Home বাজার দর ইন্টেরিয়ার ঘর সাজাতে জাহাজের আসবাব

ঘর সাজাতে জাহাজের আসবাব

0 5521

নতুন সংসার পাততে হলে খাট, আলমিরা, আলনা, চেয়ার টেবিল তো লাগবেই। সাধ আর সাধ্যের মিল ঘটাতে হিমশিম খেতে থাকা দম্পতিদের জন্য আছে জাহাজের ফার্নিচারের খবর। চট্টগ্রাম নগরের কর্নেলহাট, ফৌজদারহাট এলাকায় পাওয়া যায় শিপের ফার্নিচার নামে পরিচিত এসব আসবাবপত্র। ইদানিংকালে ঘরে ব্যবহার্য আসবাব হিসেবে এসব ফার্নিচারের কদরও বেড়েছে। কাঠের আসবাবের তুলনায় দাম অনেকটা সহনীয় হওয়ায় মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে এসব আসবাবপত্র দেখা যায় সচরাচর। টেকসই এবং তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় জাহাজের পুরনো আসবাবপত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চট্টগ্রামের কর্নেলহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত কয়েকটি দোকান ঘুরলে দেখা যাবে টেবিল, সোফা, ওয়ারড্রোব, শোকেস, ডাইনিং টেবিল, কম্পিউটার টেবিল, আলমারি, ফাইল কেবিনেট, চেস্ট অব ড্রয়ার, সেক্রেটারি টেবিল, টি-টেবিল, টিভি ট্রলি ইত্যাদি। খাটের মধ্যে আছে বিট খাট, রাউন্ড খাট, মিনার খাট, চাল খাট, ফিটিং খাট ইত্যাদি। কোট-হ্যাঙ্গারসহ আছে ওয়ারড্রোব ও শোকেস। আলমারি আছে সিঙ্গেল ও ডাবল।
ওইসব দোকানে থাকা লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩০ বছর আগে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছিল পুরনো জাহাজ ভাঙা ব্যবসা। সেই সঙ্গে ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারি, মাদাম বিবিরহাট এলাকায় গড়ে ওঠে জাহাজের আসবাবপত্র বিক্রির ব্যবসাও। জাহাজে ব্যবহৃত আসবাবপত্র বিক্রি হয় এখানে। ধীরে ধীরে এ ব্যবসা প্রসার লাভ করেছে চট্টগ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে।
রকমফেরে আসবাবের দাম ভিন্ন। খাটের দাম পড়বে তিন হাজার ৫০০ থেকে বার হাজার টাকা, ড্রেসিং টেবিলের দাম পড়বে আড়াই হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা, সোফা সাত থেকে ১৩ হাজার টাকা। ওয়ারড্রোব কেনা যাবে আটত্রিশ শ’ থেকে ৯ হাজার টাকায়, শোকেস দুই হাজার ৮০০ থেকে ১০ হাজার টাকায়, ডাইনিং টেবিল তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় এবং কম্পিউটার টেবিল পাওয়া যাবে দুই হাজার ২০০ থেকে চার হাজার টাকায়। আলমারির দাম তিন থেকে ৯ হাজার টাকা, ফাইল কেবিনেট চার থেকে আট হাজার টাকা, চেস্ট অব ড্রয়ার দুই থেকে তিন হাজার টাকা, সেক্রেটারিয়েট টেবিলের দাম পড়বে দুই হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা, টি-টেবিল কেনা যাবে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায় আর টিভি ট্রলি এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। কামাল। বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই। ভাটিয়ারিতে শিপের ফার্নিচার আনা নেয়ার কাজ করছেন তিনি বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তিনি বললেন, চট্টগ্রামের নানা জায়গায় এবং দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতেও এ আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। এ ছাড়া কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, ঢাকা, সিলেট, যশোর, বগুড়া, দিনাজপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা শহরে এ আসবাবপত্র যায়। ক্রেতা প্রয়োজনীয় আসবাব পছন্দ করে দরদাম আর গাড়িভাড়া পেমেন্ট করে গেলেই ঠিকানা মতো ফার্নিচার পৌঁছে যায়।

NO COMMENTS

Leave a Reply