Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার ঘর সাজুক পর্দায়

ঘর সাজুক পর্দায়

কামরুজ্জামান কাজল
শীতের আমেজ শেষ হলো। বসন্তের রঙে সাজবে ঘর। কোকিলের কুহু-কুহু আর লিলুয়া বাতাসে মেতে উঠবে মন। মেতে ওঠা মনের সঙ্গে এবার না-হয় মেতে উঠুক ঘরের সাজসজ্জাও। বসন্তের বাতাসে হু-হু করে দোলা দিয়ে উঠুক ঘরের পর্দাগুলো। এই নরম আবহাওয়ায় বৈচিত্র্যময় পর্দায় সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার প্রিয় নিবাস। সেটা কীভাবে? পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।
তিনি জানান, বসার ঘর থেকে শুরু করে খাবার ঘর, ঘরে রাখা আসবাবের আকৃতি, দেয়ালের রঙ ও আসবাবের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পর্দা বাছাই করা ভালো। অন্যদিকে আবহাওয়া বুঝে দুই সেট পর্দা বানিয়ে নিলে সুবিধা। মূলত গরম ও শীতকালের জন্য। গরমের জন্য বাছাই করুন হালকা রঙের পাতলা পর্দা, এতে বাতাস চলাচল সহজ হবে, গরমে পাবেন স্বস্তি। আর শীতে পর্দা অপেক্ষাকৃত মোটা বা ভারী কাপড়ের ও গাঢ় রঙের হওয়া উচিত। এ সময় ধুলাবালি বেশি হয়, তাই পর্দা ময়লা হলেও বোঝা যাবে না আর রুমে ঠান্ডাও লাগবে কম।

বসার ঘরে পর্দা
অতিথি আপ্যায়নে বসার ঘরটাই মুখ্য। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে টিভি দেখা কিংবা অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটানো হয় বসার ঘরেই। তাই বসার ঘরের পর্দায় মনোযোগী হতে হবে একটু বেশি।
এই ঘরে ব্যবহার করতে পারেন সিল্ক, সার্টিন, জর্জেট, ভেলভেট কিংবা কাতান কাপড়ের পর্দা। বসার ঘরের পর্দা মেঝে পর্যন্ত বড় হলে দেখতে সুন্দর লাগে। খাটো পর্দা ঘরের সঙ্গে মানায় না। তাই বসার ঘরে খাটো পর্দা না রাখাই ভালো। আর রঙ বাছাইয়ের চিন্তা যদি করতে হয়, তবে নির্বাচন করতে পারেন হালকা সবুজ, চকোলেট, নীল, গোলাপি কিংবা বাদামি রঙ। ইচ্ছে হলে একরঙা কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা চেক কাপড়েও ভালো মানাবে।

শোয়ার ঘর
ক্লান্ত শরীরে নিজেকে বিশ্রাম দিতে শোয়ার ঘরের ইন্টেরিয়রেও মনোযোগ দিতে হবে। শোয়ার ঘরের ক্ষেত্রে ভারী পর্দায় প্রাধান্য দিতে পারেন। কাপড় বাছাইয়ে মোটা কাপড় বাছাই করতে হবে। রঙ পছন্দের ক্ষেত্রে অফ হোয়াইট, গোলাপি বা হালকা সবুজকে প্রাধান্য দিতে পারেন।

সাজবে শিশুর ঘর
শিশুদের রঙিন দুনিয়া। সেটা তাদের কল্পনাতেও। আর বাস্তবে বাবা-মায়েরাও চান শিশুর ঘরটাকে সুন্দর করে রাঙিয়ে দিতে। সেই রাঙানোর ক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে হবে রঙিন পর্দার দিকে। ছেলে-বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নীল আর মেয়েদের ক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন গোলাপি। তবে আপনার শিশুর পছন্দের দিকে আগে নজর দিন। নানা কার্টুন চরিত্র দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন তার ঘরটি।

পর্দা শুধু ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে নয়, এটি বহন করে আপনার রুচি ও ব্যক্তিত্ব। তাই বাসার সুবিধার্থে দুই সেট পর্দা রাখতে পারেন। একসেট সবসময় ব্যবহার করবেন। আরেক সেট রেখে দিতে পারেন অতিথিদের জন্য কিংবা বাড়িতে কোনো উৎসবের জন্য।
প্রতিদিন বা একদিন পরপর ভেজা কাপড়ে গ্রিল ও শুকনো কাপড়ে ফার্নিচার মুছে নিলে পর্দা কম ময়লা হয়।
যারা দেশি আমেজে ঘর সাজাতে চান, তারাও পর্দার দিকে মনোযোগী হতে পারেন। তাদের জন্য ভালো সমাধান হচ্ছে চেক, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক ও নকশিকাঁথার পর্দা বেছে নেয়া। কারণ এ ধরনের পর্দায় ষোলআনা বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
আপনার যে কক্ষে বেশি আলো-বাতাস খেলা করে সেই ঘরে দরজা-জানালায় হালকা রঙের নেটের পর্দা ভালো লাগবে। শুধু তা-ই নয়, ধুলাবালিতে নোংরা হলেও সমস্যা নেই, কারণ নেটের পর্দা ধুয়ে ফেলা সহজ।

NO COMMENTS

Leave a Reply