Home বাজার দর অন্যান্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে কলকাতার মডেল অনুসরণ করতে চায় ঢাকা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কলকাতার মডেল অনুসরণ করতে চায় ঢাকা

0 288

কারিকা প্রতিবেদক
চলতি বছরের জুলাই থেকে ঢাকা ও সারা দেশে আলোচনার শীর্ষে ছিল ডেঙ্গু। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি এডিস মশা দমনে ব্যস্ত ছিল নগর প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ মহল। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেককে এডিস মশা দমনে পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। কিন্তু দৃশ্যত কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের শহর কলকাতা। কলকাতার সঙ্গে ঢাকার আবহাওয়া, ভাষা ও সংস্কৃতির অনেকটা মিল আছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ডেঙ্গু দমনে কলকাতা অনেকটাই সফল। তাই এডিস মশা নিধনে সফল কলকাতা পৌর সংস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সংস্থা দুটি। তাদের ব্যবহৃত ওষুধ এবং যন্ত্রপাতিও সংগ্রহের আগ্রহ দুই সিটির। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে কথা বলেছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কীটনাশক প্রয়োগের চেয়ে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন কলকাতার ডেপুটি মেয়র।
এ ছাড়াও কলকাতায় ‘মশারে করো উৎসে বিনাশ’-এই স্লোগান নিয়ে বাসা-বাড়ি কিংবা উন্মুক্ত জলাশয়-যেখানেই এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া যায় তা ধ্বংস করা হয়।
ঢাকার কোন কোন এলাকা ডেঙ্গুপ্রবণ তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন অতীন ঘোষ। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনভিত্তিক কৌশলী হতে হবে।’
অতীন ঘোষ জানান, কলকাতা পৌরসভা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে প্রতিরোধ ও প্রতিকার-দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। সেখানে সারা বছর ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মনিটরিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কলকাতার ডেপুটি মেয়র আরও বলেন, কলকাতা পৌরসভা নয় বছর ধরে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ফগার মেশিনের সাহায্যে ওষুধ প্রয়োগ কার্যকরী হলেও এডিস মশা দমনে এর কার্যকারিতা কম।
অতীন ঘোষ আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে আইন পরিবর্ধন করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন।
ডিএনসিসি মেয়র কলকাতার ডেপুটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই ভিডিও কনফারেন্সিং থেকে আমাদের অনেক ‘নলেজ শেয়ারিং’ হলো। কলকাতার অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারব। কলকাতার সঙ্গে এ ধরনের নলেজ শেয়ারিং প্রথম হলেও শেষ নয়। ভবিষ্যতে দুই শহরের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”
এর আগে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একটা সময় ছিল যখন বর্ষা শুরু হলে কলকাতা করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণ করতে নামত। কিন্তু ততদিনে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ত শহরের নানা অঞ্চলে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে কলকাতা করপোরেশন বছরজুড়েই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। শহরের প্রতিটি হাসপাতাল, নার্সিং হোম বা পরীক্ষাগারে রোগীদের কী কী রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে, কী ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, সেসবের প্রতিদিনের হিসাব রাখা হয়। যাতে ডেঙ্গু রোগীর খোঁজ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সংস্থাটি কয়েক স্তরে সারাবছরই ডেঙ্গু বিষয়ে নজরদারি করে থাকে। প্রথমত, কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই তাদের ২০ থেকে ২৫ জন করে কর্মী আছে। যাদের মধ্যে একটি গ্রুপ প্রচারের কাজ চালিয়ে থাকে, অন্য গ্রুপটি কোথাও পানি জমছে কিনা, সেটার ওপর নজর রাখে। এর পাশাপাশি ১৬টি বরো’র প্রত্যেকটির জন্য একটি করে র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম রয়েছে। তাতে সব ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে ৮ থেকে ১০ জন লোক থাকে। গাড়িও থাকে তাদের কাছে। কোনো জায়গায় লার্ভা পাওয়ার খবর পাওয়া গেলে দ্রুত তারা সেখানে পৌঁছান এবং এডিস মশার লার্ভা নিধন করেন।
তথ্যমতে, দেশে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৬৯। তাই ডেঙ্গু দমনে মশা মারার নতুন ওষুধ আমদানির পাশাপাশি এডিস মশা দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

NO COMMENTS

Leave a Reply