Home অন্তর্জাতিক প্যারিসের সমার্থক স্থাপনা আইফেল টাওয়ার

প্যারিসের সমার্থক স্থাপনা আইফেল টাওয়ার

0 2340
কারিকা ডেস্ক :
চিত্রকলার জন্য ফ্রান্সের বেশ সুখ্যাতি আছে, নামকরা অনেক শিল্পীদের জন্ম এখানে। কিন্তু যারা শিল্প বোঝেন না, তারাও ফ্রান্সকে চেনেন অন্য এক আশ্চর্য স্থাপত্য দিয়ে। তা হলো আইফেল টাওয়ার। এটি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের চ্যাম্প দি মারস নামক স্থানে অবস্থিত। এই টাওয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি দিনে যতটুকু লম্বা, রাতে তার চেয়ে খানিকটা ছোট হয়ে যায়। নির্মাতা গুস্তাফ আইফেল। তার নামেই এ টাওয়ারের নাম রাখা হয়েছে আইফেল টাওয়ার। ১৮৮৭ সালের ১৮ জানুয়ারি এর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ৩০০ শ্রমিক ২ বছর ২ মাস ৫ দিনের চেষ্টায় টাওয়ারটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর ১৮৮৯ সালে ৩১ মার্চ সর্বসাধারণের জন্য টাওয়ারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। যখন আইফেল টাওয়ার চালু হয় তখন তা ওয়াশিংটন মনুমেন্টকে হটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনায় পরিণত হয়েছিল। যা ছিল ৪০ বছর। টাওয়ারটির ওজন ১০ হাজার ১০০ মেট্রিক টন এবং এতে ওঠার জন্য সিঁড়ির ধাপ রয়েছে এক হাজার ৬৬৫টি। ১৮ হাজার ছোট ছোট লোহার অংশ থেকে এই পুরো কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে এবং এই অংশগুলো ২৫ লাখ নাট-বল্টু দিয়ে সংযুক্ত। মরিচা ধরা থেকে বাঁচানোর জন্য প্রতি ৭ বছর পর পর টাওয়ারটি রং করা হয়। সম্পূর্ণ টাওয়ারটি এবার রং করতে ৬০ মেট্রিক টন রঙের প্রয়োজন হয়। ২৫ জন রংমিস্ত্রীর এক হাজার ৫০০টি ব্রাশে পুরো টাওয়ারটি রং করতে লাগে ২৫ মাস। টাওয়ারটিতে চড়ার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি লিফটও রয়েছে। এত উঁচু এই টাওয়ারে লিফট সংযোজন খুব একটা সহজ কাজ ছিল না, টাওয়ারের উচ্চতা আর কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে এখানে লিফট স্থাপন করতে ইঞ্জিনিয়ারদের ঘাম ছুটে গিয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো, এই টাওয়ারটির লিফটগুলো বছরে যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে, তা সারা পৃথিবীর আয়তনের প্রায় ২.৫ গুণ। টাওয়ারটি নির্মাণের পর বিশেষজ্ঞরা এর কাঠামো দেখে মত দেন যে এর আয়ু ২০ বছর। কিন্তু ২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়নি, এই আকাশছোঁয়া স্থাপত্যটিকে কোনো এক অদ্ভুত কারণে কেউই পছন্দ করতে পারছিল না। নামকরা সব চিত্রশিল্পী এবং লেখকরা এর বিরুদ্ধে লেখা শুরু করলেন। শহরবাসীদের তোপের মুখে কর্তৃপক্ষ যখন প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল যে, এটি ধ্বংস করে ফেলা হবে। তখনই গুস্তাভ আইফেল একটা বুদ্ধি বের করলেন। তিনি টাওয়ারটিকে আবহাওয়া-গবেষণাগারে পরিণত করলেন। টাওয়ারটি অনেক উঁচু হওয়ার কারণে এর সাহায্যে বাতাসের গতিবেগ এবং আবহাওয়া নির্ণয় সম্ভব ছিল। এভাবে তিনি তার সাধের টাওয়ার রক্ষা করলেন। এখানেই শেষ না, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আবার এই টাওয়ারটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন এটি রাখা হয় বেতার তরঙ্গের একটি ভালো পরিবাহক হিসেবে। এমন সব অদ্ভুত কারণে টাওয়ারটি বারবার বেঁচে যায় এবং পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ায়। এখন ফ্রান্সের গর্ব হয়ে আকাশ ছুঁয়ে দাড়িয়ে আছে আইফেল টাওয়ার।

NO COMMENTS

Leave a Reply