Home মূল কাগজ পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পৃথিবীর ফুসফুসে পরিনত হতে পারে।আলেক্সান্ডার খাজিন, এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজের...

পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পৃথিবীর ফুসফুসে পরিনত হতে পারে।আলেক্সান্ডার খাজিন, এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজের আন্তর্জাতিক প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট

সাক্ষাৎকার গ্রহনঃ ফারুক আহমেদ


প্রশ্ন : বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। আমরা কি এটা তৈরি করতে সক্ষম? রোসাটমের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে?
উত্তর : বাংলাদেশের এরই মধ্যে পারমাণবিক কেন্দ্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ, পেশাদার ব্যক্তি রয়েছেন। যদিও আইএইএ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর কাতারে পড়ে, যারা সবে নিজেদের পারমাণবিক বিদ্যুৎশিল্প গড়ে তুলতে শুরু করেছে। এ কারণেই রাশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ লক্ষ্য হলো বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে উন্নয়নের উচ্চাকাঙ্খা  রয়েছে বাংলাদেশের এবং এ জন্য দেশটির দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (এনপিপি) নির্মাণে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সৃষ্টি এবং ব্যয়িত জ্বালানি, তেজস্ক্রিয় বর্জ্যরে ইস্যুগুলোর সমাধান এবং এনপিপির কার্যক্রম স্থগিতসহ দক্ষ কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অর্জনের ক্ষেত্রে রোসাটম এনপিপি নির্মাণে অভিজ্ঞতা, বিশেষজ্ঞ মতামত ও সার্বিক বিষয়টির যে কোনো ইস্যুতে সমাধানের ব্যাপারে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
কার্যত প্রশিক্ষণের বিষয়টি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কয়েক বছরের প্রশিক্ষণের জন্য রোসাটমের কোটায় রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এর আওতায় প্রথম ব্যাচ আগামী বছরই তাদের গ্রাজুয়েশন শেষ করবে।
শিক্ষার্থীদের ন্যাশনাল রিসার্চ নিউক্লিয়ার ইউনিভার্সিটি এমইপিএইচআই ও এর শাখাগুলোয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে তারা রাশিয়ান ভাষায় একটি প্রস্তুতিমূলক কোর্স সম্পন্ন করে এবং তারপর ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : নকশার কাজ, কার্যকলাপ ও প্রকৌশল’-এ বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ব্রিটিশ কোম্পানি কিউএস-এর করা তালিকায় ২০১৬ সালের জুন মাসে প্রথমবারের মতো ব্রিকস জোটের দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ ৫০টির মধ্যে উঠে এসেছে এমইপিএইচআই-এর নাম। বর্তমানে ৩০টি দেশের ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী এমইপিএইচআই-এ পড়ালেখা করছে।
পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা ও নির্মাণের পাশাপাশি রোসাটম সমন্বিত কিছু সুযোগও দিচ্ছে, যার মধ্যে পারমাণবিক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আইএইএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী পরমাণু নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন, জ্বালানি সরবরাহ, পারমাণবিক কেন্দ্রের কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যয়িত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কর্মসূচি অন্যতম।

