Home সর্বশেষ নতুন বছরে আসছে বাড়তি বাড়িভাড়ার বোঝা

নতুন বছরে আসছে বাড়তি বাড়িভাড়ার বোঝা

0 211

নিয়ন্ত্রণে নেই ‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন’

কারিকা প্রতিবেদক

ভাড়াটিয়াদের জন্য নতুন বছর আসছে বাড়তি বাড়িভাড়ার বোঝা নিয়ে। ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ জায়গায় বাড়িওয়ালারা নতুন বছরে ভাড়াটিয়াদের বাড়তি বাড়িভাড়া দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে নোটিশ দিয়েছেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য কার্যকর করে সরকার। তখন বাড়িওয়ালারা এক দফা বাড়িভাড়া বাড়িয়েছিলেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে বছরান্তে আরেক দফা বাড়িভাড়া বাড়ানোর জন্য নোটিশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শিক্ষা, পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয়।
জীবনযাত্রার অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে বাড়তি বাড়িভাড়ার বোঝা যোগ হওয়ায় দিশেহারা রাজধানীর মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষেরা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) হিসাবে, ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে ৩৮৮ শতাংশ। ভাড়াটিয়া ঐক্য পরিষদ বলেছে, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে আইন আছে। রাজধানীর কোন এলাকায় বাড়ি ভাড়া কত হবে-সেটিও নির্ধারিত। কিন্তু এসব শুধু কাগজ-কলমেই, বাস্তবে কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে বাড়ির মালিকরা এমন স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন চান ভাড়াটিয়া ও ভোক্তা-অধিকার কর্মীরা।
১৩ বছর ধরে রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন শামসুর রহমান। প্রথমে যখন বাসায় ওঠেন, ভাড়া ছিল আট হাজার টাকা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম হারে বাড়িয়ে এখন প্রতি মাসে তাকে ২২ হাজার টাকা বাসাভাড়া গুনতে হয়। ছেলেমেয়ের স্কুল এবং তার অফিস কাছে হওয়ায় বেশি ভাড়ার বোঝা নিয়েই ওই বাসায় ভাড়া করছেন তিনি।
শুধু কলাবাগান কিংবা মোহাম্মদপুর নয়, রাজধানীসহ সারা দেশেই, বিশেষত নগর ও শহরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বাসাভাড়া।
রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, কাঁঠালবাগান, গ্রিন রোড, ধানমণ্ডি, রামপুরা, সেগুনবাগিচা, বংশাল, গুলশান, বনানী, উত্তরা, বসুন্ধরা, আগারগাঁও, শ্যামলী, মগবাজার, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকার ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরই নানা অজুহাতে বাড়ির মালিক ভাড়া বাড়ান। আরোপ করা ভাড়া না দিতে চাইলে দেয়া হয় বাড়ি ছাড়ার নোটিশ। বাড়িভাড়া সংক্রান্ত আইন না জানায় এবং আইনের প্রয়োগ না থাকায় অনেকটা নিরুপায় হয়ে বাসিন্দারা মেনে নেন বেশি ভাড়ার শর্ত।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ যেসব এলাকায় বসবাস করে সেখানে চাহিদার তুলনায় বাড়ির সংখ্যা কম। ফলে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বাড়িভাড়া, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল বাড়ায় ঢাকাবাসীর দৈনন্দিন ব্যয়ও বাড়ছে। বাড়িভাড়া নিয়ে যে আইন আছে, তা ভাড়াটিয়া-সহায়ক নয়। সরকারের আইন প্রয়োগের বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি গৃহায়ণ কর্মসূচির উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৫ নম্বর ধারা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে গত ১ ডিসেম্বর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া ‘ভাড়া নিয়ন্ত্রক’ নিয়োগসহ বাড়িভাড়ার বিদ্যমান অসঙ্গতি দূর করে মানসম্মত বাড়িভাড়া নির্ধারণ ও সুপারিশ প্রণয়নে অনুসন্ধান আইন, ১৯৫৬-এর ৩(১) ধারা অনুযায়ী অনুসন্ধান কমিশন গঠনে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না-রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রুল প্রসঙ্গে ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলছেন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের অসঙ্গতি দূর করে এটাকে যুগোপযোগী করা জরুরি ও অত্যাবশ্যক। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ভাড়া নির্ধারণ পদ্ধতি-সংক্রান্ত ধারাটি কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট সম্প্রতি যে রুল জারি করেছেন আমরা তা স্বাগত জানাই। বাড়িভাড়া আইনের বিদ্যমান অসঙ্গতি দূর করে মানসম্মত বাড়িভাড়া নির্ধারণের যে সুপারিশ হাইকোর্ট করেছেন, তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও বর্তমানে ভাড়াটিয়াদের প্রাণের দাবি।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি সম্পর্কে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে হাইকোর্টকে মতামত জানাবেন এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
অন্যদিকে বাড়ির মালিকরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, তার ওপর বাড়িভাড়ার টাকার ওপর অনেক মালিকই নির্ভরশীল। সেই সঙ্গে বাড়ছে নানা ধরনের ট্যাক্স। বাড়ির মেনটেইনেন্স খরচও আগের থেকে অনেক বেড়েছে। এসব কারণে ভাড়া বাড়াতে হয়। তাদের দাবি, অনেক বাড়িওয়ালার কোনো ব্যবসা বা ইনকাম থাকে না, বাড়িভাড়ার ওপরই নির্ভর করতে হয়। তাদের সাংসারিক খরচ মেটাতে অনেক হিমশিম খেতে হয়। তাই বাড়িভাড়া না বাড়িয়ে উপায় থাকে না।

NO COMMENTS

Leave a Reply