্যান্টাসি কিংডমের শেষ প্রান্তে মাটির নিচ দিয়ে মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় ভার্চুয়াল অ্যাকুয়ারিয়াম টানেল পার হয়ে প্রবেশ করতে হয় ওয়াটার কিংডমে। সেই পথের দুই পাশে ভেসে বেড়াচ্ছে তিমি-হাঙরসহ নানা সামুদ্রিক প্রাণী। সুড়ঙ্গপথের অপর প্রান্তে উঠেই চোখে পড়বে রিসোর্ট আটলান্টিকস। এ রিসোর্টে চাইলে আসা যায় অবকাশযাপনে, সারাদিন পার্ক ঘুরে রাতে রিসোর্ট থেকে যাওয়াও আরেক সুখের অভিজ্ঞতা। এ রিসোর্টে অবকাশযাপনকারী ফ্যান্টাসি কিংডম, ওয়াটার কিংডম ও হেরিটেজ পার্কের মনোরম সৌন্দর্য ও রাইড উপভোগ করার সুযোগ পাবেন বিনাখরচে। ইকোনমি, ডিলাক্স, সুপার ডিলাক্স ও স্যুট এই চার ধরনের রুম রয়েছে রিসোর্টে।
রিসোর্টটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম, ক্যাবল টিভি, রেস্টুরেন্ট, ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, সাইবার ক্যাফে, টেলিফোন, কার পার্কিং, লন্ড্রি সার্ভিস, কনফারেন্স সেন্টারসহ অনেক কিছু। এছাড়া বিনোদনের জন্য রয়েছে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম হল, বিলিয়ার্ড, পুল ও এয়ার হকিসহ বিভিন্ন রকম গেমের আয়োজন। রিসোর্ট আটলান্টিসে আগত অতিথিদের জন্য রয়েছে বার-বি-কিউ নাইট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের চমৎকার সব আয়োজন। আরও রয়েছে রুম ভাড়ার সঙ্গে সকালের নাশতা। এই রিসোর্ট থেকে চোখে পড়ে ওয়াটার কিংডমের সৌন্দর্য। রিসোর্টের তিন পাশে জলাশয়। কোথাও বৃষ্টি ঝরছে, কোথাও সমুদ্রের ঢেউ। কোথাও এমনি এমনি পানি। ওয়াটার কিংডমের ভাষায় এখানে আছে স্পাইড ওয়ার্ল্ড, ফ্যামিলি পুল, টিউব স্পাইড, লেজি রিভার, মাল্টি স্পাইড, ওয়াটার ফল, ডুম স্পাইড, লস্ট কিংডম, ড্যান্সিং জোনসহ মজাদার সব রাইড। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পার্কটিতে রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দুটি আলাদা চেঞ্জ রুম ও লকারের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীরা নিজেদের সঙ্গে অতিরিক্ত কাপড় ও তোয়ালে আনতে পারেন। এছাড়া এখানে তোয়ালে ও সুইম স্যুট ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়ার জন্য রয়েছে গিফট শপ, একাধিক ফুডকোর্ট ও আইসক্রিম শপ।
ফ্যান্টাসি কিংডম সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকে। সাধারণ দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা দিলে আশুলিয়ার জামগড়া সহজেই চলে যাওয়া যায়। ফ্যান্টাসি কিংডম প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় খুঁজে পেতে অসুবিধা হয় না। যারা বাসে যেতে চায়, তাদের জন্য রয়েছে ঢাকার মতিঝিল থেকে মঞ্জিল বাস সার্ভিস। মঞ্জিল বাস মহাখালী, কাকলী, উত্তরা, টঙ্গী, কামারপাড়া হয়ে ফ্যান্টাসি কিংডমের প্রবেশমুখে এসে থামে। এছাড়াও মহাখালী ও মিরপুর থেকে সরাসরি বাস পাওয়া যায়। সাভার রুটে সাভার গিয়ে আবার অন্য বাসে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাওয়া যায়।

NO COMMENTS

Leave a Reply