Home ফিচার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ কর্মপরিকল্পনা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ কর্মপরিকল্পনা

কারিকা প্রতিবেদক
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ব্যাপকতা লাভ করে। ৬৪ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়ে এই মহামারী। যদিও আগস্টের মাঝামাঝি এসে এর প্রকোপ কমেছে, তবে উদ্বেগ কমেনি মানুষের। কারণ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। মৃতদের মধ্যে বেশ ক’জন ডাক্তার-নার্স থাকায় উদ্বেগের মাত্রা আরও বেড়েছে। তাই আগামীতে যেন ডেঙ্গু ব্যাপকতা লাভ করতে না পারে, সেই কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে এখনই চিন্তা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগের নানা স্তর ব্যাপক কর্মসূচি চালাচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য সংস্থাও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে এসেছে। তবে আগামী বছর যাতে ডেঙ্গু এভাবে না ছড়ায়, সেজন্য কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংস্থাটি চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ করার কথা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট, কীটতত্ত¡বিদ, পরিচ্ছন্নতা ও মশা মারার কাজে সম্পৃক্ত সবাই কর্মশালায় অংশ নেবেন জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, সেখান থেকেই পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, দেশের চারটি বিভাগে মশা জরিপের উদ্যোগ নিয়েছে অধিদফতরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা। মশার প্রজাতি শনাক্ত ও দেশব্যাপী মশা নিয়ন্ত্রণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য এ জরিপ করা হবে।
এদিকে আগস্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বর সন্দেহে ১৬৯ জনের মৃত্যুর তথ্য রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) এসেছে বলে নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে ৮০টি মৃত্যুর পর্যালোচনার পর ডেঙ্গুতে ৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ২৫ আগস্ট আয়োজিত এক সেমিনারে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার ১ শতাংশ বা তার বেশি হলে সেটা অস্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশে এই রোগে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ২ শতাংশেরও কম। মোট মৃত্যুর ৫ শতাংশই ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। মৃত্যুর এ সংখ্যা সাধারণের তুলনায় ২০-২৫ গুণ বেশি। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুসংখ্যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
বিএসএমএমইউর এ-ব্লকের মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার সাব-কমিটির উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু : বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে বলা হয়, সরকারি হিসাব মতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬২ হাজারেরও বেশি রোগী, মারা গেছেন ৪৭ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃত্যুর হার এর দ্বিগুণ।
সেমিনারে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিরোধেই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। মশা নিধনে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. চৌধুরী আলী কাওসার, এডিটর-ইন-চিফ, ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু, অধ্যাপক ডা. কাজী তরিকুল ইসলাম।

আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা চলতি মাসেই
আগামী মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে কর্মকৌশল নির্ধারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আগামী বছর যেন ডেঙ্গু বা মশাবাহিত রোগের প্রকোপ না হয়, সেজন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। জাতীয় পর্যায়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে। এ বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে কর্মশালা হবে। বিশেষ করে চিকিৎসক ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা, কীটতত্ত্ববিদ, সাংবাদিকসহ এ কাজে সম্পৃক্ত সবার পরামর্শেই প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল ঠিক করা হবে। সেই অনুসারে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

NO COMMENTS

Leave a Reply