Home ফিচার দুর্ঘটনা-দুর্যোগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯

দুর্ঘটনা-দুর্যোগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯

0 147

কারিকা প্রতিবেদক
কথায় আছে, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। বিপদের মুহূর্তে বা জরুরি প্রয়োজনের সময় আমরা অনেকেই কী করব ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। এখন আর এ কথা খাটবে না! যেকোনো বিপদ বা জরুরি সেবার জন্য আছে হটলাইন ৯৯৯, যা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর। জরুরি মুহূর্তে পুলিশি সহায়তা, ফায়ার সার্ভিসের সেবা বা অ্যাম্বুলেন্স পেতে ৯৯৯ নম্বরে একটি ফোনকলই যথেষ্ট হতে পারে। আপনার কল পেয়ে ছুটে আসবে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মী বা অ্যাম্বুলেন্স। এ সেবা পেতে হাতে মোবাইল ফোন থাকলেই চলবে, অন্য কোনো খরচ বা ঝামেলার বালাই নেই। কারণ ৯৯৯ নম্বরে কল করা যায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
‘৯৯৯’ নাগরিকের জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে কোনো একটি মুঠোফোন থেকে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা বিনামূল্যে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স-সেবা দিয়ে থাকে। ৯৯৯ সার্ভিসের প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স-সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এই সেবা।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় রাজধানীর আবদুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে। ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর যাত্রা হয়েছিল। বাংলাদেশে এ ধরনের সেবা এটিই প্রথম। শুধু রাজধানী ঢাকার লোকজনই নয়, দেশের যেকোনো জায়গা থেকে ৯৯৯-এ ফোন করে সমস্যার কথা জানিয়ে দরকারি সহায়তা নেওয়া যায়। বিপদগ্রস্ত বা সহায়তাপ্রত্যাশী মানুষকে সেবা দিতে সার্বক্ষণিক অবস্থান করেন জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কর্মকর্তা ও কর্মীরা।
নিজে বিপদগ্রস্ত হলে যেমন ৯৯৯-এ ফোন করে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স-সহায়তা নেওয়া যায়, তেমনি রাস্তায় কাউকে অপরাধের শিকার বা দুর্ঘটনায় ভুগতে দেখলেও পুলিশকে জানানো যায়। প্রয়োজন হলে ডাকা যায় ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স। তিন ক্ষেত্রেই কল করতে হবে ৯৯৯-এ। এমনকি রাস্তার সরকারি গাছ রক্ষায়, বিপদগ্রস্ত পশু-পাখিকে উদ্ধারের জন্য সহায়তা চেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করা যায়। আপনার ফোন পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা, ফায়ার সার্ভিস ইউনিট বা অ্যাম্বুলেন্স-সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেবে জাতীয় জরুরি সেবার কর্মী বা কর্মকর্তারা। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টা, বাল্যবিয়ে রোধের মতো কাজেও আপনি ৯৯৯-এর সহায়তা নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের অপরাধী গ্রেফতার, গৃহকর্মী নির্যাতন রোধ, পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ ইত্যাদি প্রয়োজনে ৯৯৯-এ তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যায়। এ পর্যন্ত ৯৯৯-এ ফোন করে ঝামেলা এড়িয়ে সহজে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেয়েছেন লাখো মানুষ।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ১ কোটি ৪২ লাখ ফোন রিসিভ হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য দেন।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ সেবা পেয়েছেন। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিসে এ মুহূর্তে ১৪২ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন।’ তিনি জানান, এ সার্ভিসে জনবলের সংখ্যা পাঁচশ’তে উন্নীতকরণের চেষ্টা চলছে।
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানান, ধর্ষণ-সংক্রান্ত ঘটনা, গৃহকর্মী নির্যাতন, কাউকে আটকে রাখা, পাচার চেষ্টা, লিফটে আটকে পড়া, অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা, দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ডের ঘটনা, অ্যাম্বুলেন্স, প্রাণনাশের আশঙ্কা, পারিবারিক সমস্যা সমাধান, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, গাছকাটা বন্ধ করা, শব্দদূষণ, ছিনতাইসহ নানা ধরনের সমস্যায় সাধারণ ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে তারা এ পর্যন্ত সহযোগিতা করেছেন।
জাতীয় জরুরি সেবা হেল্প ডেস্ক ৯৯৯-এর পুলিশ সুপার মো. তবারক উল্লাহ বলেন, ‘প্রতিদিন নানা সমস্যায় মানুষ এখানে ফোন করছেন। জরুরি সহায়তা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। তবে শুরুতে কৌতুহলী মানুষের প্রচুর ফোন আসত। এখন এই সমস্যা নেই বললেই চলে।’ শুরুতে ৩৩টি ওয়ার্কস্টেশন ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন ১০০টির মতো ওয়ার্কস্টেশন। তাতে এখন আগের চেয়ে ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’
৯৯৯-এ ফোন করে কাউকে পরবর্তী সময়ে কোনো আইনি ঝামেলা পোহাতে হবে না উল্লেখ করে তবারক উল্লাহ বলেন, ‘এখানে তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।’ কোনো ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় প্রয়োজন হলে সেটাও নিজস্ব চ্যানেলে মোকাবেলা করা হয় বলে জানান তিনি।

NO COMMENTS

Leave a Reply