Home মূল কাগজ করোনাভাইরাস-ভীতি : তিন ধাপে প্রস্তুতি সরকারের

করোনাভাইরাস-ভীতি : তিন ধাপে প্রস্তুতি সরকারের

0 337

কারিকা প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাস তথা কভিড-১৯ রোগে কাঁপছে বিশ্ব। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আগেও দেখেছে মানুষ। এইচআইভি ভাইরাস মোকাবিলা করেই বেঁচে থাকার পথ খুঁজছে মানবজাতি। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে আতঙ্কিত সবাই। একের পর এক দেশে কভিড-১৯ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সতর্ক বাংলাদেশ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস এখনও বাংলাদেশে না ঢুকলেও তা প্রতিরোধে তিন ধাপের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের সমন্বয়ে তিন ধাপে প্রস্তুতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহসহ স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দরসমূহে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশে এবার অনেক আগে থেকেই করোনাভাইরাসের পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছিলাম আমরা। যদি রোগী পাওয়া যায় তখন কী করা হবে-সেসব প্রস্তুতির খসড়া আমরা তৈরি করেছি। সেটা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
তিন ধাপে পরিকল্পনার বিষয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, একটা হচ্ছে অ্যালার্ট লেভেল, যখন কোনো রোগী নেই-এখন সেই কর্মসূচি আমরা পালন করছি। যখন বিদেশ থেকে আসা কোনো রোগী পাওয়া যাবে, অল্প সংখ্যায়-সেটা আরেকটা লেভেল। আর শেষ লেভেলটা হলো-যদি অনেক রোগী হয়ে যায়।
তবে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না বলে আশা করলেও প্রতিরোধের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
ডা. ফ্লোরা বলেন, সম্মিলিতভাবে আমরা যে কার্যক্রম নিচ্ছি, তাতে আশঙ্কা করি না যে এ রোগটা দ্রæত ছড়িয়ে পড়বে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার উপকরণের কোনো সমস্যা নেই। কিট পাইপলাইনে আছে, কিট আসতেই থাকবে। চীন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আসছে। আমরা নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে তো কাউকে ফিরিয়ে দিইনি এখনও। আর যদি ১০০ বা ২০০ জন আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে ধরে নিতে হবে যে, করোনাভাইরাসের রোগী তারা। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে।
চিকিৎসার বিষয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, করোনার তো কোনো আলাদা চিকিৎসা নেই। কমন কোল্ডের চিকিৎসা দিতে হবে এবং যেহেতু রোগটা ছোঁয়াচে তাই তাদের আইসোলেশনে রাখতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ ভাগের বেশি মৃদু, ১৪ শতাংশের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়েছে এবং ৬ শতাংশ জটিল অবস্থা নিয়ে আইসিইউ সাপোর্টে চিকিৎসায় রয়েছে।

করোনাভাইরাস পৌঁছেছে ৭০ দেশে
বছরের শুরুতে চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর তা ইতোমধ্যে প্রায় ৭০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। আফগানিস্তান, ওমান, বাহরাইন ও ইরাকেও সংক্রমণ ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
তিনি বলেন, চীনের বাইরে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেসব দেশে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যে দেশগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি এবং সুস্থ রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, সেসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং ভ্রমণ শেষে স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

NO COMMENTS

Leave a Reply