Home মূল রচনা নতুন বছরে দূষণ-যানজটমুক্ত ‘সুস্থ’ ঢাকার প্রত্যাশা

নতুন বছরে দূষণ-যানজটমুক্ত ‘সুস্থ’ ঢাকার প্রত্যাশা

0 494



সোহরাব শান্ত
চারশ’ বছর বয়সী রাজধানী ঢাকা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমৃদ্ধ হয়েছে। আধুনিক অট্টালিকা, প্রশস্ত সড়ক-উড়ালসড়ক, লেক-ঝিল সমৃদ্ধ ঢাকা এখন অনেকটাই জৌলুসপূর্ণ। বিপরীতে পরিবেশ দূষণ ও যানজটে নাকাল এই মহানগরীর পৌনে ২ কোটি নাগরিক। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের নানা উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেনি। তবে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকার সমস্যা সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ নেবে এমন প্রত্যাশা ঢাকার নাগরিকসহ পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের। নতুন বছরে ঢাকার ‘সুস্থতা’ নিশ্চিতকরণে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পরামর্শ ও কর্মপরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার প্রধান সমস্যাগুলোর অন্যতম কয়েকটি হলো যানজট, বায়ু ও শব্দদূষণ। এছাড়াও রয়েছে নিরাপদ পানির সরবরাহের অনিশ্চয়তা। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ও আইনের সঠিক প্রয়োগ দরকার।
ঢাকায় পরিবেশ দূষণ ও যানজট নিয়ে যারপরনাই বিরক্ত নাগরিকরা। সাংবাদিক রনি রেজা বলছিলেন, বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। বায়ুদূষণ, ধুলো-বালি-ধোঁয়া, পানি-দূষণ, সুপেয় পানির অপ্রতুলতা, ওয়াসার পানির সরবরাহ-ব্যবস্থা, বোতলজাত পানির নিরাপত্তা, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্নতা, ডাস্টবিন ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্যাম, সড়ক ব্যবস্থাপনা, পার্ক-বিনোদন-খেলাধুলার জায়গা অপ্রতুলতাসহ যতগুলো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; সবগুলোই মনুষ্যসৃষ্ট। নাগরিকের সচেতনতায় এসব রোধ করা সম্ভব। একইরকম মত দিয়েছেন রামপুরার বাসিন্দা গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার নূপুর ও শান্তিনগরের বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা সৈয়দ শাফায়েত মোর্শেদ শুভ।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা ফ্রিল্যান্সিং বিশেষজ্ঞ মো. ইকরাম বলেন, ঢাকার রাস্তাঘাট যেমন অপরিষ্কার, একই সঙ্গে ঢাকার বাতাসও বিষাক্ত। রয়েছে প্রচুর শব্দ দূষণের যন্ত্রণা। কোরবানির বর্জ্য গত কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যার আগেই সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে প্রশাসন বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা আরেকটু মনোযোগ দিলে ঢাকা শহরকে সবসময়ই পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে।
তিনি বলেন, সবুজ ঢাকা গড়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের পরিকল্পনা গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সাংবাদিক গউস রহমান পিয়াল বলেন, যানজট/সড়ক ব্যবস্থাপনায় দরকার দক্ষ আমলা, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মতো নেতা, সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
তরুণ সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক সরকার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, শহরকে পরিষ্কার রাখতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাগানো ডাস্টবিন যে শহরের নাগরিকরা নিজেই চুরি করে, সে শহর সমস্যামুক্ত হবে কীভাবে?
ব্যাংক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মানিকের মতে, যানজট সমস্যা দূরীকরণে ট্রাফিকিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।
‘গ্রিন সেভার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিবেশকর্মী আহসান রনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর অন্যতম সমস্যা ধুলাদূষণ। শুধু মানুষ নয়, গাছগুলোও ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারছে না। গাছের পাতাগুলো ধুলার পরতে ঢাকা পড়ে আছে। ফলে একদিকে গাছের পাতাগুলো পর্যাপ্ত কার্বন শুষে নিতে পারছে না, আবার পর্যাপ্ত অক্সিজেনও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, কয়েক বছর ধরেই ঢাকার বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণার উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার ওপরে রয়েছে। ক্ষতিকর বস্তুকণার এ উপস্থিতি না কমে উল্টো বাড়ছে। ঢাকার বাতাসে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫ ও পিএম ১০-এর মাত্রা গত বছরের চেয়ে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতিও।
