Home মূল কাগজ নগরোদ্যান চাই সবুজ আবাস

চাই সবুজ আবাস

0 1002

সকাল সকাল জেগে ওঠা, মৃদুমন্দ বাতাস, বিকেলের নরম রোদে ছাদ-বাগানে সময় কাটানো বা রাতে তারাভরা আকাশ দেখাÑ ঢাকা শহরের অনেক নাগরিকের জন্য স্বপ্নই বটে। ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব ফ্ল্যাটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ক্রেতারা। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফ্ল্যাট খুঁজছেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফুয়াদ আহমেদ। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ-পানির যে অবস্থা তাতে সব শ্রেণির ফ্ল্যাটে এর কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বাড়ির পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত করতেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও নকশার ক্ষেত্রে সেটব্যাকের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করেছে। সেটব্যাক মেনে ভবনের নকশা করলে সামনে-পেছনে জমির আয়তন অনুসারে জায়গা ছাড়তে হয়, ফলে ভবন নির্মাণের পর আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত উৎস রাখা সম্ভব হয়।

যেসব ভবনে দিনের আলোতেও বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়, সেখানে বিদ্যুৎ-খরচও বেশি হয়। বাড্ডা এলাকার লেকপাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট কিনেছে সুমি-রাসেল দম্পতি। তারা জানায়, ভবনের পরিবেশ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই তারা ফ্ল্যাট কিনেছেন।

সাধারণভাবে অনেক ক্ষেত্রেই মনে করা হয় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের ক্রেতারা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেন না। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আবাসনের ব্যাপারে গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বহুজাতিক প্রোপার্টি পোর্টাল লামুডি ডটকম পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রমবর্ধমান পরিবেশবান্ধব ও যুগোপযোগী আবাসন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত ছয় মাসে বাংলাদেশে লামুডির ওয়েবসাইটে পরিবেশবান্ধব ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক-ভবনগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪২০ শতাংশেরও অধিক। লামুডির গ্লোবাল কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল ফিলিপ হারম্যান বলেন, ‘আমাদের মাঝে অনেকেই মনে করেন উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ঘরবাড়ি খোঁজ করার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। নতুন এই গবেষণা-প্রতিবেদন আমাদের এই ধারণা ভুল প্রমাণিত করেছে। এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় পরিবেশমুখী সবুজ আবাসন দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রমাণ করে এই দুই অঞ্চলের দেশগুলোর ক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশ-বিষয়ক সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার যে, দ্রুত উন্নয়নশীল এই দেশগুলোতে খুব শিগগিরই সবুজ আবাসনের জোগান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।’

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোও পরিবেশবান্ধব আবাসনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারিভাবে সব ভবনের আলোর শতকরা ৩ শতাংশ বিকল্প উৎস হিসেবে সোলার থেকে ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিল্ডিং টেকনোলজিস অ্যান্ড আইডিয়াসের (বিটিআই) ম্যানেজার ও হেড অব মার্কেটিং মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমরা পরিবেশবান্ধব আবাসনের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। এ কারণেই নকশার সময় থেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আমাদের প্রতিটি প্রকল্পে সোলারের মাধ্যমে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা এবং রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং পদ্ধতি সংযুক্ত থাকে। তাছাড়া আলো-বাতাসের পরিপূর্ণ ব্যবস্থা রাখতে সেটব্যাক মেনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা ছেড়ে তবেই ভবন নির্মাণ করা হয়।’

প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করেই সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন সম্ভব। তাই প্রয়োজনের তাগিদে যত কংক্রিটের জঙ্গলই তৈরি হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব বিষয়টি নিশ্চিত না করা গেলে তা সুস্থ-সুন্দর জীবনের পরিপন্থী হয়ে উঠবেÑ এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

কারিকা প্রতিবেদক

NO COMMENTS

Leave a Reply