Home মূল কাগজ নতুন এলইডি বাতিতে বদলে গেছে রাতের ঢাকা দক্ষিণ সিটি

নতুন এলইডি বাতিতে বদলে গেছে রাতের ঢাকা দক্ষিণ সিটি

0 242

কারিকা প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার সড়ক বাতিতে পরিবর্তন আসার পর বদলে গেছে নগরীর এ অংশের চেহারা। পুরনো সোডিয়াম বাতির বদলে এখন অত্যাধুনিক বিদেশি এলইডি বাতির আলোয় সন্ধ্যা হলেই ঝলমলে হয়ে উঠছে দক্ষিণ ঢাকা। অত্যাধুনিক বাতি জ্বলে ওঠায় রাতের ফাঁকা সড়কে অনেকেই এখন ঘুরতে বের হচ্ছেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি নির্বাচনে ঢাকা শহরকে আধুনিক ও ঝকঝকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ছিল তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনের। সবুজ ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নগরবাসীর মনোযোগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচিত হওয়ার পর সাঈদ খোকন বিষয়টি সরকারের কাছে উপস্থাপনে সক্ষম হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর গুরুত্ব অনুধাবন করেন। ফলে উন্নত বিশ্বের আদলে গ্রহণ করা হয় এলইডি বাতি প্রকল্প। প্রায় ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে দক্ষিণ ঢাকার সড়কে ৪১ হাজার ১৩৩টি এলইডি সড়কবাতি লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া নবগঠিত ১৮টি ওয়ার্ডেও ১৫ হাজার এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে।
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখানকার পুরনো ৫টি অঞ্চলের জন্য মোট ১০টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৪০ ওয়াটের ২৭ হাজার ৫১টি, ৮০ ওয়াটের চার হাজার ৪৩টি, ১২০ ওয়াটের তিন হাজার ২০২টি, ১৫০ ওয়াটের তিন হাজার ৮১১টিসহ মোট ৩৮ হাজার ৯৮টি বাতি স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত প্রকল্পে নতুন করে আরও তিন হাজার ৩৫টি বাতি লাগানো হয়। প্রতিটি বাতির গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার ঘণ্টা। এই হিসেবে দিনের ১২ ঘণ্টা বাদ দিলে এই বাতির গ্যারান্টি দাঁড়ায় প্রায় ১১ বছরের বেশি। বাতিগুলো এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত যে, দিনের আলো শেষে রাতের অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে।
ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প-পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে এই প্রথম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এই বাতির অনেক সুফল রয়েছে। সড়কে এখন ছিনতাই কম হচ্ছে। মানুষ রাতে অনায়াসে হাঁটতে পারেন। নারীরাও নির্ভয়ে চলতে-ফিরতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, বাতিগুলো যেকোনো স্থান থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাতি নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক পাওয়ার লাইট কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। রাতে প্রয়োজন অনুপাতে আলো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিগুলো জ্বলে ও নেভে। প্রতিটি বাতি দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। বাতির আলো চোখের জন্যও কোনোরকম ক্ষতিকর নয়।

NO COMMENTS

Leave a Reply