Home চট্টগ্রাম প্রথমবারের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল চউক

প্রথমবারের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল চউক

0 236

নকশা না মেনে ভবন নির্মাণ করলেই জেল-জরিমানা

আবদুল্লাহ আল মামুন
অনুমোদিত নকশা না মেনে ভবন নির্মাণ করলে ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে সাত বছর জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরেও বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় এ আইনের বাস্তব প্রয়োগ করতে পারেনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো অননুমোদিত ভবন নির্মাণ রোধে চউকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট’র ক্ষমতা দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর অবৈধ নির্মাণ রোধে কোমর বেঁধে মাঠে নামছে চউক।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অবৈধ নির্মাণ প্রতিরোধের বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় পরিণত হতো। দীর্ঘদিন পর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট পেয়েছে চউক। ফলে অবৈধ নির্মাণ সহজে প্রতিরোধ করা যাবে।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যারা নকশা-বহিভূর্তভাবে ভবন ইতোমধ্যে তৈরি করে ফেলেছে, তাদের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে হবে। যাতে তারা নকশা সংশোধন ও নকশা-বহিভূর্ত অংশ ভেঙে ফেলার সুযোগ পান। এছাড়া যারা এখন অনুমোদন নিয়ে ভবনের কাজ শুরু করছেন, তারা যথাযথভাবে নকশা অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। আইন অমান্য করলে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। আইন প্রয়োগের কয়েকটি উদাহরণ তৈরি করতে পারলে পুরো নগরে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হয়ে যাবে।’
চউক সূত্র জানায়, ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি চউকের নির্মাণ কমিটি বা অথরাইজড অফিসারের কোনো নির্দেশনা অমান্য করে ভবন নির্মাণ করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান ছিল। কিন্তু ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের অষ্টম কলাম এবং মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর ৬(৩) ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের শাস্তি ভ্রাম্যমাণ আদালত দিতে পারতেন না। ফলে নকশা না মেনে একের পর এক ভবন নির্মাণ হলেও আইনের প্রয়োগ করতে পারেনি চউক। আইনের আংশিক প্রয়োগ ও নোটিশ দিয়ে তারা দায়িত্ব এড়িয়েছে।
গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং রাষ্ট্রপতির আদেশে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলমকে চউকের ‘মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট’র ক্ষমতা দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। চউকের আওতাধীন এলাকায় ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-এর প্রয়োগ করবেন তিনি। রিয়েল এস্টেট আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর, সর্বোচ্চ জরিমানা ২০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর ও সর্বোচ্চ জরিমানা ১০ লাখ টাকা। ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চউকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। অবৈধ নির্মাণ প্রতিরোধে এসব আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করতে পারতেন না তারা।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথোরাইজড অফিসার প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘এতদিন কেউ নকশা-বহিভূর্ত ভবন তৈরি করলে তাকে নোটিশ দিয়ে সময় বেঁধে দেওয়া হতো। নোটিশের সূত্র ধরে তারা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিলে অবৈধ ভবন উচ্ছেদ কিংবা কাজ বন্ধ রাখা যেত না। দীর্ঘসূত্রতার কারণে কোনো সুফলও পাওয়া যেত না। এখন ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার-আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া নোটিশ দেওয়ার পর কাজ বন্ধ না করলে যেমন শাস্তি দেওয়া যাবে, তেমনি নকশা-অননুমোদিত নির্মাণের জন্যও শাস্তি দিতে পারবেন তিনি। এতে অবৈধ নির্মাণ প্রতিরোধ দ্রুত ও সহজ হবে।’

NO COMMENTS

Leave a Reply