Home মূল কাগজ আপন আবাস প্রশান্তিময় শোবার ঘর

প্রশান্তিময় শোবার ঘর

0 2626

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা কিংবা কোথাও বেড়াতে যাওয়া, একসময় ফিরতে হয় আপন নীড়ে। নিজের আবাসের মতো শান্তি কোথাও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে ঘুমরাজ্যে চলে যাওয়া এ তো একান্ত আপন শোবার ঘরেই পাওয়া যাবে। তাই সবাই চান বসার ঘরে অতিথিদের মন জয় করার জন্য যেমনটা ইন্টেরিয়র, তেমনি শোবার ঘরটায় শুধু জয় থাকুক নিজের মনের, নিজের প্রশান্তির। শোবার ঘর কেমন হবে এ নিয়ে বলেছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নাজরানা লোপা

ঝকঝকে, প্রফুল্ল, কর্মোদ্দীপক নতুন আরেকটি দিনের প্রস্তুতি শুরু হয় শোবার ঘর থেকেই। শরীরের প্রতিটি কোষে কোষে ক্লান্তি আর সারাদিনের দৌড়ঝাঁপের পর মাথায় প্রথমেই যে বিষয়টি আসে তা হচ্ছে বিশ্রাম। ক্লান্তি দূর করতে ঘুমের বিকল্প নেই। আর ঘুমের জন্য প্রয়োজন একটি আরামদায়ক পরিচ্ছন্ন শোবার ঘর। বাড়ির অন্যসব ঘর থেকে তখন প্রিয় হয়ে ওঠে শোবার ঘরটি। ক্লান্তি কাটাতে বা প্রিয়জনের সঙ্গে সারাদিনের হার-জিত, লাভ-লোকসান বা নিভৃতে গল্প করার জন্য একটি আরামদায়ক শোবার ঘরের জুড়ি নেই। তাই শোবার ঘরের ডেকোরেশন বা ফার্নিচার-প্ল্যানিং নিয়েও থাকে একেকজনের একেকরকম পরিকল্পনা। নিজস্ব প্রয়োজন, বাজেট আর ব্যক্তি-রুচির ওপর নির্ভর করেই গড়ে ওঠে ভিন্ন সাজসজ্জার শোবার ঘর।

যে যেমন বাজেটেই বেডরুম ডেকোরেশন করেন না কেন তা যেন স্বাস্থ্যসম্মত, আরামদায়ক এবং সুরুচির পরিচয় বহন করে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত। মাস্টার বেডরুমে আমরা সাধারণত বিশ্রাম নিই। সেজন্য এ রুমটি এমন হওয়া উচিত যেন ঘরে প্রবেশ করলেই একটা শীতল পরশ কাজ করে। বেডরুমের রঙের ক্ষেত্রে চোখ-সওয়া রঙ বাছাই করা উচিত। বয়সভেদে অবশ্য রঙের ভিন্নতা নির্ভর করে। যদি বয়োবৃদ্ধ অর্থাৎ যারা অবসরে চলে গেছেন তাদের কথা ধরি, তবে অবশ্যই হোয়াইট বা অফহোয়াইট কালার আসতে পারে। যাতে তারা সবকিছু স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন দেখতে পারে। টিনএজারদের কালার পছন্দের ব্যাপারটা যার যার সাইকোলজির ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় টিনএজাররা কালারফুল বেডরুম পছন্দ করে। এক্ষেত্রে তারা বেছে নেয় পিঙ্ক, লেমন ইয়েলো বা গাঢ় নীল কালার। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তাদের শোবার ঘরটি অবশ্যই রঙিন হবে। অনেক সময় বাচ্চাদের শোবার ঘরের দেয়ালজুড়ে নানা কার্টুন বা নকশা বা ফুলেল মোটিফ আঁকা যায়। এতে বাচ্চাদের মনও বেশ প্রফুল্ল থাকে।