প্রশ্ন : নির্মাণে সহায়তা দেবে কে?
উত্তর : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে ২০১১ সালের ২ নভেম্বর স্বাক্ষরিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আন্তঃসরকার সহযোগিতা চুক্তির আওতায়। প্রকল্পটি এএসই গ্রুপ বাস্তবায়ন করছে, যা রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর এএসই গ্রুপ ভিভিইআর-১২০০ চুল্লিসহ দুই ইউনিটের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্ত্র নির্মাণে সাধারণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাজধানী ঢাকা থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর পূর্ব তীরে তৈরি হচ্ছে।
বিশ্বের পারমাণবিক প্রকৌশল ব্যবসায় এএসই একটি নেতৃস্থানীয় কোম্পানি, বৈশ্বিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বাজারের ৩০ শতাংশেরও বেশি যার দখলে। বিশ্বের ১৫টি দেশে এর প্রতিনিধি ও সক্রিয় কার্যালয় কার্যক্রমে রয়েছে; বিদেশে প্রকল্পগুলোর ৮০ শতাংশেরও বেশি কোম্পানির অধীনে বাস্তবায়িত হয়েছে।
তার ওপর এএসই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে এবং যেকোনো প্রকার জটিল প্রকৌশলগত স্থাপনায় পুরোমাত্রায় ইপিসি, ইপিসি (এম) ও পিএমসি সেবা দিয়ে থাকে। জটিল প্রকৌশলগত স্থাপনা মাল্টি-ডি নির্মাণ প্রকল্পে প্রশাসনের জন্য উদ্ভাবনী ব্যবস্থা তৈরি ও উৎসাহ দিয়ে থাকে এএসই, যাতে করে বাজেট, সময়সীমা ও মানের মতো বিষয়গুলো ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়।

প্রশ্ন : কী নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হবে?
উত্তর : আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকা উচিত; এতে শুধু ব্যত্যয় ঘটবে উপকরণের ক্ষেত্রে, যার মান হতে হবে রাশিয়ার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আইএইএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী। উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সামগ্রী সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ব্যাপারে এএসই গ্রুপ ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) প্রাক-দরপত্র কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্য উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীদের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সংশ্লিষ্ট করার লক্ষ্যে এর আয়োজন করা হয়। এই কনফারেন্সের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পণ্যের গুণগত মান ও চাহিদাসহ দরপত্র জমাদানকারী ও শর্তাবলি অন্যতম ছিল। মূল নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ শুরু হবে।
এই পর্যায়ে এসে নির্মাণ কার্যক্রমে পণ্য সরবরাহকারী ও উপকরণ নির্বাচনসহ বালু, সিমেন্ট, ইস্পাত, নিম্নচাপের পাইপলাইন ও গোলাকৃতির ধাতব পণ্য নির্বাচন প্রয়োজন।

