Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেট

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেট

• সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পাচ্ছে না চসিক
• হচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত নগর উন্নয়ন

আবদুল্লাহ আল মামুন


প্রতি বছর বাড়ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেটের আকার। অর্থবছরজুড়ে ঘোষিত বাজেটের একাংশ বাস্তবায়নেও হিমশিম খেতে হয় তাদের। প্রতি বছর কমছে বাজেট বাস্তবায়নের হারও। এক যুগে বাজেট বাস্তবায়নের ব্যবধান বেড়েছে ২৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এক যুগ আগেও যা ছিল ৬৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। বাজেটের অর্ধেক বাস্তবায়ন করতে না পারলেও চলতি অর্থবছরে আরো ৯৮ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রেখে বাজেট ঘোষণা করেছে সিটি করপোরেশন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ হাজার ৪২৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
গত এক যুগে ঘোষিত বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বকেয়া ও হাল কর আদায় করতে না পারা, প্রত্যাশিত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে। ফলে নগর উন্নয়নে আসছে না কাঙ্ক্ষিত সফলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটের আকার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সক্ষমতা ও সরকারের সহায়তাও বাড়াতে হবে। অন্যথায় এভাবে বাজেট বাস্তবায়ন কোনোভাবে সম্ভব হবে না।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় হয়নি ও সরকারের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অনুদান পাওয়া যায়নি। ফলে শতভাগ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা যোগাযোগ করেছি। আর ব্যক্তিগত খাতের বকেয়া কর আদায়ে আমি উদ্যোগ নিয়ে ফলও পেয়েছি। আশা করি কর আদায় বাড়বে।’
সরকারি উন্নয়ন অনুদান প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, ‘এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুধু একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। কয়েকটি প্রকল্প অর্থছাড়ের অপেক্ষায় আছে। এটা নির্বাচনী বছর। অর্থছাড় বৃদ্ধি পাবে। গতবারের তুলনায় এবার অনেক বেশি পাব। টাকা প্রাপ্তির গতি এখন বেশি। এর বাইরে সিটি গভর্নমেন্ট প্রকল্প এবং জাইকার প্রকল্প থেকেও টাকা পাব। কাজেই বাস্তবধর্মী এ বাজেট নগরবাসীর সহায়তায় বাস্তবায়ন সম্ভব।’

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৩২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল সিটি করপোরেশন। এ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট ছিল ৮৮৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৩৮৭ কোটি ৫৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন হয়েছে ২৫৪ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। গত এক যুগে বাজেট বাস্তবায়ন কমেছে ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রত্যাশিত কর আদায় না হওয়া ও সরকারের উন্নয়ন অনুদান না পাওয়ায় কমছে বাজেট বাস্তবায়নের হার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিন ধরনের করে মোট আয় ধরা হয়েছিল ৮০৭ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুসারে ওই তিন ধরনের কর বাবদ চসিক আয় করতে পেরেছে মাত্র ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল হাল কর ও অভি কর খাতে ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে মাত্র ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বকেয়া কর ও অভি কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮১ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অন্যান্য কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৬ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ১১০ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
গত অর্থবছরের বাজেটে নগর উন্নয়ন খাতে ১২৯০ কোটি টাকা সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে পেয়েছিল মাত্র ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারের কাছ থেকে থোক বরাদ্দ প্রত্যাশা ছিল ৩২৫ কোটি টাকা। বিপরীতে পেয়েছে মাত্র ৪৭ কোটি টাকা। বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের বিপরীতে ১৮০ কোটি টাকা সরকারের কাছ থেকে পাওয়ার প্রত্যাশা করলেও গত অর্থবছরে এ প্রকল্পে কোনো অর্থই ছাড় করেনি সরকার। গত মঙ্গলবারের ঘোষিত বাজেটে উন্নয়ন অনুদান খাতে ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
এ প্রসঙ্গে ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সিকান্দার খান বলেন, ‘সক্ষমতা না বাড়িয়ে বছর বছর বাজেটের আকার বাড়ালে কোনো সুফল মিলবে না। দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। সরকারি উন্নয়ন অনুদানও বাড়াতে হবে। তাহলে বাজেট শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’

NO COMMENTS

Leave a Reply