Home মূল কাগজ কেমন বদলাল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা

কেমন বদলাল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা

0 117

সোহরাব আলম


রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত দেশের প্রথম আন্তর্জাতিকমানের পাঁচতারকা হোটেল ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ ৩৫ বছর পর পুনরায় চালু হলো আগের নামে। মাঝে এটি ‘ঢাকা শেরাটন হোটেল’ ও ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দীর্ঘ প্রায় চার বছরের সংস্কারকাজ শেষে ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ গত ১৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের ডিজাইন করা ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম চালায়। এরপর স্টারউড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘ঢাকা শেরাটন হোটেল’ নামে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হোটেল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি চালিয়েছে। পরে ২০১৩ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপের (আইএইচজি) সঙ্গে বিএসএলের চুক্তি সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সংস্কারের জন্য হোটেলটি বন্ধ রাখা হয়। নতুন সাজে এবং পূর্বনামে উদ্বোধনের পর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবে হোটেলটি।

আইএইচজি বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশে তাদের হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ গ্রুপের টপ ব্র্যান্ড হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। বর্তমানে ৬০টি দেশে এই ব্র্যান্ডের ১৮০টি হোটেল পরিচালিত হচ্ছে। আইএইচজির অন্য ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রাউন প্লাজা, হলিডে ইন, হলিডে ইন এক্সপ্রেস, ক্যান্ডেলউড সুইট, হোটেল ইনডিগো, কিম্পটন হোটেল প্রভৃতি। সব মিলিয়ে এই গ্রুপের ছয় হাজার হোটেল রয়েছে সারা বিশ্বে।
নতুন সাজে ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’র সেবার মান আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী হয়েছে জানিয়ে হোটেলটির মার্কেটিং ও বিজনেস প্রমোশন ডিরেক্টর সহিদুস সাদেক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইএইচজির চেইন ব্র্যান্ড হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। এই ব্র্যান্ডটির নির্দিষ্ট একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। বিশ্বের সর্বত্রই ওই স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে। তাই আইএইচজির চাহিদা অনুযায়ী ব্র্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখেই আমাদের এই হোটেলটি সাজানো হয়েছে।’

সহিদুস সাদেক আরও জানান, পুরনো ভবনের বাইরের কাঠামো ঠিক রেখে ভেতরের সবকিছু ঢেলে সাজানো হয়েছে। আগের নকশা অনুযায়ী রুমগুলো ছিল ২৬ বর্গমিটারের। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বের পাঁচতারকা হোটেলগুলোর রুম হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ বর্গমিটার পরিসরের। আগের রুমগুলো ভেঙে ৪০ থেকে ৪২ বর্গমিটারের করা হয়েছে। এজন্য কমেছে হোটেলে রুমের সংখ্যা।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, আর ‘উইন্টার গার্ডেন’ নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল আরেকদিকে। এখন দুটোকেই আনা হয়েছে একসঙ্গে। উইন্টার গার্ডেনের নাম পাল্টে রাখা হয়েছে ‘রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুম’। সুইমিংপুলটি স্থানান্তর করে সাজানো হয়েছে নতুন করে। প্রকৃতির ছোঁয়া দেয়ার জন্য এটাকে নেয়া হয়েছে তিনতলায়, যেখান থেকে রমনা পার্কের প্রাকৃতিক দৃশ্য নজরে আসবে। জিমনেশিয়ামকে করা হয়েছে যুগোপযোগী। নতুন করে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক স্পা সেন্টার। বিশ্বের সেরা স্পা প্রতিষ্ঠান এটি পরিচালনা করবে। অডিও-ভিজ্যুয়াল লাইটিং সুবিধাসহ পাবলিক এরিয়া, ব্যাংকুয়েট হল ও মিটিং রুমের ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া রন্ধনশালা ও লন্ড্রির সরঞ্জামাদি প্রতিস্থাপনসহ সংস্কার এবং মেকানিক্যাল-ইলেকট্রিক্যাল-প্লাম্বিং সিস্টেমের আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। কার পার্কিংয়ে স্বয়ংক্রিয় কিছু ব্যবস্থা যুক্ত করে সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার ফুড সার্ভিসে খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি সেটাকে স্বাস্থ্যকর করার জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। উপমহাদেশের খাবারের মধ্যে সুপরিচিত জনপ্রিয় সব ধরনের খাবারই এখানে পরিবেশন করা হচ্ছে। বিশেষভাবে স্টেক হাউজ ও সি-ফুড বার রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের পেস্ট্রি ও কফিশপ। পাল্টানো হয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার প্রবেশপথের স্থাপত্য। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে অভ্যর্থনাকক্ষের কারুকাজ করা হয়েছে। দেশীয় ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ডিজাইন করা নতুন আসবাবপত্র প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পাঁচতারকা হোটেলের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ইন্টারকন্টিনেন্টালের সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন রুমগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিলাক্স, ডিলাক্স টুইন, সুপার ডিলাক্স, লাক্সারি ডিলাক্স, এক্সিকিউটিভ স্যুইট, কিং স্যুইট, প্রিমিয়ার স্যুইট, বাঙালি স্যুইট প্রভৃতি। এসব রুম এবং স্যুইটগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে যুক্ত করা হয়েছে সিটি ভিউ সুবিধা।
হোটেলের অভ্যন্তরীণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে মিনি বার, বার, লন্ড্রি, রেস্টুরেন্ট, হলরুম, বলরুম, কনফারেন্স রুম, ইনডোর গেমস, সুইমিংপুল, পার্লার, সেলুন, ব্যায়ামাগার এবং স্টিম বাথ, রুম সার্ভিস, স্যুভেনির শপ, শপিং কর্নার, এটিএম বুথ, ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ, গিফট শপ, কার রেন্টাল, ফ্যাক্স, কপিয়ার, স্কোয়াশ কোর্ট, টেনিস কোর্ট, ২৪ ঘণ্টা রিসেপশন, হুইয়ারপুল, চিকিৎসাকেন্দ্র, বাণিজ্যিক অফিস, এয়ারপোর্ট ট্রিপ, নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা।
বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের (বিএসএল) সঙ্গে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপের চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ বছর এটি ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ নামেই পরিচালিত হবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply