Home মূল কাগজ নগরোদ্যান কার-ফ্রি সড়ক নিয়ে ভাবছে উত্তর সিটি করপোরেশন

কার-ফ্রি সড়ক নিয়ে ভাবছে উত্তর সিটি করপোরেশন

রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধের উদ্যোগ

কারিকা প্রতিবেদক
জুনের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বৈঠকে ‘ঢাকা মহানগরীর অবৈধ যানবাহন দূর/বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে’ একটি কমিটি গঠন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সে অনুযায়ী গত ৭ জুলাই থেকে তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেন কমিটির আহবায়ক ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। মেয়রের নির্দেশের পর গাবতলী থেকে আজিমপুর অর্থাৎ মিরপুর রোড ও সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং প্রগতি সরণির কুড়িল থেকে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে ৮ ও ৯ জুলাই কয়েক হাজার রিকশাচালক ও মালিক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কুড়িল, বাড্ডা, রামপুরা ও মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরির নির্দেশ দিলে অবরোধ তুলে নেন তারা। এর আগে রিকশা-শ্রমিকদের অবরোধ চলাকালীন ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন নগর ভবনে তাদের চায়ের দাওয়াত দিলেও কাঙ্খিত সাড়া মেলেনি।
রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্কে সরগরম হয়ে উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক। রাজধানীর যানজট কমাতে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত কতটুকু কাজে আসবে-এ নিয়ে সংশয় আছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মনে। যাত্রী-রিকশাচালক উভয়ের জন্য বিকল্প যাতায়াত ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে রিকশা বন্ধের আহবান জানান বেশিরভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারী।
দ্রুতগামী সড়কে রিকশার মতো অযান্ত্রিক যান যে যানবাহনের গতি কমিয়ে দেয়, সে বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। তবে রিকশা বন্ধের আগে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করার আহবান জানান ভুক্তভোগীরা।
এদিকে স্বল্প দূরত্বের পথ পায়ে হেঁটে চলতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেছেন, ‘এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।’ রাজধানী ঢাকার তিনটি সড়কে রিকশা বন্ধের প্রসঙ্গে সাঈদ খোকন বলেন, ‘যানজটের অন্যতম একটি কারণ রিকশা। পৃথিবীর কোনো শহরে এত রিকশা নেই। আপাতত দুটি সড়কে রিকশা বন্ধ করা হয়েছে। রিকশা যেভাবে চালানো হয়-এটা অমানবিক। দু-তিনজন রিকশায় ওঠে আর সেটা চালিয়ে নিয়ে যান একজন চালক। এভাবে চলতে পারে না। রিকশা-চালকরা অন্য কাজ করতে পারেন।’
মেয়র বলেন, ‘আমরা রিকশায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। মাত্র ৫০০ গজ দূরত্বের জন্য রিকশায় বসে পড়ি। রাইড শেয়ারিং পরিবহন চলছে। উবার চলছে, পাঠাও চলছে। ধীরে ধীরে রিকশাটাকে ছেড়ে দিতে পারি। এজন্য আমরা সার্কুলার বাস চালু করছি।’
রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তে নাগরিক এবং যাত্রীদের সাময়িক কিছু অসুবিধা হতে পারে বলে স্বীকার করেছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। ৬ জুলাই নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আতিক বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী সুবিধার জন্য সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে হবে। হয়তো কারও কিছু অসুবিধা হবে। বড় কিছু পেতে গেলে আমাদের অবশ্যই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতেই হবে।’

কার-ফ্রি সড়ক নিয়ে ভাবছে উত্তর সিটি করপোরেশন
ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকার নির্দিষ্ট কিছু স্থানে যানবাহন-ফ্রি তথা যানবাহনমুক্ত সড়ক নিয়ে ভাবছে ডিএনসিসি। কার-ফ্রি সেসব সড়ক উন্মুক্ত থাকবে শিশু-কিশোরদের জন্য। শিশুদের শারীরিক ও মেধাবিকাশের প্রয়োজনে খেলাধুলার পরিবেশ দিতে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের। গত ২ জুলাই রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি কার্যালয়ে এক কর্মশালায় উদ্যোগের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেন নগর-পরিকল্পনাবিদ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও নগর-পরিকল্পনা নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ডিএনসিসির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা এ কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ-সময় নগর-বিশেষজ্ঞরা জানান, পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মাসের প্রথম শুক্রবার কার-ফ্রি ডে হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এভাবে রাজধানীর অন্য এলাকায়ও সপ্তাহের বা মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কার-ফ্রি ডের আয়োজন করা যেতে পারে।
নগর-পরিকল্পনাবিদরা বলেন, শহরে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ বা অন্য স্থানের অনেক অভাব। যেগুলো আছে, বেশিরভাগই আবার সংস্কারের অভাবে খেলাধুলার অযোগ্য। যানবাহনের ভয়ে শিশুরা বাসার নিচের সড়কেও হাঁটাচলা করতে পারে না। এমন সমস্যার সমাধানে কার-ফ্রি ডে দারুণ এক সমাধান হতে পারে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।
কর্মশালায় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে। তবে নগরবাসীকেও সুনাগরিক হতে হবে। একজন সুনাগরিক যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলতে পারেন না; একজন সুনাগরিক ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হবেন; ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন। শিশুদের বিকাশে তাদের খেলাধুলার সুযোগ দিতে হবে। তারা তাদের মতো অবাধ বিচরণ করবে-কোনো ধরনের ভয় ছাড়া। তাদের সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার।’

NO COMMENTS

Leave a Reply