Home মূল কাগজ প্রকল্প-এলাকাটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

প্রকল্প-এলাকাটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ শৌকত আকবর।সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

সাক্ষাৎকার গ্রহনঃ মুজাহিরুল হক রুমেন


প্রশ্ন : সর্বশেষ কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কবে নাগাদ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে?
উত্তর : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মধ্যে সম্পাদিত জেনারেল কন্ট্রাক্ট মোতাবেক প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি ভিভিআর-১২০০ টাইপ রিঅ্যাক্টর (১২০০দ্ধ২ = ২৪০০ মেগাওয়াট) নির্মাণ করা হবে। চুক্তির শর্ত মোতাবেক দুটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি ২০২২ সালের অক্টোবরে কমিশনিং হবে এবং জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। এই ইফনিটটি অক্টোবর ২০২৩-এ প্রভিশনাল টেকওভার করা হবে। একইভাবে ১ বছর পর দ্বিতীয় ইউনিটটির কমিশনিং, পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এবং প্রভিশনাল টেকওভার করা হবে।

প্রশ্ন : ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কারিগরি দুর্ঘটনা মোকাবেলায় কী কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রটি স্থাপনে?
উত্তর : পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্পসহ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কারিগরি দুর্ঘটনা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের সময়েই প্রস্তাবিত স্থানটির মাটির অবস্থা, ভূতাত্ত্বিক ও হাইড্রোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকালে কিংবা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকালে সাইটের মাটির সম্ভাব্য পরিবর্তন, ভূত্বকের ওপরের অংশে সৃষ্ট গহ্বর, ভূমিক্ষয়, ভূমিকম্প, বন্যা, সাইক্লোন, টর্নেডো, বর্জ্রপাতসহ সব ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মনুষ্য সৃষ্ট দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ঝুঁকির বিষয়াদি বিচার-বিশ্লেষণ করে সাইট নির্ধারণ করা হয়। সাইটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারিগরি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে IAEA-এর গাইডলাইন, দেশীয় এতদসংক্রান্ত আইনি ও কারিগরি বাধ্যবাধকতা এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশের এতদ্সংক্রান্ত আইনি ও কারিগরি বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইট মূল্যায়ন করে সাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়।
এছাড়াও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য আন্তর্জাতিক এটেস্টেশন প্রক্রিয়ায়, পদ্ধতিগত ইউনিফিকেশন নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের কম্পিউটার কোডগুলোর মাধ্যমে সম্ভাব্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণ (PSA)-এর মাধ্যমে সাইট চূড়ান্ত করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উপরোল্লিখিত সব সমীক্ষা ও সাইট সেফটি স্টাডির আলোকে সাইট সেফটি রিপোর্ট প্রণয়ন অত্যাবশ্যক। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কারিগরি দুর্ঘটনা মোকাবেলায় জরুরি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কিত তথ্যাবলি উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ সরকার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইট নির্বাচনের ক্ষেত্রে Safety First এই মূলনীতি গ্রহণ করেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট নির্বাচন করেছে। সাইটের নিরাপত্তা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে উপরোল্লিখিত যাবতীয় আন্তর্জাতিক কারিগরি ও আইনি বিষয়াদি যথাযথভাবে অনুসরণ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের গাইডলাইন ও আইনি বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালন, ফুকুশিমা-১ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্ঘটনা হতে অর্জিত শিক্ষাসহ ফুকুশিমা দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরে IAEA Preparatory  Mission  কর্তৃক Rooppur NPP এলাকা মূল্যায়ন সংক্রান্ত  Geotechnical aspects and Geomorphology, Hydrolologycal Hazards and river morphology সুপারিশমালা বিবেচনা করে রাশান ফেডারেশনের এনপিপি ডিজাইন ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট নিরাপত্তা বিশ্লেষণ, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভে এবং পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পাদন করা হয়েছে এবং প্রকল্প এলাকাটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রযুক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে রুশ নির্মিত সর্বাধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নভোভরনেঝ-২-কে রূপপুর এনপিপি-এর রেফারেন্স প্লান্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। উল্লিখিত রেফারেন্স প্লান্টের আদলে আরও অধিকতর সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডিজাইনে সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা (ভূমিকম্প, বন্যা, ম্যাট্রলোজিক্যাল ইভেন্ট, ইত্যাদি) এবং মনুষ্যসৃষ্ট দুর্ঘটনা যেমন- অগ্নিসংযোগ, বিমান বিধ্বস্ততা এবং টেররিস্ট অ্যাটাকসহ সব ধরনের কারিগরি দুর্ঘটনা মোকাবেলায় সক্ষম রিঅ্যাক্টর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা এমনভাবেই প্রণয়ন করা হচ্ছে যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সক্ষমতার সঙ্গে নিরাপদে পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং রিঅ্যাক্টর কনটেনমেন্টের বাইরে তেজস্ক্রিয়তা না ছড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এসব ব্যবস্থার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা প্রচলিত অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে ১০ গুণ কমে গেছে। এভাবে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা এতটাই কমে এসেছে যেগুলো মানুষ বাস্তবিক কাজকর্মে ধর্তব্যের মধ্যেই বিবেচনা করে না।
উল্লেখ্য, প্রকল্পের পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মনুষ্যসৃষ্টসহ সব ধরনের কারিগরি দুর্ঘটনা মোকাবেলার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইট লাইসেন্স প্রদান করেছে।

