Home মূল কাগজ আপন আবাস ছাদবাগানে শীতকালীন ফুল চাষ

ছাদবাগানে শীতকালীন ফুল চাষ

0 578

কারিকা ডেক্স


ফুলের চাহিদা সারা বছরই। তবে শীত-মৌসুমে বিয়েসহ নানা আয়োজন বেশি হয়ে থাকে বলে চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তাই চাইলে আপনার বাড়ির ছাদেই চাষ করতে পারেন শীতকালীন নানা ফুলের। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা, ট্যারেস, ভয়েড, করিডোরসহ যেখানে দিনে অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা সূর্যের আলো পড়ে সেখানেই সাজিয়ে নিতে পারেন বাহারি সব শীতের ফুল দিয়ে। শীত এলেই ঢাকার আগারগাঁও, গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা ও কার্জন হল-সংলগ্ন রাস্তার দু’পাশের নার্সারিগুলো নানা রঙের ফুলের পসরা সাজিয়ে বসে। নার্সারিগুলোতে শীতের ফুলগাছের চারা, টব, মাটি, সার কিংবা টবসহ ফুটন্ত ফুলগাছ সবই কিনতে পাওয়া যায়। দাম বিশ টাকা থেকে শুরু করে গাছভেদে একশ টাকার মধ্যে। এসব নার্সারিতে শীতের ফুলের মধ্যে গাঁদা, ইনকা গাঁদা, ডালিয়া, পিটুনিয়া, সিলভিয়া, ডায়ানথাস ও চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, পানসি, এস্টার, পপি, ফ্লক্স, গাজানিয়া, জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস, ক্যালেন্ডুলা, ডেইজি, ভারবেনা, হেলিক্রিসাম, লুপিন, কারনেশন, ইত্যাদি ফুল বেশি পাওয়া যায়। শীতের ফুল লাগানোর জন্য বেলে-দোআঁশ মাটি এবং ৮  থেকে ১২ ইঞ্চি মাপের টব যথেষ্ট। ছোট আকৃতির গাছ যেমন ডায়ান্থাস, গাঁদা, পিটুনিয়া, ভারবেনা, গাজানিয়া ইত্যাদি ছোট টবে লাগানো যেতে পারে। তবে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা এগুলো ১০-১২ ইঞ্চি টবে লাগানো যায়।
প্রতি টবের জন্য বেলে-দোআঁশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার বা পঁচা শুকনো গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে এক মুঠো হাড়ের গুঁড়ো, দুই চা-চামচ চুন, দু-মুঠো ছাই মিশিয়ে নিতে পারলে ভালো হয়। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকবে। টবে মাটি ভরাট করার আগে টবের গোড়ায় ছিদ্রটি ইটের সুরকি বা টবের ভাঙা টুকরো দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, যাতে মাটির ভারে ছিদ্রটি বন্ধ হয়ে না যায় এবং সেই ছিদ্র দিয়ে যাতে তলানিতে জমতে থাকা অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যেতে পারে। চারা লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে দিতে হবে।  গাছে প্রতিদিন সকালে অথবা বিকালে পরিমিত পানি সেচ দিতে হবে যাতে শুধু গোড়ার মাটি  ভেজা থাকে কিন্তু উপচে না পড়ে। শুধু গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে ঝাঁঝরি দিয়ে গাছের ওপর থেকে বৃষ্টির মতো গাছ-পাতা ভিজিয়ে নিয়মিত হালকা পানি দেয়া ভালো। এতে গাছ  বেশি সতেজ থাকে।
গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, সূর্যমুখী ইত্যাদি ফুলগাছকে খাড়া রাখার জন্য অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। গাছের চারা অবস্থা থেকেই এ ব্যবস্থা করতে হয়। এ কাজে বাঁশের কঞ্চি বা স্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে। টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুঁড়ো না করে চাকা চাকা করে খুঁচে দেওয়া ভালো। এক্ষেত্রে মাটি খোঁচানোর গভীরতা হবে টবের উচ্চতাভেদে ৩-১০ সেন্টিমিটার বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চি। এ কাজটি প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন পর পর একবার করে করতে হবে।
গাছে কুঁড়ি আসতে দেরি করলে সরিষার খইল চারগুণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর আবার মিশ্রণটি চারগুণ পানির সঙ্গে গুলে ১৫ দিন পর পর শুধু গাছের গোড়ার চারদিকে কুঁড়ি না আসা পর্যন্ত দিন। কুঁড়ি আসার লক্ষণ প্রকাশ  পেলে ৫০ গ্রাম টিএসপি (কালো সার), ১০০ গ্রাম ইউরিয়া (সাদা সার) ও ২৫ গ্রাম এমওপি (লাল সার) একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতি গাছে এক চা-চামচ করে ১০ দিন অন্তর দিতে হবে। তবে এক মৌসুমে এই রাসায়নিক সার তিনবারের বেশি দেওয়ার দরকার নেই। রাসায়নিক সার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সার কোনোভাবেই শিকড়ের ওপর না পড়ে।
ফুল ফোটা শুরু হওয়ার পর থেকে ফুল-পাতা ভিজিয়ে পানি না দেওয়াই ভালো। বেশি দিন ধরে গাছে ফুল রাখতে চাইলে গাছে কখনো ফুল শুকাতে দিতে নেই। ফুল শুকানো শুরু হলেই সিকেচার বা কাঁচি দিয়ে কেটে দিতে হয়। এতে বেশি ফুল পাওয়া যায়। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরাসরি সূর্যের আলো না পেলে একদিকে যেমন গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে অন্যদিকে ফুলের আকার, সংখ্যা ও স্থায়িত্ব তুলনামূলকহারে হ্রাস পেতে পারে।

NO COMMENTS

Leave a Reply