Home মূল কাগজ ইন্টেরিয়ার প্রথম শুরু পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ

প্রথম শুরু পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ

আবদুল্লাহ আল মামুন


ভবন নির্মাণে বাড়ছে কাচের ব্যবহার। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসনের অন্দর সজ্জায়ও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কাচ। কাচের এ চাহিদা মেটাচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে অন্যতম পিএইচ ফ্লোট গ্লাস ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড। দেশে সর্বশেষ প্রযুক্তির ফ্লোট গ্লাস উৎপাদন করছে দেশীয় এ প্রতিষ্ঠানটি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। ২০০৪ সাল থেকে দৈনিক ১৫০ টন উৎপাদন দিয়ে শুরু করলেও জাপানের সহায়তায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে এক বছরের মধ্যে তা ৩০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নব্বইয়ের দশকের পর থেকে দেশে ব্যাপকভাবে আবাসন শিল্পের বিকাশ ঘটে। দেশের বড় বড় শহরগুলোতে গড়ে উঠতে থাকে অট্টালিকা। ভবনে শুরু হয় কাচের ব্যবহারও। তখন শতভাগ কাচ আমদানি হতো বিদেশ থেকে। বাংলাদেশে একচেটিয়াভাবে এই বাজার ছিল চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দখলে। আবাসন শিল্পে কাচের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ শুরু করে। আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান উসমানিয়া গ্লাস শীট ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও এমইবি গ্লাস ফ্যাক্টরি লিমিটেড এ দুটো প্রতিষ্ঠান শীট গ্লাস উৎপাদন করতো। ২০০৫ সাল থেকে আধুনিক প্রযুক্তির ফ্লোট গ্লাস উৎপাদন শুরু করে পিইচপি ও নাসির গ্লাস।
২০০৪ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডে পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড যাত্রা শুরু করে। ২০০৫ সালে এ কারখানায় গ্লাস উৎপাদন শুরু হয়। শুরুতে দৈনিক ১০০ টন গ্লাস উৎপাদন করলেও বিক্রি হতো মাত্র ৫০টন। বর্তমানে ১৫০টন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রতিদিন উৎপাদন করে ১০০ টন। কাচের ব্যবহার বেড়ে কারখানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানের সহায়তায় আগামী বছর থেকে উৎপাদন ৩০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আসছে। তবে বিদেশ থেকে কাচ আমদানি, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা, গ্যাস ও অবকাঠামোর অভাবের কারণে কাচ শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে প্রধান বাধা বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
পিএইচপি ফ্লোট গ্লাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, কাচ তৈরিতে ব্যবহৃত বালি ও গ্যাস দুটোই আমাদের দেশে সহজলভ্য। কাচ উৎপাদনের ৮০ ভাগ কাঁচামালই এ দুটো উপাদান। বাকি ২০ ভাগ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। অথচ অন্য শিল্পে বেশিরভাগ কাঁচামাল আমদানি করতেই কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। কাচ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের ভ্যালু অ্যাড হয় সবচেয়ে বেশি। ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের সেভেন সিস্টার খ্যাত সাত রাজ্য, নেপাল ও ভুটানে বাজার ধরতে পারে বাংলাদেশ। এই বাজার ধরতে পারলে কাচ রপ্তানির বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি সহায়তা ছাড়া পৃথিবীতে কোন শিল্পের বিকাশ কখনও হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো এই শিল্পের জন্য এমন নীতিমালা প্রণয়ন দরকার যাতে কাচশিল্পের বিকাশ ও প্রসার হয়। তাছাড়া বিদেশ থেকে কাচ আমদানি নিরুৎসাহিত করা হলে দ্রুত এই শিল্পের বিকাশ সম্ভব হবে। বর্তমানে প্রতিমাসে ছয় থেকে সাত হাজার টন বিভিন্ন ধরনের কাচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
বিশ্বের উন্নত দেশে বহুল ব্যবহৃত লো-ই গ্লাস উৎপাদনের পরিকল্পনা পিএইচপি’র রয়েছে জানিয়ে আমির হোসেন বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানসহ উন্নত বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত লো-ই গ্লাস ও ডিজাইন কাচসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষ কাচ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে পিএইচপি’র। কারণ লো-ই কাচ তাপ নিরোধক, অতিরিক্ত স্বচ্ছ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। বিদ্যুৎ সংকটের বাংলাদেশে এই লো-ই গ্লাসের কার্যকারিতা অনেক বেশি।
শব্দ দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শব্দ নিরোধক কাচের চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়ে আমির হোসেন বলেন, দেশের এই চাহিদা মেটাতে সাউন্ডপ্রুপ গ্লাস উৎপাদন শুরু করবে পিএইচপি। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এই বিশেষায়িত কাচ বাজারে আসবে।
গ্লাস শিল্পে এ উদ্যোক্তা জানান, কাচ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সর্বোত্তম মান বজায় রাখতে ‘অনলাইন ইনস্পেকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যা দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা ক্রাশ করা হবে। এতে গ্লাসের মান হবে নিখুঁত। এছাড়া উৎপাদন ক্ষমতা ও মান বাড়াতে প্রযুক্তি সহায়তা নেওয়া হবে বিশ্বের প্রযুক্তি নির্ভরতার এক নম্বর দেশ জাপানের।

NO COMMENTS

Leave a Reply