Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার ছোট আবাস,বড় দেখাক…

ছোট আবাস,বড় দেখাক…

কামরুজ্জামান কাজল

মাথার উপর সুবিশাল আকাশ। সেই আকাশে তাকিয়ে কেটে যাবে বেলা। এমন কাব্যিক ভাবনা মনের অগোচরে থাকলেও দিনশেষে আমাদের নিজ নীড়েই ফিরতে হয়। নিজ ঘর। আপন ভুবনে মনের মধ্যে বসত করে ছড়ানো -ছিটানো বিশাল এক বাসা। আলো-বাতাসের খেলায় মেতে উঠবে প্রতিটিক্ষণ। কিন্তু সাধ আর সাধ্য তো আমাদের এক হয় না। যেমন বিশাল পরিসরের বাসা আমরা চাই তেমন কি আমরা পাই? নিজের হোক কিংবা ভাড়া-ই হোক ইচ্ছেমত বিশাল পরিসরের বাসায় আর হয়না থাকা। কিন্তু মনের মধ্যে আফসোস থেকেই যায়…। ইস আমার বাসাটা যদি একটু বড় হতো!
এই আফসোস কিছুটা মেটাতে আপনাদের কিছু কৌশলেে পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ফারজানা গাজী।

আসবাবপত্রে বুদ্ধিমত্তা

ঘরের কোন জায়গায় কেমন আসবাব দিবেন সেক্ষেত্রে সচেতন হবেন। যেমন এর একটি উপায় হতে পারে প্রথমে বড় একটি বিছানা দিয়ে আপনার বেডরুমে একটি সম্পূর্ণতার অনুভূতি তৈরি। এরপর কক্ষের সঙ্গে মানানসই ছোট আকারের শেলফ ও অন্যান্য ফার্নিচার দিয়ে সাজান। একই কৌশল আপনার অন্যান্য ঘরেও খাটাতে পারেন। ছোট বাড়ির জন্য মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার একটি ভালো সমাধান। বর্তমানে বহু ধরনের মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাজ করে রাখা চেয়ার, টেবিল কিংবা সোফা কাম বেড। আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফার্নিচারের রং পছন্দ করুন। পুরনো ফার্নিচার বাড়িতে যথেষ্ট স্থান নেয়। তাই আপনি যদি আধুনিক ছোট বাড়িতে থাকেন তাহলে পুরনো ফার্নিচার বদলে নতুন ও স্থান সাশ্রয়ী ফার্নিচার কিনুন। আপনার অব্যবহৃত জিনিসপত্রের ওপর নজর রাখুন। কোনো জিনিস যদি এক বছরেও ব্যবহৃত না হয় তাহলে এটি সরিয়ে ফেলুন।

রুচিসম্মত পর্দা

ঘরের পর্দা মন ভালো করে দেয় অনেকখানি। পর্দা সাজানোর উপর বাসার সৌন্দর্য নির্ভর করছে। কক্ষে পর্দা লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখুন এটি যেন আপনার দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলে যায়। আর এতে কক্ষের আকার অনেক বড় মনে হবে। এছাড়া উঁচুতে পর্দা স্থাপন করে তা নিচ পর্যন্ত বিন্যস্ত রাখলে ভালো হয়। হালকা প্রিন্ট কিংবা একরঙা পর্দা ব্যবহার করুন। এটি ছোট ঘরকে বড় দেখাতে সহায়তা করবে।

স্লাইডিং দরজা
একঘর থেকে আরেকঘর। মাঝখানে দরজা। ঘরের দরজার কারণে জিনিসপত্রও ঠিকমত রাখতে পারছেন না আপনি।
ভেতরের বিভিন্ন কক্ষের মাঝের দরজা ও কাপবোর্ডের দরজা মূল্যবান স্থান নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলে দরজা সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে স্লাইডিং দরজা ব্যবহার করুন।

ফ্লোর টু সিলিং
বাসায় প্রচুর বই? কোথায় রাখবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এইঘরে ছোট সেলফ তো অন্যঘরে আরেকটি। এইভাবে বই রাখার চিন্তা মাথায় নিয়ে না ঘুরে উপায় খুঁজুন ভিন্নভাবে। বই রাখার জন্য ফ্লোর টু সিলিং বিস্তৃত সেলফ ব্যবহার করুন। এটি আপনার সিলিংয়ের উচ্চতা বাড়ানোর অনুভূতি দেবে। এছাড়া প্রচুর জিনিসও রাখা যাবে।

রঙের বাহার

আপনার ঘরের দেয়ালে যে রঙ ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। হালকা ও প্রাকৃতিক রঙের ওপর গুরুত্ব দিন। এগুলো আপনার ছোট স্থানকেও বড় দেখাতে সহায়তা করবে। কক্ষের ভেতর সূর্যের আলো প্রতিফলন ঘটাতে বড় আয়না খুবই কার্যকর। ছোট কক্ষকে এটি বড় করে দেখাবে।

এছাড়াও মাথায় রাখতে পারেন যা…

নীড় ছোট। প্রস্থও কম। নজর তাই একটু আমরা ভিন্ন দিকে দেই। চারদেয়ালের বাইরে, ছাদের দিকে যাক না নজর। এজন্য আপনার দেয়ালের উঁচু স্থানে ছোট ছোট কিছু ছবি ঝুলান। চারদেয়ালের বাইরেও তখন যাবে চোখ। এতে ভিন্নধরনের অনুভূতি তৈরি হবে।সব ফার্নিচার সর্বদা দেয়ালের সঙ্গে রাখতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো মাঝামাঝি স্থানে বসালেও তা বড় অনুভূতি তৈরি করে। একটি ঘরের সবটুকু জায়গা আসবাব দিয়ে ঠেসে রাখবেন না। কক্ষের সব স্থানই ব্যবহার করবেন না। কিছু খালি স্থান রাখবেন। যেমন শেলফের সবগুলো খোপ ভর্তি না করে কিছু খালি রাখুন।
সবকটা জানালা খুলে দাওনা…। গানের কথামত খোলা রাখুন সব জানালা। এতে আপনার ছোট স্থানেরও আলাদা গভীরতা তৈরি হবে। আলো আসুক ঘরে। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করুন। যদিও আমাদের এই নগরীতে ঠাসা-ঠাসি করেই থাকতে হয় হয় আমাদের। এক বাড়ির দেয়াল ঘেষে অারেক বাড়ি। তারপরও যতটুকু আলো বাতাস আসার কিছুটা সুযোগ থাকে তার সবটুকুই ঘরে আসতে দিন। প্রাকৃতিক আলোবাতাসে ছোট ঘরও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যকর। সবুজে সাজুক আপনার ঘর। এজন্য যে বড় বাগান কিংবা মূল্যবান গাছ লাগাতে হবে, তা নয়। ঘরের ভেতর টবে রাখা একটি ছোট গাছই এজন্য যথেষ্ট। ইচ্ছে করলে পছন্দমত মানিপ্ল্যান্টে সাজিয়ে নিতে পারেন ঘরের বিভিন্ন কোনগুলো।

NO COMMENTS

Leave a Reply