Home বাজার দর অন্যান্য কোরবানীর বর্জ্য পরিষ্কারে করণীয়

কোরবানীর বর্জ্য পরিষ্কারে করণীয়

রাজধানীতে ২৬ স্থানে কোরবানির পশুর হাট

সোহরাব আলম
কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে রাজধানীতে স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী ছাড়াও বেশকিছু অস্থায়ী হাট বসে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ২৬টি স্থানে এবার অস্থায়ী পশুর হাট বসবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় ১৪টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসবে ১২টি হাট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ১৪টি স্থানে হাট বসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারটেক মাঠসংলগ্ন আশপাশ এলাকার খালি জায়গা, আশুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, দাওকান্দি ইন্দুলিয়া ভাগাপুরনগর (আফতাবনগর ইস্টার্ন হাউজিং মেরাদিয়া মৌজার সেকশন-১ ও ২) লোহারপুলের পূর্ব অংশ এবং খোলা মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের এলাকার খালি জায়গা; মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠসংলগ্ন আশপাশের এলাকার খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, কামরাঙ্গীরচর চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠসহ আশপাশের খালি জায়গা, লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা এবং শনির আখড়া-দনিয়া মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় যে ১২টি স্থানে হাট বসবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কাওলা-শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের উত্তরার স্লুইসগেট থেকে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ফাঁকা জায়গা, মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশের সেতু প্রপার্টিসংলগ্ন খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠ, উত্তরখান ময়নারটেক শহিদনগর হাউজিংয়ের খালি জায়গা, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই সেকশন-৩-এর খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ ওয়ার্ড-৬-এর (ইস্টার্ন হাউজিং) খালি জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম অংশ এবং ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফাঁকা জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বসিলা) পুলিশ লাইনের খালি জায়গা এবং খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন উভয় পাশের বসুন্ধরা হাউজিংয়ের খালি জায়গা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সদ্যবিদায়ী প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান কারিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, কোরবানির পশুর হাট ইজারার চূড়ান্ত কার্যাদেশ জারির পর দরপত্র অনুযায়ী প্রাপ্যদের ইজারা দিয়ে দেয়া হয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে করণীয়
ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখতে প্রতি বছরই আহবান জানিয়ে থাকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব আছে। পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য যদি খোলা জায়গায় পড়ে থাকে, তবে তা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পশুর রক্ত, ঘাস, লতাপাতা, নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকলে তার জীবাণু বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া এই জীবাণু মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে পারে। তাই পশু জবাই ও মাংস বানানোর কাজ শেষ হলে বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য নিজ নিজ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অথবা সিটি করপোরেশনের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। তারা বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা করবে।
কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পৌঁছাতে দেরি হলে নিজ দায়িত্বেও কিছু কাজ করা যেতে পারে। এজন্য কোরবানির পশু জবাইয়ের গর্তটি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। গর্তের মধ্যে কিছু চুন বা ব্লিচিং পাউডার অথবা জীবাণুনাশক পদার্থ দেওয়া যেতে পারে। আশপাশে কোনো বর্জ্য থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া জবাইকৃত পশুর রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির পশুর দেহ থেকে নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট (অর্ধহজমযুক্ত খাদ্য/গোঘাষি) বের করে যত্রতত্র না ফেলে যথাযথ স্থানে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে পশু জবাই করার স্থানটি গরম বা ঠান্ডা পানি ঢেলে পরিষ্কার করার পর ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে দুর্গন্ধ ছড়াবে না এবং স্থানটি জীবাণুমুক্ত হবে। বর্জ্য পরিষ্কারের পর নিজের হাত-পা ও সারা শরীর ভালোভাবে জীবাণুনাশক সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply