Home সর্বশেষ জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য সদরঘাটে আধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য সদরঘাটে আধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র

0 65

কারিকা প্রতিবেদক
রাজধানীর সদরঘাটে অত্যাধুনিক ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
৮৪ হাজার বর্গফুট আয়তনবিশিষ্ট ছয়তলা ভবনের এই আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন আটশ’ থেকে এক হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সহায়তা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রটি জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, এই সেবাকেন্দ্রটি থেকে নারী ও শিশুসহ সবার জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাবে; সেই সঙ্গে অসহায় মানুষের জন্য বৃদ্ধাশ্রম, পথবাসী নারীদের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র, কম্পিউটার ল্যাব, মনোসামাজিক কাউন্সিলিংকেন্দ্র, শিশুদের জন্য প্রারম্ভিক বিকাশ কার্যক্রম (ইসিডি) ও দিবাযত্নকেন্দ্র, শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক শিক্ষা সেশন রয়েছে।
এছাড়া শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, বিনোদনের ব্যবস্থা এবং পথবাসী নারীদের জন্য আবাসন সুবিধাসহ জীবিকা উন্নয়ন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। আশ্রয় গ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ভবনসংলগ্ন একটি উন্নতমানের প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবাকেন্দ্র; একটি অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট এবং মানবিক অধিকার নিশ্চিতকরণে রয়েছে একটি মাতৃদুগ্ধ পানকেন্দ্র। রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক মনোসামাজিক সহায়তা প্রদানের সুব্যবস্থা।
সিটি করপোরেশন বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত বন্যা, খরা, জলোচ্ছাস, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং দারিদ্র্যের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে অসংখ্য মানুষ ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় বড় মেট্রোপলিটন শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। শহরেও আছে অগণিত দরিদ্র আর উদ্বাস্তু মানুষ। মহাপ্রান্তিক এসব মানুষের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ লোক পথ বা ঝুপড়িবাসী, যারা খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত অমানবিক জীবনযাপন করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার লোক বসবাস অনুপযোগী বস্তিতে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি।
বাংলাদেশ আরবান হেলথ সার্ভে ২০১৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সাল নাগাদ নগরের জনসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৮ কোটি। এখনই উদ্যোগ না নিলে তাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ উদ্বাস্তু থাকবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শুমারি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ। যাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজারই বস্তি, ঝুপড়ি অথবা রাস্তায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষত পথবাসী মানুষের বিপন্ন অবস্থার কথা চিন্তা করেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় সাজেদা ফাউন্ডেশন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এবং ওয়াটার এইডের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে মানিকনগরে একটি পথবাসী সেবাকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। যেটির ভ‚মি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য ইত্যাদি নিয়ে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সদরঘাটে প্রায় ৮৪ হাজার বর্গফুট আয়তন জায়গা নিয়ে একটি জলবায়ু উদ্বাস্তু সেন্টারের নির্মাণকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনটির নিচতলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে ডায়াগনস্টিক, গাইনি, শিশু, মেডিসিন, চর্ম ও দন্ত্যসেবা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় তলার বাম পাশে রয়েছে ৭৫ জন বয়স্ক মানুষের জন্য দিবাযত্নকেন্দ্র এবং ডান পাশের কক্ষগুলোর মধ্যে একটি প্রশিক্ষণ ও অপরটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি মনোসামাজিক কাউন্সিলিংকেন্দ্র। এর একটি কক্ষে রয়েছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়।
ভবনের তৃতীয় তলার বাম পাশে রয়েছে দুই থেকে ছয় বছর বয়সী ৮৫ জন শিশুর জন্য প্রারম্ভিক বিকাশ কার্যক্রম (ইসিডি) ও দিবাযত্নকেন্দ্র। এছাড়া ৭ থেকে ১০ বছরের শিশুদের শিক্ষাসহ সব শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। ডান পাশে ৮৫ জন স্কুলপড়ুয়া শিশুর জন্য শিক্ষা, শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক শিক্ষা সেশন রয়েছে। আর চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় রয়েছে ৪৫২ জনের জন্য আবাসন সুবিধাসহ জীবিকা উন্নয়ন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুবিধা। ভবনসংলগ্ন একটি উন্নতমানের প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবাকেন্দ্র এবং পাবলিক টয়লেট এবং মানবিক অধিকার নিশ্চিতকরণে রয়েছে একটি মাতৃদুগ্ধ পানকেন্দ্র। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য রয়েছে কমিউনিটিভিত্তিক মনোসামাজিক সহায়তা প্রদানের সুব্যবস্থা।
গত ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রটি ঘুরে দেখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ সময় তিনি সেখানকার সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
কেন্দ্রটি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই দেখি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীভাঙনসহ নানা কারণে গৃহহীন হয়ে মানুষ শহরে আসছেন। তারা সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় দিনাতিপাত করছেন। আমরা চাই এসব অসহায় মানুষকে ফুটপাত থেকে সরিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্রটিতে নিয়ে আসতে। এখানে তাদের নানা প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। কেন্দ্রটিতে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহসহ পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। অসহায় বয়স্ক মানুষের জন্য রয়েছে বৃদ্ধাশ্রম। প্রকল্পটি শেষ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি।’

NO COMMENTS

Leave a Reply