Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ২৪২৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ২৪২৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

আবদুল্লাহ আল মামুন


উন্নয়ন অনুদান ও গৃহকর আদায়কে আয়ের মূল খাত দেখিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মোট ২৪২৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১০ জুলাই নগরের আন্দরকিল্লায় নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এবারের বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে আলাদা করে কোনো বরাদ্দ রাখা না হলেও এ-সংশ্লিষ্ট দুটি খাতে মোট ৩শ’ কোটি টাকা উন্নয়ন অনুদান প্রাপ্তি ও ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেটের পাশাপাশি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৮৮৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। ওই অর্থবছরে মোট ২৩২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা গত বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। বাস্তবায়ন না হলেও ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বেশি রেখে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে তিন ধরনের কর বাবদ মোট আয় ধরা হয়েছে ৪৬৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এর মধ্যে বকেয়া কর ও অভিকর খাতে সর্বোচ্চ ১৯১ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা আয় ধরা হয়েছে। হাল কর ও অভি কর খাতে ১৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪১ হাজার এবং অন্যান্য কর বাবদ ১৩৩ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) তিন ধরনের করে মোট আয় ধরা হয়েছিল ৮০৭ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুসারে ওই তিন ধরনের আয়কর বাবদ চসিকের আয় হয়েছে ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ৩০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল হাল কর ও অভি কর খাতে ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে মাত্র ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন অনুদান খাতে ১৬৮০ কোটি টাকা আয় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে ৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা আয় ধরা হয়। ঘোষিত বাজেটে নগরের উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ১৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরের (২০১৭-১৮) বাজেটে উন্নয়ন খাতে ১২২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হলেও খরচ হয়েছিল ৪৫০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এবারের বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে বেতন, ভাতা ও পারিশ্রমিক খাতে ২৭২ কোটি ৬৮ টাকা।
উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ প্রাপ্তির বিষয়ে সিটি মেয়র বলেন, ‘উন্নয়ন অনুদানে ১৬৮০ কোটি টাকা আয় ধরা হয়েছে। এটা অস্বাভাবিক নয়, স্বাভাবিক। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুধু একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। কয়েকটি প্রকল্প অর্থছাড়ের অপেক্ষায় আছে। এটা নির্বাচনী বছর। অর্থছাড় বৃদ্ধি পাবে। গতবারের তুলনায় এবার অনেক বেশি পাব। টাকা প্রাপ্তির গতি এখন বেশি। এর বাইরে সিটি গভর্নমেন্ট প্রকল্প এবং জাইকার প্রকল্প থেকেও টাকা পাব। কাজেই বাস্তবধর্মী এ বাজেট নগরবাসীর সহায়তায় বাস্তবায়ন সম্ভব।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে নেই কোনো বরাদ্দ
এবারের বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে আলাদা করে কোনো বরাদ্দ রাখা না হলেও এ-সংশ্লিষ্ট দুটি খাতে মোট ৩শ’ কোটি টাকা উন্নয়ন অনুদান প্রাপ্তি ও ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।
এর মধ্যে নগরীতে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন, নালার প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিজ ও কালভার্টের নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে আড়াইশ’ কোটি টাকা এবং বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সিডিএ ইতোমধ্যে মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। যেহেতু মেগা প্রকল্প, তাই প্রতিটি খালের মাটি উত্তোলন সিডিএ’র কাজ। সিসিসি’র সেই সুযোগ নেই। তারপরও নগরবাসীর ভোগান্তির কথা বিবেচনায় রেখে আবর্জনা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছি।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে বাজেট বিবরণী উপস্থাপন করেন অর্থ ও সংস্থাপনবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শফিউল আলম। উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের সচিব আবুল হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।

NO COMMENTS

Leave a Reply