বায়ুর মান পরীক্ষায় নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (সিএএসই/কেস) প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশালের আটটি শহরে ১১টি কন্টিনিউয়াস এয়ার মনিটরিং স্টেশন (সিএএমএস) স্থাপন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বাতাসে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম) ২.৫। ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের অতিক্ষুদ্র এসব বস্তুকণার সহনীয় মাত্রা প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। যদিও ঢাকার বাতাসে পাওয়া গেছে এর চেয়ে বেশি মাত্রায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের জন্য মূলত দায়ী ইটভাটা ও নির্মাণকাজ। ঢাকা মহানগরীর আশপাশে অনেক এলাকায় ইটভাটা রয়েছে। নির্মাণকাজের সময় নিয়ম না মেনে মাটি, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন যত্রতত্র ফেলে রাখা, রাস্তার দু’পাশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা, সর্বোপরি যানবাহনের কালো ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে তোলে। ফলে বাড়ছে সালফার ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা।
নীরব ঘাতক শব্দদূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রাজধানীবাসী। এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকায় শব্দদূষণের মাত্রা তিন থেকে চার গুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর ৯০ শতাংশ মানুষ কানে কম শোনে। এর কারণ হচ্ছে, প্রতিনিয়ত উচ্চহারে শব্দ গ্রহণ করা। রাজধানীতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের আইনে পরিষ্কার বলা আছে, হর্নের শব্দ কোনো অবস্থাতেই ৬০ (ষাট) ডেসিমেলের ওপর যেতে পারবে না। হাইড্রোলিক হর্নে ফ্রিকোয়েন্সি ১০০ ডেসিমেল ছাড়িয়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবিøউএইচও/হু) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৬০ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ মানুষকে অস্থায়ী বধির এবং ১০০ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ মানুষকে স্থায়ীভাবে বধির করে দেয়। অথচ ঢাকা শহরে শব্দের মাত্রা ধারণা করা হয় ৬০-৮০ ডেসিবেল।
চিকিৎসকরা বলছেন, বাতাসে সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত অতিসূ² এ বস্তুকণা স্বল্পমেয়াদে মাথাব্যথা, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ নানা ব্যাধির জন্য দায়ী। এর প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ক্যান্সার, কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন তারা। শব্দদূষণ যে কোনো মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও হর্নের ফলে শিশু এবং গর্ভবতী নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোকন উদ্দিন ভ‚ইয়া বলেন, বায়ুদূষণের জন্য প্রধানত যে ক্ষতি হয়, সেটা হলো মানুষের ক্রনিক লাং ডিজিজ (ফুসফুসের রোগ) হতে পারে। ধোঁয়ার কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার হতে পারে। ধুলোবালিজনিত পরিবেশ দূষণের কারণে শিশুদের হাঁপানি ও নিউমোনিয়া হতে পারে। ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। শব্দদূষণের জন্য মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা লোপ পায়। ঢাকার শিশুরা এটার জন্য বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শ্রবণ ক্ষমতা কমার কারণে শিশুর সঠিক মেধা বিকাশেও সমস্যা হতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় ঘণ্টায় গড়ে প্রায় সাত কিলোমিটার গতিতে চলে যানবাহন। যানজটের তীব্রতা বোঝাতে বিদায়ী বছরের মাঝামাঝি বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে ‘২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকার উন্নয়ন সম্ভাবনা’ নিয়ে দিনব্যাপী ওই সম্মেলন হয়।
এদিকে, বাজারে বেআইনিভাবে বোতলীকরণ খাওয়ার পানির মান নির্ণয় করে চলতি মাসের (জানুয়ারি) ২১ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পক্ষে সময় আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট রিসার্চের প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত কারিকা’কে বলেন, সম্প্রতি কাগজ পড়ে জানলাম, যানজট নিরসনে একটা ভ‚গর্ভস্থ সার্কুলার রেলের চিন্তা হচ্ছে। এগুলো অন্তত ১৫-২০ বছর আগে হাতে নেওয়া উচিত ছিল। আমাদের ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানিংয়ে আট-দশটা রুটের কথা বলা আছে। অথচ ঢাকা শহরের ভেতরে যেসব পয়েন্টে রেগুলার জ্যাম আছে, সেখানে আন্ডারপাস অথবা ওভারপাস করা উচিত।
দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তায় ময়লা ফেলাসহ বালু ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী রাখা হচ্ছে। একটু পানি ছিটিয়ে দিলেই কিন্তু এই বালু ওড়াটা বন্ধ হয়।
