Home ঠিকানা নগর ঢাকার নতুন আয়োজন সেহেরি পার্টি

নগর ঢাকার নতুন আয়োজন সেহেরি পার্টি

কারিকা ডেস্ক
দ্রুত পরিবর্তনশীল নাগরিক সমাজে প্রতিনিয়ত নানা বৈচিত্র্যের আগমন ঘটে। তারুণ্যের চাহিদার মুখেই এসব বিষয় বেশি বিবর্তিত হয়। কোনো এক সময় রাতগুলো ছিল নিজেকে গুটিয়ে রাখার সময়। ধীরে ধীরে তারুণ্যের কাছে পতন হতে থাকে রাতের। তারা রাতকেও জয় করে ফেলে। জয় করে অন্ধকারের বাধাকে। তারুণ্য মূলত ঘুমায় না। তারুণ্য জেগে থাকার গল্পেই বেশি মুখর।
পবিত্র রোজার সময়গুলোতে সেহরি-ইফতার নিয়ে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন চমক থাকে সবসময়। সে ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছর ধরে শুরু হয়েছে রেস্টুরেন্টে রেস্টুরেন্টে সেহরির আয়োজন। এই আয়োজন এ কদিনেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলেছে।
রাত একটু গভীর হলেই মূলত তরুণের দল জেগে ওঠে সোডিয়ামের আলোয়। দলবদ্ধভাবে বেরিয়ে পড়ে সেহরি খেতে। জ্যাম আর অব্যবস্থাপনায় দিনের বেলায় যখন প্রায় সব আয়োজন নিয়ে ব্যর্থ এই শহর, তখন সেহরি একটা আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। অফিস শেষে ইফতার হোক বা রাতের খাবারের দাওয়াত সবকিছু নিয়ে একটা বড় ঝুঁকি থেকে যায় সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে। সেদিক বিবেচনায় সেহরির আয়োজন অনেক বেশি সময়বান্ধব।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এই বিষয়টা আরও বেশি বিস্তৃতি লাভ করেছে। খাওয়ার পর দল বেঁধে সেলফি তোলা এবং তা ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে আপলোডের মাধ্যমে তা যেমন নিজের বিষয়টা জানানো যাচ্ছে তেমনি অন্যরাও তা থেকে উৎসাহিত হচ্ছে। জেনে যাচ্ছে, শহরের কোথায় কোথায় হয় সেহরির আয়োজন। ফলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে এই সেহরি নিয়ে আয়োজনের সমাহার।
ঢাকার কলাবাগান থেকে পুরান ঢাকায় পরিবার সঙ্গে সেহরি খেতে এসেছেন নেহা চৌধুরী। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি প্রতিবছরই এখানে সেহরি খেতে আসেন। ‘এখানকার খাবার স্বাস্থ্যকর আর মজার হওয়ায় প্রতিবার আমরা সেহরি খেতে আসি।’ বিশেষ করে চিকেন মোসাল্লাম, খিচুড়ি ভালো লাগে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী পুরান ঢাকায় সেহরি খেতে এসেছেন,
কেন এখানে খেতে আসেন এমন প্রশ্নে সোজাসুজিই জবাব তাদের ‘পুরান ঢাকার প্রতিটা রেস্টুরেন্টের খাবারগুলো অনেক মজার। আমরা দলবেঁধে খেতে আসি’
ভালো লাগে তাই। দামের হিসাব করার চেয়ে আনন্দ পাওয়াটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান এ তরুণ শিক্ষার্থীর দল।
ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি ইদানীং করপোরেট অফিসগুলো সেহরি পার্টির বিশেষ আয়োজনের পসরা নিয়ে আসছে তার ক্লায়েন্ট এবং কলিগদের জন্য। পিআর প্রতিষ্ঠান এক্সট্রা পিআর কয়েক বছর ধরে তার ক্লায়েন্টদের জন্য সেহরি পার্টির আয়োজন করছে। সে সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জোবায়ের রুবেল বলেন, আমরা আমাদের ক্লায়েন্ট, সাংবাদিক বন্ধু এবং শুভাকাক্সক্ষীদের জন্য প্রতিবছরই এই আয়োজন করি। আমরা একটু ভিন্নভাবে নিজেদের উপস্থাপন এবং সবার সঙ্গে একটা মিলনমেলা করতে চাওয়া থেকেই এই আয়োজন করে আসছি।
প্রতিবছর ক্রমপ্রসারমান এই সেহরি পার্টি শহরজুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই এটা ছড়িয়ে পড়ছে। উত্তরা, বনানী, গুলশানের অভিজাত হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে পুরনো ঢাকার আল রাজ্জাক, বিসমিল্লাহ, নান্না হোটেল সব জায়গাতেই আয়োজন করা হচ্ছে সেহরির।
ঢাকার রেস্টুরেন্টে সেহরির আয়োজনে মোটামুটিভাবে মুগলীয় ও বাঙালি খাবারের আয়োজন থাকে। বিরিয়ানি, সাদা ভাত, সাদা পোলাও, খাসির রেজালা, লেগরোস্ট, গ্লাসি, গরুর কালা ভুনা, মোরগ মোসাল্লাম, চিকেন কারি, চিংড়ি, রুই, পাবদা ও ইলিশ ভুনা, ডাল ইত্যাদি নানা জনপ্রিয় খাবারের আইটেম থাকে। সঙ্গে লাচ্ছি, ফালুদা, ফলের রস, দই, ফিরনি, কোমল পানীয়, চা-কফি তো আছেই।
এখন পর্যন্ত সেহরির আয়োজনে সাড়া কেমন জানতে চাইলে আল রাজ্জাকের ম্যানেজার রানা বলেন, কেবল মানুষ আসা শুরু হয়েছে। ১০ রোজার পর তো বসার জায়গাই পাওয়া যাবে না এমন অবস্থা দাঁড়ায়। আমরা আশাবাদী এবারও জমবে। নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যারা খেতে আসেন তাদের জন্য বংশাল থানার পুলিশ নিরাপত্তা দেয়। কোনোরকমের ঝামেলা এর আগে এদিকে হয়নি।
আর ক্রেতা সমাগমে সাড়া কেমন আসছে জিজ্ঞেস করলে স্টার কাবাবের মজিবুর রহমান বলেন, এখনো জমে ওঠেনি, খুব বেশি সাড়া পাচ্ছি না। তবে রোজা এক সপ্তাহ হয়ে গেলে হয়তো ভিড় বাড়বে।’ তার কাছ থেকে আরও জানা যায়, শুধু ধানমণ্ডি নয়, অন্যান্য এলাকা থেকেও মানুষ সেহরি খেতে স্টার কাবাবে আসেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply