Home মূল কাগজ দেশি স্বাদে ‘পাতুরি’

দেশি স্বাদে ‘পাতুরি’

0 64

সাবরিনা মিলি


কোলাহলপূর্ণ এই নগরীতে ফুডকোর্ট বা রেস্টুরেন্টগুলো যেন মানুষে-মানুষে আরও জনাকীর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব রেস্টুরেন্টের অধিকাংশটিতেই মিলবে থাই, চাইনিজ, ইতালিয়ান, আমেরিকান ধাঁচের বাহারি খাবার। তরুণ প্রজন্মও অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে এসব খাবারে। ছোট মাছ বা কাঁটাওয়ালা মাছ, ভর্তা, ভাজি এবং দেশি মুরগিতেও নাকি তাদের রুচি হয় না! চিতল মাছের কোপ্তা, সরষে ইলিশ, লাবড়া, ইঁচড়, ভেটকি কিংবা চিংড়ি পাতুরি কী জিজ্ঞেস করলে অনেকে অবাক হয়।
অথচ এগুলোই আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা অন্যদের থেকে আলাদা করেছে বাঙালিকে। কালের আবর্তে হারিয়ে যাওয়া এই খাবারগুলোকে একশ্রেণির মানুষ এই শহুরে পরিবেশে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের জন্য, যারা এখনো এই ধরনের খাবারের স্বাদ ভুলে যাননি। যারা মা কিংবা নানি-দাদির হাতের খাবারের স্বাদ পেতে চান তাদের জন্য বাহারি খাবারের আয়োজন নিয়ে অপেক্ষা করছে ‘পাতুরি’।

রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় একপাশে টেরাকোটার কাজ, অন্যপাশে বাঁশের সারি, কলাবতী আর বাহারি লতার ফাঁকে ফাঁকে দেখা দেবে সবুজ ঘাস। কিছুদূর এগোলেই মূল ভবনের দরজা। দোতলা ভবনটির ভেতরের আলো-বাতাসের প্রাচুর্যতা আপনাকে ঠিক মুগ্ধ করবে তা নয়, বরং কিছুটা অবাক হবেন। প্রতিটি রুমের সঙ্গেই রয়েছে বড় বড় গ্লাস প্যানেল। ধবধবে সাদা এবং বাদামি রঙের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে নানান ধরনের চিত্রকল্প। যা খাওয়ার সময় দেবে ভিন্ন এক অনুভূতির জোগান। ভবনটির নিচতলায় বাইরে বাঁশের সারি, কলাবতী আর বাহারি লতার ফাঁকে ফাঁকে সবুজের সমারোহে রয়েছে বসার ব্যবস্থা। শীতের সময় এটাই মুখর হয়ে ওঠে বারবিকিউ-পার্টিতে।
সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই নজরে পড়বে সাদা ধবধবে দেয়ালজুড়ে থাকা নানা ধরনের চিত্রকল্প। দোতলাও খোলামেলা পরিপাটি পরিবেশ। প্রতিটি দেয়ালে চিত্রকল্প। এছাড়া যেকোনো পাশ থেকেই তাকালে ভার্টিক্যাল সবুজের পাশাপাশি কলা গাছ, বাঁশ অথবা কোনো-না-কোনো সবুজে চোখ আটকাবেই।
আসা যাক খাবারের মেন্যুতে। গরুর মাংসের বাহারি পদের নাম পড়তে পড়তেই জিভে জল এসে যাবে। গরুর মাংসের ভুনা, কাঁঠালের বিচি দিয়ে গরুর মাংস, গরুর মাংসের রোস্ট, ঝুরা গরুর মাংস, গরুর চাপ, গরুর শাহি চাপ, মগজ ভুনা, কলিজা ভুনা ইত্যাদি। এ ছাড়াও পালংশাক, গোটা রসুন, সাতকড়া, বাঁধাকপি দিয়ে গরুর মাংসের আলাদা রেসিপির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন এলাকার সব লোভনীয় মাংসের রেসিপি।

মুরগির মাংসপ্রিয়দের জন্য পাতুরির নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি রয়েছে আচারি মুরগি, কাঁঠালের বিচি দিয়ে মুরগির মাংস, গোটা রসুন দিয়ে মুরগির মাংস এবং চিকেন তান্দুরি।
মাছপ্রেমীদের জন্য এখানে রয়েছে নানান আয়োজন। চিংড়ি ও ভেটকি মাছের পাতুরির পাশাপাশি রয়েছে সরষে ইলিশ, ইলিশ কারি, চিতল কোপ্তা, আইড় মাছ, চিংড়ির দোপেঁয়াজা, কাঁচকি চচ্চড়ি, শুঁটকি ভুনাসহ বেশকিছু মাছের কারি।
যদি মাছে-ভাতে বাঙালিয়ানার পাক্কা স্বাদ নিতে চান, তবে অর্ডার দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার নাকে বাসমতি চালের গরম ভাতের গন্ধ খিদেটাকে আরেকটু চাঙা করে দেবে। সঙ্গে পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন ভর্তা, ভাজি, মাছ কিংবা মাংসের যেকোনো পদ। তবে পাতুরিতে গিয়ে ভেটকি পাতুরি না খেয়ে ফিরলে যাওয়াটা একটু অপূর্ণই থেকে যায়। বাসমতি চালের গরম ভাতের সঙ্গে ভেটকি পাতুরির স্মোকি স্বাদটা চমৎকার!
ডেজার্ট আইটেমেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ফিরনি, মিষ্টিদই, পাকান পিঠা, পাটিসাপটা ও নারকেল পিঠার পাশাপাশি কুলফিপ্রেমীরা কুষ্টিয়ার বিখ্যাত আদি কুলফির স্বাদ নিতে পারবেন চাইলেই। আর বন্ধুদের নিয়ে বিকেলের আড্ডায় চা-কফিতে চুমুক দিতে চাইলে পাতুরিতে মিলবে মসলা চা, রোজ চা, তাজা পুদিনা পাতার চা, রোস্টেড কফি ইত্যাদি।

ঠিকানা : পাতুরি, বাড়ি : ০৩, রোড : ১০বি, ব্লক : এইচ, বনানী, ঢাকা। ফোন : ০১৮৪১-৭৭৯৮৮৯

NO COMMENTS

Leave a Reply