নিরাপদ পানি প্রাপ্তির বিষয়ে আইনুন নিশাত বলেন, পাবলিক হেলথের দায়িত্বে যারা আছে, তাদের কাজ হচ্ছে সাধারণ নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা। নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণে ওয়াসার পরিদর্শন টিম থাকা উচিত। বিএসটিআই, পরিবেশ অধিদফতরের সার্টিফিকেট থাকা উচিত। ঢাকা সিটি করপোরেশনের খাদ্য নিরাপত্তা টিমকে গতিশীল করা উচিত। বড় বড় জারে করে বিভিন্ন অফিসে যে পানি সরবরাহ করা হয়, তা-ও পরীক্ষা করে মান নিশ্চিত করা উচিত। সরকার এই দায়িত্ব এলজিইডি, ওয়াসা, পাবলিক হেলথ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অথবা সিটি করপোরেশনকে দিতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান কারিকাকে বলেন, পরিকল্পনায় ঢাকার জন্য পাঁচটা এমআরটি লাইনের কথা বলা আছে। এগুলো হলে যানজট সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। ঢাকা সিটির জন্য কয়েকটা রুট ভাগ করে বাসগুলোকে একেকটা কোম্পানির আওতায় নিয়ে এলে সড়কে বাসগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে না। ড্রাইভারদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ দিলেও ভালো ফল আসবে, তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব থাকবে না। একই সঙ্গে পথচারীরা সড়কের আইন-কানুন মেনে চললে সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষা হবে।
শব্দদূষণ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান বলেন, যেখানে হর্ন বাজানো যাবে না, সেখানে সাইন দেওয়া থাকে; যেমন হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজের সামনে। তবুও আমাদের দেশে হর্ন বাজানো হয়। এটা নির্ভর করে ড্রাইভারের শিক্ষা, সচেতনতা ও মানসিকতার ওপর। এজন্য তাদের সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধে আইন আছে। এটার প্রয়োগ করা উচিত।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কারিকাকে বলেন, বায়ুদূষণ, বন উজাড়, শিল্প, কৃষি জমির সুরক্ষাÑ এই চারটা বিষয় এ বছর প্রাধান্য পাওয়া উচিত। সরকার যত উন্নয়নের কথা বলে তত কিন্তু আমাদের বনের জায়গা চলে যাচ্ছে। পাহাড় চলে যাচ্ছে। নতুন নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন মানেই কৃষি জমির ওপর আগ্রাসন। সেখানে যেন ভারসাম্য বজায় থাকে, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বায়ুদূষণ রোধে একটা আইন করছে সরকার। আমরা সেই আইন প্রণয়নে সরকারকে সাহায্য করছি। একই সঙ্গে আমরা সরকারের সঙ্গে বিকল্প উন্নয়ন উপকরণ; যেমন পুরনো ইটের বদলে বিকল্প হিসেবে কী আনা যায় এসব নিয়েও দর কষাকষি করব।
পরিবেশ অধিদফতরের কেস প্রকল্পের পরিচালক অতিরিক্ত সচিব ড. এসএম মঞ্জুরুল হান্নান খান বলেন, বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতা বাড়াতে অনেক কাজই করা হচ্ছে। টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া, মিটিং করা, সেমিনার করা, ওয়ার্কশপ করা, এগুলো সবই হচ্ছে। আমরা মাঝে মাঝেই মোবাইল কোর্ট করি। জরিমানা করি। ড্রাইভারদের সঙ্গে আলোচনা সভা করি। আগের তুলনায় সচেতনতা বেড়েছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আছে জানিয়ে কেস প্রকল্পের পরিচালক বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অনেক বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা সিরিয়াসলি এই দায়িত্ব পালন করব। ইটভাটা থেকে ৬০ ভাগ দূষণ হয়। পরিবেশ আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে উঠবে। বিলটা পাস হয়ে গেলে আমরা পুরনো পদ্ধতির ইটভাটাগুলোকে আর চলতে দেব না।
বায়ু ও শব্দদূষণ রোধে পুরনো গাড়িগুলোর রুট পারমিট না দিতে বিআরটিএকে চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গেও সভা করেছি। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সভা করেছিÑ রাস্তায় যেন সকালে-বিকালে তারা পানি দেয়। এতে ধুলাবালি কম উড়বে।
বায়ুর অবস্থা জানতে পরিবেশ অধিদফতরের ১১টা সিএএমএস স্টেশন আছে জানিয়ে মঞ্জুরুল হান্নান খান বলেন, আরও পাঁচটা স্থায়ী স্টেশন করা হচ্ছে। ১৫টা মোবাইল স্টেশন করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়, যখন কাজ চলে সেখানে বায়ুদূষণ হচ্ছে কিনা, এটা মাপার জন্য। এগুলো চলতি বছরই শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আলাদা একটা প্রজেক্ট হয়েছিল, আবার নতুন একটা প্রজেক্ট শুরু হবে। নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন নিয়ন্ত্রণে আমরা মোবাইল কোর্ট করব।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা’ অংশের একটি পয়েন্টে বলা হয়েছে, ‘উৎপাদনশীল বনের আয়তন ২০১৫ সালের ১৩.১৪ শতাংশ হতে ২০ শতাংশে উন্নীতকরণ; ঢাকা ও অন্য বড় নগরগুলোতে বায়ুর মান উন্নয়ন এবং বিশুদ্ধ বায়ু আইন প্রণয়ন; শিল্প বর্জ্যরে শূন্য নির্গমন/নিক্ষেপণ প্রবর্ধন করা; জলাভ‚মি সংরক্ষণ আইন মেনে বিভিন্ন নগরের জলাভ‚মি পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা করা; উপক‚লরেখাব্যাপী ৫০০ মিটার চওড়া স্থায়ী সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে।’ বিদায়ী বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের দেওয়া এই ইশতেহার বাস্তবায়ন হলে ঢাকার বায়ু নির্মল হতে পারে।

NO COMMENTS

Leave a Reply