প্রশ্ন : মান নিয়ন্ত্রণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
উত্তর : বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিটা দশাই আইএইএ ও জাতীয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএইআরএ-এর মাধ্যমে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ২০১৬ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণস্থলে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরুর জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে (বিএইসি) লাইসেন্স ইস্যু করে। নির্মাণ এলাকায় ৬৩টি পর্যবেক্ষণ, যার মধ্যে মাটি, বায়ু ও ভূকম্পন-সংক্রান্ত পর্যালোচনাসহ পরিবেশের ওপর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব বিচার করেই ওই লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। একই সময়ে বিএইআরএ বাছাইকৃত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্পেরও অনুমোদন দেয়।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে পারমাণবিক চুল্লি ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের পদ্ধতি কী হবে?
উত্তর : ভারী এবং/অথবা বড় আয়তনের উপকরণের প্রতিটা সরবরাহই একটা করে বিশেষ কারিগরি কার্যক্রম। এএসই বিশেষজ্ঞরা এই সরবরাহের বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিচার-বিবেচনা করেছেন। নদীপথে উপকরণ সরবরাহকেই আমরা সবচেয়ে অনুকূল বলে বিবেচনা করেছি। সেন্ট পিটার্সবার্গে মহাসাগরগামী জাহাজে চুল্লি তোলা হবে, যা মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে। সেখান থেকে নদীপথে নৌকায় করে নির্মাণস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে। পণ্য খালাসের জন্য রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণস্থলে একটি বিশেষ জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন : নতুন এই প্রযুক্তিতে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে?
উত্তর : রাশিয়ার পরিকল্পনায় নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় হালকা পানির ভিভিইআর-টাইপ চুল্লি, নিম্নচাপে সাধারণ পানির চুল্লি ব্যবহার হয়ে থাকে। ফিনল্যান্ড, বেলারুশ এবং অন্য দেশগুলোয় ভিভিইআর-টাইপ চুল্লির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের বিভিন্ন দশায় রয়েছে। এ ধরনের চুল্লিতে নিউট্রন উৎপাদক এবং চুল্লি ঠান্ডা করা উভয় কাজেই পানির ব্যবহার হয়।
বিশ্বজুড়ে ভিভিইআর-টাইপ চুল্লি সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিবেচিত এবং রাশিয়ার পারমাণবিক শিল্পের উন্নয়ন কর্মসূচির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। পঞ্চাশ বছরের কার্যক্রমে ভিভিইআর-টাইপ চুল্লির (ভিভিইআর-৪৪০, ভিভিইআর-১০০০) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক বিদ্যুতের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক বলে প্রমাণিত হয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শিল্পে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে এবং এর ক্রমাগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উপস্থাপন করেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শক্তি উৎপাদন ইউনিটটি হবে ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি ভিত্তিক, যা তৃতীয় (থ্রি-প্লাস) প্রজন্মের প্রযুক্তি। নতুন প্রযুক্তির এই ইউনিটগুলোয় কারিগরি ও আর্থিক সূচকগুলোর উন্নতি সাধিত হয়েছে, যাতে করে পুরোপুরি নিরাপদ কার্যক্রম এবং ফুকুশিমা পরবর্তী আইএইএ-এর মান পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে। ভিভিইআর-১২০০ রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী চুল্লি এবং এর তিনটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে : উচ্চ কার্যকারিতা, টেকসই এবং নিরাপদ। ভিভিইআর-১২০০-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা টর্নেডো, হারিকেন, ভূমিকম্প, বিমান দুর্ঘটনাসহ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আঘাতে সর্বোচ্চ বাধার সৃষ্টি করে।
পরোক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তি সরবরাহ পুরোপুরি বিঘ্নিত হলেও কাজ করতে সক্ষম, কার্যকর ব্যবস্থা অথবা অপারেটরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো নিরাপত্তা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি অন্য সব শক্তি সরবরাহের উৎস বিকল হয়ে পড়ে, তাহলে পরোক্ষ তাপ অপসারণ ব্যবস্থা (পিএইচআরএস) চুল্লির কেন্দ্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে তাপ অপসারণ নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনার সময় মূল দ্রবীভূতকারী ডিভাইস (সিএমএলডি) বা ‘কোর ক্যাচার’ কেন্দ্রের গলিত উপকরণগুলোকে থান্ডা করবে। এই ডিভাইস প্রতিরক্ষামূলক শেলের অখন্ডতা নিশ্চিত করে এবং এতে করে ব্যাপক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও পরিবেশে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়িয়ে পড়া রহিত হয়।

প্রশ্ন : পরিবেশের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
উত্তর : দিনে দিনে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বাড়ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্প এর অন্যতম উৎস। তারপরও আমাদের ভবিষ্যতের ওপর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সঠিক পছন্দের সরাসরি প্রভাব থাকবে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুসারে, বর্তমানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে ৩৮ শতাংশ ‘সবুজ’ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং এই প্রেক্ষাপটে মানবজাতির ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার হিসাব মতে, ৪৫ বছরের কার্যক্রমে বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ৫৬ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ এড়াতে পেরেছে। বর্তমান হারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিমাণ বিশ্বজুড়ে দুই বছরের নিঃসরণের সমপরিমাণ। রাশিয়া ও বিদেশে নির্মিত রাশিয়ার নকশা করা সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এই হিসাবে অন্তুর্ভুক্ত করে দেখা গেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বার্ষিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন টন প্রতিরোধ সম্ভব, যা বিশ্বের গাড়ি খাতের বার্ষিক নিঃসরণের ৮০ শতাংশ। রূপকার্থে বলতে গেলে, আমাদের বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের সুযোগ করে দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘পৃথিবীর ফুসফুসে’ পরিণত হতে পারে।

NO COMMENTS

Leave a Reply