প্রশ্ন : এর কাঁচামাল (ইউরোনিয়াম) আসছে কোত্থেকে, কাঁচামালের দাম নির্ধারণ করছেন কীভাবে?
উত্তর : এক্ষেত্রে আমার মনে হয় কাঁচামাল শব্দটি যথার্থ নয়, তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনের জন্য ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি’ (Nuclear Fuel) প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বাংলাদেশ সরকার ও রাশান ফেডারেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি (IGA) অনুযায়ী রাশিয়ান ফেডারেশন বাংলাদেশের চাহিদা মোতাবেক কেন্দ্রের আয়ুষ্কালব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ করবে। এ ধরনের জ্বালানি ক্রয়ে আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী মাইনিং, মিলিং, এনরিচমেন্ট, ফুয়েল ফেব্রিকেশন, ফুয়েল ট্রান্সপোর্টেশন ইত্যাদি সংক্রান্ত ব্যয় এবং ক্রমপুঞ্জিত বর্ষের আন্তর্জাতিক বাজার দর যাচাই করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে স্বাক্ষরিত General Contrac-এ কেন্দ্রটি পরিচালনার প্রথম দিককার কয়েক বছরের জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি বাবদ যে ব্যয় হয় তা প্রচলিত অন্যান্য তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় অনেক কম।
প্রশ্ন : যেহেতু এই কেন্দ্রটিই হবে দেশের প্রথম পারমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কি রাশিয়ার হাতেই থাকবে?
উত্তর : প্রশ্নটির যথার্থতা নিয়ে আমার মনে সংশয় রয়েছে। আমাদেরকে একটি বিষয় স্মরণ রাখতে হবে, প্রকল্পটি এডিপি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ সরকারের একটি ফাস্টট্রেক প্রকল্প। আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান এবং জাতীয় আইন অনুযায়ী কেন্দ্রের মালিক/অপারেটর হিসেবে বাংলাদেশ পক্ষকে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হতে কেন্দ্র পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনপূর্বক অপারেশন লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে পাশাপাশি কেন্দ্রের কমিশনিং পর্যায় হতে কেন্দ্রটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য যাবতীয় জনবলের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এটি একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মানবসম্পদ উন্নয়ন রীতি। উপরোক্ত আলোচনায় এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে যে, প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের। চলতি বছর থেকেই General Contrac-এর অধীনে কোম্পানির জনবলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আশা করি এ পদ্ধতি বাংলাদেশের এই ক্ষেত্রে শতভাগ সফল হবে। তবে আপনি ঠিকই বলেছেন, বাংলাদেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনকারী দেশ হিসেবে জনগণকে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের ‘Safety First, Quality First’  নীতি অনুযায়ী দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রাথমিক পর্যায়ে রাশান বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে।

প্রশ্ন : বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনায় রাষ্ট্রের দক্ষতা তৈরিতে কী কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর দায়িত্ব বাংলাদেশের হাতে কীভাবে আসবে, কত সময় লাগবে?
উত্তর : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় Nuclear Infrastructure প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে IAEA-এর Milestones guide অনুসরণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং Infrastructure প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি মনিটরিংয়ের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি, মাননীয় মন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কারিগরি কমিটি এবং সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। রাষ্ট্রের দক্ষতা তৈরির উদ্দেশ্যে একাধিক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক নিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়াদি তদারকির জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদে পরিচালনার জন্য নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উল্লিখিত দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। দেশে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমআইএসটি-তে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট চালু করেছে। এসব ডিপার্টমেন্টে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাথী অধ্যয়ন শুরু করেছে। এছাড়া রাশান ফেডারেশনের MEPHI-তে প্রতিবছর প্রায় ২০ জন করে শিক্ষার্থী প্রেরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন অধ্যয়নরত রয়েছে এবং চলতি বছর আরও ২০ জন শিক্ষার্থী প্রেরণ করা হবে। ভবিষ্যতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকায় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ ইনস্টিটিউটের প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি বছর থেকে ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অন্যান্য গবেষণাগারে কর্মরত বিজ্ঞানী/প্রকৌশলীদেরকে ভারত সরকারের সহায়তায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ জন পারমাণবিক প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। এছাড়াও রাষ্ট্রের দক্ষতা তৈরিতে IAEA-এর কারিগরি সহযোগিতার আওতায় মানব সম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান আছে।

NO COMMENTS

Leave a Reply