Home চট্টগ্রাম পাঁচ বছর পেরুলেও ২৫ ওয়ার্ডে চালু হয়নি নগর ডিজিটাল সেন্টার

পাঁচ বছর পেরুলেও ২৫ ওয়ার্ডে চালু হয়নি নগর ডিজিটাল সেন্টার

0 244

কারিকা প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বারবার উদ্যোগ নেওয়ার পরও নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের সবগুলোতে ডিজিটাল সেন্টার (তথ্য সেবা কেন্দ্র) স্থাপন করতে পারেনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সাড়ে পাঁচ বছরে মাত্র ১৬টি ওয়ার্ডে সেন্টারের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়েছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ডিজিটাল সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল করপোরেশন। দীর্ঘ সময়েও ডিজিটাল সেন্টার চালু না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন নিয়োগ পাওয়া উদ্যোক্তারা। অনেকে অন্য পেশা বা ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। অনেকে সেন্টারগুলো চালু হওয়ার আশায় বসে আছেন। সেন্টার চালু না হওয়ার জন্য জায়গা সংকটকে প্রধান কারণ বলছেন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়ের একটি কক্ষ ডিজিটাল সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এসব কক্ষে বসে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা দেবেন উদ্যোক্তারা। সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় ২০১০ সালের নভেম্বরে ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়। এরপর দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৩ সালের এপ্রিলে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ওই মাসে প্রতি ওয়ার্ডে দুজন করে উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হয়। ৮২ উদ্যোক্তার মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ১৫ জন। অথচ প্রতিটি সেন্টারে একজন পুরুষের পাশাপাশি একজন নারী উদ্যোক্তা নির্বাচন করার বিধান ছিল। আবার সেন্টার চালু না হওয়ায় এদের ৬৮জনই অন্য পেশায় চলে গেছেন।
প্রায় তিন বছর পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় করপোরেশন। দ্বিতীয় দফায় ৬৫ নকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পুরনো উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১০জন পুরুষ ও চারজন নারী এই দফায় নিয়োগ পান। প্রথম তিন বছরে মাত্র একটি সেন্টার চালু হয়েছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও ২১টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ১৬ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ডিজিটাল সেন্টার চালুর নির্দেশ দেয়। ওই মাসেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাউন্সিলরদের ওয়ার্ড কার্যালয়ে ডিজিটাল সেন্টারের জন্য কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ডিজিটাল সেন্টার চালুর জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়ের প্রবেশমুখে নূন্যতম ১৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি কক্ষ বরাদ্দ দিতে হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে।
২০১৬ সালের মার্চে মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সেন্টার স্থাপন ও কার্যক্রম সন্তোষজনক হলেও সিটি করপোরেশনগুলোর পদক্ষেপ আশানুরূপ নয়।
সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট করপোরেশনের কয়টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানায়, ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টিতে কার্যক্রম চালু আছে।
তবে করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, ২২টির মধ্যে পুরোদমে চালু রয়েছে মাত্র ১৬টি। বাকিগুলো কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, অনেক ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার চালু করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। আবার অনেকগুলো ওয়ার্ড কার্যালয় পুরোনো হয়ে গেছে। তাই ইচ্ছে থাকা সত্তে¡ও সবগুলো ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন বিভিন্ন ওয়ার্ড কার্যালয় ভেঙে নতুনভাবে করা হচ্ছে। তখন জায়গা দেওয়া হবে।

হতাশ উদ্যোক্তারা
২০১৩ সালের এপ্রিলে নগরের দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের ডিজিটাল সেন্টারের জন্য উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. জামশেদ হোসাইন। দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ড কার্যালয়ে সেন্টারের জন্য জায়গা পাননি তিনি। পরে চলতি বছরের মার্চে করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে বাইরে কক্ষ ভাড়া করে সেন্টার চালু করেন তিনি।
নগর ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জামশেদ হোসাইন বলেন, বারবার বলার পরও ওয়ার্ড কার্যালয়ে তিনি জায়গা পাননি। পরে নিজের খরচে বাইরে সেন্টার চালু করতে হয়েছে। এখন তাকে ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট বিল সব ধরনের খরচ দিতে হয়। যদি কার্যালয়ে কক্ষ পেতেন তাহলে তাকে এই বাড়তি টাকা খরচ করতে হতো না। অনেকের পক্ষে তা সম্ভব না হওয়ায় বসে আছেন।
একজন নারী উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকার পরও জায়গা না পাওয়ায় এখন আর তার আগ্রহ নেই।
ডিজিটাল সেন্টার চালুর উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়ার্ড কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা নাগরিকেরা যাতে এক জায়গা থেকেই সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের তথ্য ও অনলাইন সেবা (জন্মসনদ, নাগরিকত্ব সনদ তৈরি, পাসপোর্টের ফরম পূরণ করা, ফটোকপি করা, কম্পিউটার প্রিন্ট করা, বিভিন্ন ফরম ডাউনলোড করে দেওয়া) পেতে পারেন। এসব সেন্টার থেকে ১০৬ ধরনের সেবা দেওয়া হয়। সেন্টারগুলো যারা পরিচালনা করবেন, তাদের পরিচয় হবে ‘উদ্যোক্তা’। তারা সরকার বা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে বেতন পাবেন না। সেবার ধরন অনুযায়ী নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ নেবেন তারা।

NO COMMENTS

Leave a Reply