Home বাজার দর ইন্টেরিয়ার জীবনযাপন যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে!

জীবনযাপন যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে!

0 1149

মো. জগলুল হায়দার

সুস্থ ও আয়েশিভাবে বেঁচে থাকার জন্য কতই না আয়োজন। চলতে হবে নিরবচ্ছিন্নভাবে। শরীরে জাপটে এসে লাগতে হবে ফুরফুরে হাওয়া। আর দমটাও নিতে হবে আত্মার চাহিদামাফিক। তবেই না আত্মা তৃপ্ত! গ্রীষ্মকাল মানেই গরমে হাঁসফাঁস জীবন। তাই এ সময়টাতে আত্মাও চায় ‘কুল, কুল’ অর্থাৎ ঠা-া হাওয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস। এ বিষয়টাকে মাথায় রেখে প্রযুক্তিও এগিয়ে চলছে। হাতপাখা থেকে টেবিল ও সিলিংফ্যান সর্বোপরি এয়ারকুলার থেকে এয়ারকন্ডিশনারÑ সবই মানুষের যাপিত জীবনে ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমান সময়কে বলা হয় এয়ারকন্ডিশনারের যুগ। বাড়ি-গাড়ি, অফিস-আদালত, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাÑ সবক্ষেত্রেই এখন এর অপ্রতিরোধ্য প্রভাব। এয়ারকন্ডিশনার ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতরকার বায়ুম-লের পরিবেশের কথা এখন চিন্তাও করা যায় না।

এয়ারকুলার বনাম এয়ারকন্ডিশনার
অনেকের ধারণা এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার একই প্রযুক্তির জিনিস। আসলে কিন্তু তা নয়। এ দুটি প্রযুক্তি কার্যকারিতার দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এয়ারকুলারের কাজ হলো শুধু ঠা-া বাতাস প্রবাহিত করা। অর্থাৎ ঘরের ভেতরের তপ্ত পরিবেশকে ঠা-া করতে এটি ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রীষ্মকালে এটির ব্যবহার সম্ভব, শীতকালে নয়। আর এয়ারকন্ডিশনার এমন এক প্রযুক্তি, যা দ্বারা ঘরের ভেতরে থাকা আবদ্ধ বায়ুম-লের অনেকটা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। এ যন্ত্র শীতকালে গরম আর গরমকালে ঠা-া বাতাস প্রবাহ করতে পারে। ফলে গ্রীষ্ম ও শীতÑ উভয় ঋতুতেই এর ব্যবহার সম্ভব।
তবে ঢাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমাদের দেশে এয়ারকন্ডিশনারের চেয়ে এয়ারকুলারের চাহিদাই বেশি। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সামর্থ্যরে বিষয়টাই।

হিসাব ও দামদর
বারো হাজার ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট সমান এক টন, যা ১২০ থেকে ১৩০ বর্গফুট জায়গা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। এ হিসাব ধরেই বাজারে বিক্রি হয় এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার। আবাসিক ক্ষেত্রে সাধারণত এক, দেড় ও দুই টনের এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে শুরু করে শতাধিক টন পর্যন্ত এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার
ব্যবহার করা হয়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এক টনের এয়ারকুলার ৩০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা এবং এয়ারকন্ডিশনার ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশের বাজারে ওয়ালটন, জেনারেল, এলজি, শার্প, প্যানাসনিক, গ্রে (চায়না), হিটাচি, মিৎসুবিশি, তোশিবা, ট্রান্সটেক, স্যামসাং ও সিঙ্গার ব্র্যান্ডের এয়ারকুলার পাওয়া যায়। আর এয়ারকন্ডিশনারের ব্র্যান্ডের মধ্যে জেনারেল, ওয়ালটন ও এলজির চাহিদাই বেশি।
এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার বিক্রিকে কেন্দ্র করে দেশের সবচেয়ে বড় বাজার গড়ে উঠেছে রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটে, যা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেট নামেও পরিচিত। এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেটে এমনকি উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শোরুমেও বর্তমানে এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার বিক্রি
হচ্ছে।

যতœআত্তির কৌশল
এয়ার ফিল্টার সাধারণত ২ মাস পরপর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ফিল্টার পরিষ্কার থাকলে তা সহজে এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে না। এছাড়া এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ-লাইন টেনে নেয়া উচিত। এতে ভোল্টেজ-সমস্যা দূর হয়। ফলে এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনারে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং সহজে নষ্ট হয় না। ইনভার্টার এয়ারকন্ডিশনার বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী। ইনভার্টার এসি নরমাল এসির তুলনায় ৬০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ
করে।

NO COMMENTS

Leave a Reply