Home মূল কাগজ দুই লাখ টাকায় পুরোদমে নির্মাণ-সামগ্রীর ব্যবসা!

দুই লাখ টাকায় পুরোদমে নির্মাণ-সামগ্রীর ব্যবসা!

কারিকা ডেক্স


আবাসন খাতের শেকড় হচ্ছে নির্মাণ-সামগ্রী। শেকড় ছাড়া একটি গাছ যেমন পত্র-পল্লবে বিকশিত হতে পারে না, তেমনি নির্মাণ-সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ ছাড়া আবাসন খাত এক কদমও সামনে অগ্রসর হতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধমূল এই ধারণা থেকেই নির্মাণ-সামগ্রী ব্যবসার উদ্ভব ঘটেছে। বাংলাদেশে এ ব্যবসার শুরুটা সাধারণের কাছে স্বচ্ছ মনে না হলেও বর্তমানে এর অনেক কিছুই স্পষ্ট ও দৃশ্যমান। এ দেশে এক সময় এ ব্যবসার হাত ধরেই আত্মপ্রকাশ ঘটেছে অনেক শীর্ষ ব্যবসায়ীর। বিষয়টি অনস্বীকার্য যে, তাদেরই অনুপ্রেরণায় এ ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে-কানাচে। বর্তমানে এর প্রসার ও সহজলভ্যতার ব্যাপ্তি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, নির্মাণ-সামগ্রীর জন্য এখন আর কাউকেই দৌড়ঝাঁপ করতে হয় না বড় শহর বা গঞ্জে। যে কেউ চাইলেই তার গন্ডির মধ্যে থেকে তার চাহিদামাফিক নির্মাণ-সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারেন।

             

সম্প্রতি কারিকার এক অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে নির্মাণ-সামগ্রী ব্যবসার বেশকিছু আশাব্যঞ্জক তথ্য। সেই তথ্যানুসারে বলা যায়, বর্তমানে সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন যেকোনো ব্যক্তি এ ব্যবসার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে অনায়াসে মাসপ্রতি আয় করতে পারেন কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা। তবে এর বিপরীতে তাকে পুুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। রাজধানীর আশপাশে থাকা জেলা শহরে অবস্থিত ছোট্ট পরিসরের নির্মাণ-সামগ্রীর দোকানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রড বাবদ ৫০-৭০ হাজার, সিমেন্ট বাবদ ৫০ হাজার, সিলেট বালি, আস্তর বালি ও ভিটি বালি বাবদ ১০ হাজার, ইট বাবদ ৫০ হাজার, দোকান ভাড়া, আসবাবপত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ২০ হাজার আর বাকি ২০ হাজার টাকা হাতে রাখতে হবে। ব্যবসায়ী-মহলের পরামর্শ, হালকা বাকিতে পুঁজি-ঘাটতি কাটাতে জরুরি মুহূর্তে ব্যবসার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সতর্কতা হিসেবে এ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে নির্মাণ-সামগ্রীর অধিকাংশ কোম্পানি দোকানে দোকানে এসে মালামাল সরবরাহের অর্ডার নিয়ে যায়। বিশেষ করে সিমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে লেনদেনের স্বচ্ছতা থাকলে এক চালান মাল বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করলে পরবর্তী সময়ে আবার নগদ ছাড়াই মাল পাওয়া যায়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো এমন সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে নির্মাণ-সামগ্রীর ব্যবসার ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে এখন আর বড় ধরনের পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় না ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। তবে তার আগে ব্যবসায়ীকে লেনদেনের স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে হবে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মাসপ্রতি গড়ে ২০ গাড়ি ইট, ৫ টন রড, ১৫-২০ গাড়ি সিলেট বালি, আস্তর বালি, ভিটি বালি, ২-৪ গাড়ি পাথর-কণা ও ৫০০ ব্যাগ সিমেন্ট বিক্রি করতে পারলে এর বিপরীতে তারা সাকুল্যে লাভ গুনতে পারেন ৩০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করতে হয় ক্রেতাদের কাছে মাল নগদে বিক্রি করার কৌশল। তবে নির্মাণকাজের মৌসুমে (অক্টোবর থেকে মার্চ) নির্মাণ-প্রকল্প এলাকায় একটু খোঁজ-খবর রাখলে ওই পরিমাণের চেয়ে আরও বেশি মালামাল বিক্রি করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অভিমত, সততা ও স্বচ্ছতা থাকলে কম বিনিয়োগ করেও পুরোদমে এ ব্যবসা করা সম্ভব। তবে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply