Home অন্তর্জাতিক চীনের অদ্ভুত যত স্থাপনা

চীনের অদ্ভুত যত স্থাপনা

বেইজিং অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে একজন চাইনিজ মানুষ তার স্বপ্নের মাউন্টেইন টপ ভিলা নির্মাণ করেছেন। ভিলা নির্মাণের ছয় বছর অতিবাহিত হয়েছে ইতোমধ্যে। অধ্যাপক ঝাং লিন খামখেয়ালির বশে বহুতল ভবনের ছাদে টুকরো টুকরো করে পাথর ও শিলা জড়ো করে নির্মাণ করেছিলেন মাউন্টেইন টপ ভিলা, যা দেখে মনে হতে পারে বহুতল ভবনের ওপরে পাহাড়ের উপরিভাগ গজিয়ে উঠেছে। ভবনের ছাদগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় এটি একটি রকি মাউন্টেইন গার্ডেন। লিনের স্বপ্ন পূরণ হলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। এ রকম বহুতল ভবন নিয়ে লিনের প্রতিবেশীরা বিচলিত ছিলেন। ভবনধসের আশঙ্কা ছিল তাদের মনে। শঙ্কাটি অবশ্য অমূলক ছিল না। প্রথমত, এই ধরনের ভিলা তৈরিতে লিন কোনো অনুমোদন নেননি। দ্বিতীয়ত, ভারী পাথরের টুকরো ও শিলা ছাদের ওপরে ওঠানোতে লিনের প্রতিবেশীদের বাড়ির সিলিং এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং পাইপ ও ড্রেনে লিকেজ দেখা যায়। তারা অনেকটা বাধ্য হয়ে ভবনের কাজ থেকে সৃষ্ট শব্দ, ফাটল, লিকেজ এবং ঝামেলার সঙ্গে বসবাস করতে লাগলেন।
ভবনটির একজন বাসিন্দা বললেন, প্রফেসর ঝাং লিন ছাদটি কিনেছিলেন চিলেকোঠা হিসেবে। কিন্তু তিনি পরে চিলেকোঠাটি ভেঙে ফেলেন এবং ছাদের ওপরে পাহাড়ের উপরিভাগ নির্মাণ করেন। ভারী পাথর ও শিলাখন্ড দিয়ে পাহাড়ের উপরিভাগ তৈরির কারণে পাইপ ফেটে আমাদের ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকছে এবং সিলিং ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
লিনের পাহাড়ের প্যান্টহাউসটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে নগর কর্তৃপক্ষ সেটা ভেঙে দিতে পারেন বা ভেঙে ফেলার জন্য আদেশ দিতে পারেন। একজন নগর-কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন, বহুতল ভবনের শীর্ষে পাহাড়ের উপরিভাগ নির্মাণের সময় লিন আমাদের কাছে আবেদন করেননি। ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে আমরা ভবনের ওপরে স্থাপিত পর্বতটি ভেঙে দিতে পারি। লিন যদি প্রমাণ করতে না পারেন যে ভবনের ওপরে পাহাড়ের উপরিভাগটি নিরাপদ, তবে খুব শিগগিরই আমরা এটি নামিয়ে ফেলব।
অদ্ভুত স্থাপত্য-নকশার জন্য চীন বিশ্বব্যাপী পরিচিত। হেজঝো, চেচিয়াং প্রদেশের তিয়ান্ডু চেনং শহর ইউরোপীয় স্টাইলের ভবন ও প্রশস্ত পথ দিয়ে সাজানো। সেই বহুতল ভবনগুলোর ওপরে পর্বত নির্মাণ করেছেন অধ্যাপক ঝাং লিন। ২০০৭ সালে স্থাপনাগুলো নির্মাণের সময় ১০৮ মিটার উঁচু আইফেল টাওয়ারের একটি প্রতিকৃতিও নির্মাণ করা হয়েছিল।
চেমস এলিসেস নামের একটি প্রধান স্কয়ারে লুক্সেমবার্গ গার্ডেনের ভেতরে একটি কৃত্রিম ঝরনার প্রতিকৃতি আছে।
হাউজিং এস্টেটটিতে গত বছর দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ৩৯টি প্যালদিয়ান মন্দির নির্মাণের জন্য ১০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেয়া হয়।
গত মাসে চীনের সাংহাইয়ের কাছাকাছি হুজহোর প্রদেশে একটি বিশাল দৈত্যাকৃতির হোটেল উন্মোচন করা হয়েছে।
২৭ তলাবিশিষ্ট শেরাটন হুজহো হট স্প্রিং রিসোর্ট। যাতে স্কাইলাইনের ওপর ৩২৩টি প্রশস্ত গেস্টরুম, ৪৪টি স্যুট এবং ৩৯টি ভিলা আছে। হোটেলটির প্রতিটি ফ্লোরের ছাদে স্কাইলাইন ফার্মিং করার পরিকল্পনা আছে হোটেল কর্তৃপক্ষের। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা চাল, ফল এবং সবজির চাষ করতে চায়।
চীনের প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চল সাংহাইতে ২০৭৩ ফুট উঁচু সবচেয়ে বৃহত্তম লম্বা ভবন সাংহাই টাওয়ারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও লম্বা বিচারে সাংহাই টাওয়ার পেছনে ফেলেছে দেশটির অন্য সব স্থাপনাকে। সবকিছু মিলিয়ে চীনকে অদ্ভুত স্থাপত্যের দেশ বলাই যায়।

কারিকা ডেস্ক

NO COMMENTS

Leave a Reply