Home চট্টগ্রাম ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চট্টগ্রামের আবাসন খাত

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চট্টগ্রামের আবাসন খাত

আবদুল্লাহ আল মামুন
মন্দা কাটিয়ে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে আবাসন খাতে। কয়েক বছর ধরে অবিক্রীত থাকা ফ্ল্যাটের বিক্রিও বেড়েছে। গত বছর থেকে ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমে আসায় ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হয়েছিল ক্রেতারা। কিন্তু গৃহ ঋণে ব্যাংক সুদের হার আবারও বেড়ে যাওয়ায় এখন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে ফ্ল্যাট-প্লট বিকিকিনি। তবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে বাজার পরিস্থিতি। ফলে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরাও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আছেন। এ জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ মেয়াদে ও এক অংকের সুদে গৃহ ঋণ, ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ কমানো ও বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চান আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা। প্রতিবারের মতো এবারও নগরের তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চারদিনব্যাপী আবাসন মেলা। এবারের মেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের সাত হাজার ফ্ল্যাট ও দেড় হাজার প্লট নিয়ে মেলায় হাজির হয়েছিল ৩৬টি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান রেডি ফ্ল্যাট হাজির করবে ক্রেতাদের সামনে। এছাড়া এবার পাঁচশ কোটি টাকার বিকিকিনিরও টার্গেট নির্ধারণ করেছে রিহ্যাব।
রিহ্যাব চট্টগ্রাম সুত্র জানায়, মেলায় এবার ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭৬টি স্টল ছিল। এরমধ্যে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৬টি, ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ১১টি ও নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান থাকবে ৯টি। এছাড়া ১৭টি প্রতিষ্ঠান কো-স্পন্সর হিসেবে মেলায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রিহ্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘এবারের মেলাকে আমরা বিগত মেলাগুলোর চেয়ে আরও অধিক জাঁকজমকভাবে আয়োজন করেছি। মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা বাসস্থান নিশ্চিত করাই রিহ্যাবের মূল লক্ষ্য। মেলার মাধ্যমে রিহ্যাব গ্রাহকদের একই ছাদের নিচে তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের ফ্ল্যাট ও প্লট বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে আবাসন খাত আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা গেলে আবাসন খাত আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠবে। তবে ফ্ল্যাট বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। মানুষের মধ্যে এখনো আস্থার সংকট রয়েছে। আমরা আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’
আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা জানান, ২০১২ সাল থেকে আবাসন ব্যবসার মন্দার শুরু হয়। ২০১৪ সালের হিসাবে, চট্টগ্রামে রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ১০ হাজার ফ্ল্যাটের মধ্যে অবিক্রিত পড়েছিল প্রায় পাঁচহাজার ফ্ল্যাট। সে সময় অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের হাতে ছিল এ বাজার। বিশেষ করে মন্দা শুরু হওয়ার পর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের প্লট বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে সটকে পড়েন। মন্দার কারণে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ আটকে যায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদেরও। তখন থেকে আবাসন খাতে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা কমে আসে। চলমান প্রকল্পগুলোয় গ্রাহকের সাড়া কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শেষ করার সময় পিছিয়ে দেন উদ্যোক্তারা। এসবের ফলে গ্রাহকদের আস্থায় ভাটা পড়ে। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও ছিল এ অবস্থা। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যবসায়ীরা গত কয়েক বছরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ঝুঁকে পড়েন। তবে মন্দার ধাক্কায় যেসব প্রতিষ্ঠান বাজারে টিকে ছিল, তারাই এখন গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখেছে। কয়েক বছরের মন্দার পর ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে আবাসন খাতে। গত তিন বছরে কয়েক হাজার অবিক্রিত ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। ফ্ল্যাটের দামও যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। নতুন বিনিয়োগের জন্য এখন জমি খুঁজছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। অবিক্রিত ফ্ল্যাটের বিক্রি বাড়ায় খুশি তারা। তবে ফ্ল্যাট বিক্রির চেয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও আস্থা অর্জনে জোর দিচ্ছে মেলায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ আবাসন প্রতিষ্ঠান।
অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৭ শতাংশ সুদের হার এখন ৯ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে। মেলায় বিভিন্ন হারে গৃহ ঋণের অফার নিয়ে ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মেলায় স্পট ঋণ অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। চাকরিজীবীদের আয়, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক টার্নওভার, ভূমি মালিকদের জায়গার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ দিবে বিভিন্ন ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান।

NO COMMENTS

Leave a Reply