Home চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশায় পরিবর্তন

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশায় পরিবর্তন

0 102

চট্টগ্রাম বন্দরের আপত্তিতে বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত নির্মাণ হবে সড়কের বাইরে

আবদুল্লাহ আল মামুন

চট্টগ্রামের লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে সেই ২০১৭ সালের ১১ জুলাইয়ে। এরমধ্যে পার হয়ে গেছে দুইবছর। শুরু হয়েছে কাজও। এখন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আপত্তিতে নকশায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটা হলে বেড়ে যাবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ ব্যয়। এছাড়া স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়তে পারে নির্মাণকাজও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পগুলো নেওয়ার আগে কোন ধরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। যার কারণে কাজ শুরুর পর নকশায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের আপত্তি হচ্ছে- বন্দর সীমানা ঘেঁষে বিদ্যমান সড়কের উপর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে চট্টগ্রাম বন্দর। বিঘ্নিত হবে বন্দরের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলও।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘এটা সত্যি যে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলাপ করে মতামত নেওয়া হয়নি। যার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরুর পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আপত্তি এসেছে। বন্দর দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাদের আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে উভয়পক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন নকশা পরিবর্তন,ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে প্রকল্প ব্যয় পুনর্গঠন করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বিদ্যমান সড়কের উপর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হলে বন্দরমুখী যানবাহনের আসা-যাওয়া বাধাগ্রস্থ হবে। এছাড়া বন্দরের নিরাপত্তা দেওয়াল ঘেঁষে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে বন্দরের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে বিষয়টি চউককে জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নগরের বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের ডানপাশে ৩০ ফুট ভূমি অধিগ্রহণ করে তার উপর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ও বন্দর কার্যালয়ের সামনে দুইটি উঠা-নামার পথ রাখার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।’
২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-র‌্যাঙ্কিন। অনুমোদনের প্রায় দেড় বছর পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে নগরের সিমেন্টক্রসিং থেকে কাঠগড় পর্যন্ত প্রায় ৬০টি পিলারের পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। টেকনিক্যাল কমিটি কয়েক দফা সভা করে নগরের বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত সড়কের ডান পাশে ৩০ ফুট করে ভূমি অধিগ্রহণ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া নগরের লালখানবাজার থেকে বারিকবিল্ডিং ও সল্টগোলা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের উপর নির্মাণ হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। এ সড়কের ডান পাশে হাজারের অধিক দোকান ও বহুতল ভবন রয়েছে। সরকারি অনেক স্থাপনাও রয়েছে। এসব ভবন ভেঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কয়েক’শ কোটি টাকা। বাড়বে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়ও। স্থানীয় লোকজনের বসত-বাড়ি থাকায় নির্মাণ কাজ বাধার মুখে পড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, ‘চউকের গত ১০ বছরের কাজগুলো সাবেক চেয়ারম্যানের ইচ্ছেমতো হয়েছে। কখনো স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেননি তিনি। নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শও গ্রহণ করেননি। যার কারণে এসব প্রকল্প অপরিকল্পিত ও লোক দেখানো। এগুলো জনবান্ধব কোন প্রকল্প নয়। একটি কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হওয়ার পর নকশায় পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে বুঝা যায় প্রকল্পগুলো কতটা অপরিপক্ক। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের টাকা হরিলুট হচ্ছে।’
তবে প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়নের কথা ছিল। তখন তারা এসব মতামত জানাননি। যার কারণে কাজ শুরুর পর নকশায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এতে বড় কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না। কারণ বারিকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত সড়কের ডান পাশে অধিকাংশ জায়গা বন্দর কর্তৃপক্ষের। তারা তা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য ছেড়ে দিবে। বাকি জায়গা ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে।’
সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নয়টি এলাকায় ২৪টি র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠা-নামার পথ) থাকবে। নগরের টাইগারপাসে চারটি, আগ্রাবাদে চারটি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে দুটি, নিমতলী মোড়ে দুটি, কাস্টমস মোড়ে দুটি, সিইপিজেডে চারটি, কেইপিজেডে দুটি, কাটগড়ে দুটি, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দুটি র‌্যাম্প থাকবে। র‌্যাম্পগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হবে ১২ কিলোমিটার। প্রতিটি র‌্যাম্প হবে দুই লেনের ও একমুখী। চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের প্রশস্থতা হবে ৫৪ ফুট।

NO COMMENTS

Leave a Reply