Home চট্টগ্রাম প্রতিশ্রুতিতে ঝুলে আছে শহীদদের স্মরণে ‘স্মৃতিসৌধ’

প্রতিশ্রুতিতে ঝুলে আছে শহীদদের স্মরণে ‘স্মৃতিসৌধ’

স্মাধীনতার ৪৯ বছর

আবদুল্লাহ আল মামুন
মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে চট্টগ্রামের। ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাও পাঠ করা হয় এ চট্টগ্রামেই। রয়েছে অসংখ্য বধ্যভূমি। দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন এখানকার কয়েক লাখ মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু সেই শহীদদের স্মরণে স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও চট্টগ্রামে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিসৌধ। ফলে স্মাধীনতা ও বিজয় দিবসে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ না থাকায় আক্ষেপ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদেরও।
স্মৃতিসৌধ নির্মাণে মন্ত্রী-মেয়ররা বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল নগরের দামপাড়ায় এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক চট্টগ্রামে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাস্তবে চোখে পড়ার মতো কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরের কাজির দেউড়িতে পুরনো সার্কিট হাউসের সামনে বর্তমান শিশু পার্কের স্থানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। কিন্তু বাস্তবে কোন উদ্যোগ নেননি তিনি। উল্টো শিশুপার্কের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চট্টগ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের অনেক গৌরবের সাক্ষীও বন্দরনগরী। অথচ এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এখানে নেই কোনো স্মৃতিসৌধ। এটি একই সঙ্গে বিস্ময়কর ও হতাশার। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছানো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে চট্টগ্রামেও একটি স্মৃতিসৌধ থাকা উচিত।’
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রামের নন্দনকাননের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলের সামনে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। শুরুতে এখানে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হতো। স্মৃতিসৌধ নির্মাণ না হওয়ায় পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসেও এখানে শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে এ দাবি জোরালো হয়। আশ্বাস দেন মন্ত্রী ও মেয়র। পরবর্তীতে এ দাবি প্রতিশ্রুতি হিসেবেই ঝুলে থাকে।
গত ১৯ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধে পাঁচ শহীদের স্মরণে চট্টগ্রাম নগরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, ‘সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সারাদেশের প্রতিটি জেলায়, উপজেলায় ও ইউনিয়নে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের। চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ নেই। চট্টগ্রামের মেয়রকে অনুরোধ করবো জায়গা দেওয়ার জন্য। স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।’
২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সিটি করপোরেশনের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামে আমাদের সবেধন নীলমণি একটি শহীদ মিনার। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও বিজয় দিবসে আমরা এ শহীদ মিনারেই যাই। গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ প্রয়োজন।’ তিনি পুরনো সার্কিট হাউসের সামনের শিশুপার্কের স্থানটিকে সুবিধাজনক স্থান উল্লেখ করে বলেন, ‘সেখানেই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা যুক্তিযুক্ত হবে। শিশুপার্কের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সে মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। এ স্থানেই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।’ এমন ঘোষণা দিলেও কথা রাখেননি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হয়। গত বছরের ১৮ নভেম্বর শিশু পার্কটির আধুনিকায়ন কাজেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্যাখা দিয়ে মেয়র নাছির বলেন, ‘জমিটি আমাদের না, এটি শিশু পার্ক করার শর্তে আমাদের দেওয়া হয়। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদি তাদের (বরাদ্দ গ্রহীতা) বাদ দিই, তাহলে হয়তো তারা আদালতে যেতে পারে। আবার অন্য কিছু করলে জমির বরাদ্দও বাতিল হয়ে যাবে। এমনিতে আমরা মামলায় জর্জরিত। সাড়ে তিনশ থেকে চারশ মামলা। এগুলো শুরু হয়, কিন্তু শেষ হয় না। কাজ করবো নাকি মামলা চালাবো।’

NO COMMENTS

Leave a Reply