Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার নববর্ষে সাজুক ঘর

নববর্ষে সাজুক ঘর

কামরুজ্জামান কাজল
‘এসো হে বৈশাখ…এসো…এসো…’ গানের সঙ্গে সঙ্গে বরণ করা হয়ে গেল নতুন বছরকে। নতুন বছরে নিজের ঘরবাড়ি-গুছিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। কেউবা আবার সময়ের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। গোছানো হয়নি প্রিয় শান্তির নীড়। কিন্তু মনের কোণে তো উঁকি দিয়ে আছেই নিজের ঘরটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার। ঘর-দোর স্বপ্নের মতো কিংবা শান্তির পরশে সাজিয়ে নিতে চান যারা, তাদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ফারজানা’স ব্লিজের স্বত্বাধিকারী ফারজানা গাজী।

‘ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে? নতুন বছরে নিজেকে নতুন করে পেতে আমরা নতুন পোশাকে সেজেছি। সাজিয়েছি পরিবারের সবাইকে। অনেকে সাজিয়েছি ঘর-দুয়ারও। যারা পারেননি তারা এবার সময়-সুযোগ করে সাজিয়ে নিতে পারেন। গত বছরের নতুন সব হোম ইন্টেরিয়র ছিল থ্রিডি ফ্লোর ডিজাইন, ভিন্ন মাত্রার কিচেন ক্যাবিনেট, অন্দর আলোকিত করতে একসেন্ট লাইটিং, দেয়ালে ইলুশনের ছোঁয়া, ঘর সাজাতে আয়নার ব্যবহার, বহুদিনের অব্যবহৃত অ্যান্টিক পিস দিয়ে ঘর সাজানো। এমন অনেক বিষয় এসেছে অন্দরসজ্জায়।’ বিগত বছরে ঘর সাজানোতে কোন কোন বিষয় উল্লেখযোগ্য ছিল তা বর্ণনা করেন ফারজানা।
আপনার সাজানো-গোছানো ঘরটি আপনাকে প্রফুল্ল করে তুলবে প্রতি মুহূর্তে। ঘরের পরিবেশ সুন্দর তো মনের পরিবেশও সুন্দর। ঘরের সাজ অনুষঙ্গ সবসময়ই ব্যক্তিত্বের পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই ঘরদুয়ার এবার সাজিয়ে নিতে পারেন সুন্দর করে।
বসার ঘরটাতেই বরণ করা হয় অতিথিদের। এই ঘরটা তাই একটু গোছানো দরকার নিয়ম করে। ঘরে যদি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে চান, তবে প্রথমেই বদলে ফেলতে পারেন ঘরের পর্দা। যদি কেনার দরকার না হয় তবে আগেরগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ইস্ত্রি করলেই দেখবেন ঘর কেমন ঝকঝকে। এতে করে উজ্জ্বল হবে পুরো ঘরের সাজসজ্জাই। আসবাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে হয়তো একই স্থানে রয়েছে। সেগুলো জায়গা বদল করে রাখুন। বেশ পরিবর্তন চলে আসবে ঘরে। কাঠের আসবাবগুলোর রঙ বিবর্ণ হয়ে গেলে পলিশ করিয়ে নিন। নতুনের মতোই চকচকে হয়ে উঠবে। বসার ঘরে ক্যাকটাস কিংবা বনসাই রাখতে পারেন। দরজার বাইরে পাম ট্রি রাখা যেতে পারে। দেয়ালজুড়ে পাতাবাহারও রাখতে পারেন।
ঘরের পরিবেশে থাকা চাই স্নিগ্ধতা। মিষ্টি টুংটাং শব্দে অতিথিকে স্বাগত জানাতে দরজার সামনে ঝুলিয়ে নিন নজরকাড়া ডিজাইনের একটি উইন্ড চাইম। ফুল সাজিয়ে রাখার জন্য ক্রিস্টালের ফুলদানি কিনতে পারেন। মেঝেতে বিছানো শতরঞ্জি বা কার্পেটটি বদলে নতুন ডিজাইনের একটি বিছিয়ে দিন। পাশেই বসার ব্যবস্থা করে আরামদায়ক কিছু কুশন ছড়িয়ে দিন। একঘেয়েমি সাজ থেকে মুক্তি মিলবে কিছুটা হলেও। ঘরে মাটির পটারি থাকলে সেখানে নতুন রঙ লাগিয়ে ঝকঝকে করে তুলুন। চাইলে আইকা দিয়ে ছোট ছোট গ্লাস বসিয়ে সাধারণ পটারিকে নতুন আমেজ দিতে পারেন। সম্ভব হলে দেয়ালগুলোতেও দিতে পারেন রঙের ছোঁয়া। দেয়ালে সুন্দর একটি পেইন্টিং টানিয়ে দিতে পারেন।

একরাশ ক্লান্তি নিমিষে মুছে দিতে পারে আপনার প্রিয় শোবার ঘরটি। এই ঘরটাতে নিয়ে আসতে পারেন খানিকটা বিশেষত্ব। বিছানার চাদর ও পর্দা বদলে ফেলার পাশাপাশি পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন দীর্ঘদিনের টেবিল ল্যাম্পটিও। ভিন্নতা চলে আসবে ঘরের সাজে। মাঝে মাঝে এই ঘরের আসবাবপত্রও জায়গা বদলে নিতে পারেন। এতে করে একঘেযেমি কেটে যাবে অনেকখানি। অগোছালো অবস্থায় থাকা টেবিল কিংবা বুক শেলফটিকে একটু যত্ন নিয়ে গুছিয়ে ফেলুন। ঘরের যেখানেই যা কিছু থাকুক না কেন তা যদি একটু পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখেন, তাহলে দেখবেন সেই ঘর মন ছুঁয়ে যাবে আপনার। ঘরের ফ্যান ও লাইটও মুছে নিন। ঝকঝকে শোবার ঘর স্বস্তি নিয়ে আসবে মনে। শোবার ঘরে শেলফের ওপরে রাখতে পারেন তরতাজা কিছু ফুল। ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস চারপাশ মাতিয়ে রাখবে। সেই সঙ্গে মেতে থাকবে আপনার মনও।
অতিথিদের খাবার পরিবেশন করতে হয় ডাইনিং রুমে। সেজন্য আকর্ষণীয়ভাবে খাবার রুম ও টেবিল সাজিয়ে তুলুন। টেবিল ক্লথটি পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। চাইলে ক্লথের পাড় ঘেঁষে লেইস লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে পুরনোটা বদলে নতুন একটি কিনে নিলেই ভালো করবেন। টেবিল ম্যাটগুলোও পরিবর্তন করে নেওয়া যায়। পর্দা ও দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করুন টেবিল ক্লথ। খাবারের টেবিল কিংবা খাবারের ঘরের এককোণে রাখতে পারেন কিছু গাছ। সবুজে ছেয়ে থাকলে তা প্রশান্তি দেবে মনে। অতিথি যখন আপনার ঘরে আপ্যায়িত হবেন, তখন না হয় রাখলেন ফুলদানি ভর্তি তাজা ফুল। ঘর ও মন মাতিয়ে রাখবে যা সবসময়।

NO COMMENTS

Leave a Reply