এখন আসা যাক ফার্নিচারের কথায়। শোবার ঘরের ফার্নিচার অবশ্যই বাহুল্যবর্জিত হবে। এখানেও বয়সভেদে ফার্নিচারের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে। বেডরুমে একটা বেড তো অবশ্যই থাকবে। জবরজং নকশাম-িত, হালকা নকশা বা একেবারেই নকশাবিহীন সিম্পল বেড যে কেউ প্রয়োজন ও পছন্দমাফিক ব্যবহার করতে পারেন। সঙ্গে থাকতে পারে কেবিনেট, রকিং চেয়ার। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে বুকশেলফও অনেকে রাখতে পারেন। টিনএজারদের বেলায় একটি বেড, স্টাডি টেবিল, কম্পিউটার, কেবিনেট, একটি ছোট সাইজের ড্রেসিং টেবিলও রাখা যেতে পারে। যাদের টিভি দেখার অভ্যাস আছে, বেডরুমে তারা টিভির ব্যবস্থা রাখতে পারেন। যারা রকিং চেয়ার ইউজ করবেন তারা শোবার ঘরের এক কোনায় চেয়ারটি রাখলে ভালো, যাতে চলাচলে কোনো অসুবিধা না হয়।

লাইটিংয়ের বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শোবার ঘরে কখনোই ওয়ার্ম লাইটিং করা উচিত নয়। যারা অবসরে চলে গেছেন তাদের শোবার ঘরের লাইটিং ক্লিয়ার হোয়াইট হওয়া ভালো। তাছাড়া যে যার পছন্দমতো বাজার থেকে বিভিন্ন কালার শেডের লাইট-গ্রিন, ব্লু, লেমন-গ্রিন, অফহোয়াইট শেড বেছে নিতে পারেন। ঝোলানো বা হ্যাংগিং ল্যাম্পশেড, স্ট্যান্ড ল্যাম্পশেড শোবার ঘরে না থাকাই ভালো। বাচ্চাদের ঘরে তো অবশ্যই নয়। তবে কেউ যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে রাখতে পারেন।

শোবার ঘরের ফ্লোর একটা বিশেষ প্রভাব ফেলে। তাই ফ্লোর সেটিংয়ের বেলায় টাইলস ব্যবহার না করাই ভালো। এক্ষেত্রে মার্বেল পাথর ব্যবহার করে পুরো ঘরে একটা শীতল ভাব আনা যায়। তবে মোজাইক এখনও বেশ দাপটের সঙ্গে চলছে। যাদের ডাস্ট-অ্যালার্জি আছে তারা বেডরুমে কখনোই সফট কার্পেট ব্যবহার করবেন না। এক্ষেত্রে গ্রাস কার্পেট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কেউ প্রয়োজন মনে করলে কার্পেট ইউজ করতে পারেন। অ্যাটাচড বেডসাইড টেবিলও বেডরুমের একটি জরুরি অনুষঙ্গ। বেডসাইড টেবিলে রাখতে পারেন টেলিফোন, শো-পিস, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, পানি প্রভৃতি জিনিস। মনে রাখতে হবে বেডরুমে অ্যাটাচড বাথটা কিন্তু জরুরি।

এবার আসি বেডশিট, কুশন আর বালিশ প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে অবলীলায় বলা যায়, অবশ্যই আরামদায়ক পাতলা সুতিকাপড় বেডশিট হিসেবে ব্যবহার করবেন। বেডশিটে সিল্কের কাপড় ব্যবহার না করাই ভালো। বালিশ, কুশন বা বেডশিটে কাজ করা অর্থাৎ মেটেরিয়ালস বসানো কাভার ইউজ না করাই ভালো। বাজারে এখন নানা শেপের কুশন পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে যে যার পছন্দমতো কুশন কিনতে পারেন বা ডিফারেন্ট লুক আনতে অর্ডার দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন। বেডরুমের ক্ষেত্রে অলঙ্কারের চেয়ে আরামের দিকে বেশি নজর দেওয়া উচিত। টিনএজারদের বেডশিট নীল, হলুদ, গোলাপি অর্থাৎ কালারফুল হলে ভালো লাগবে। বাচ্চাদের ঘরেও অবশ্যই কালারফুল বেডশিট ব্যবহার করবেন। এক্ষেত্রে লেমন গ্রিন, ইয়োলো যে-কোনো কালার ব্যবহার করা যায়। বেডশিটের সঙ্গে মিলিয়ে একই শেডের বা কন্ট্রাস্ট কালারের পর্দা ব্যবহার করলে শোবার ঘর হবে আরও আকর্ষণীয়। পর্দার কাপড় ভারী না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। শোবার ঘরে যাতে প্রচুর আলো-বাতাস যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খুব সুন্দর করে সাজানো শোবার ঘর যদি অপরিচ্ছন্ন থাকে, তাহলে আপনার সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে যাবে।

মনে রাখা প্রয়োজন
শোবার ঘর রাখবেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, প্রচুর আলো-বাতাসযুক্ত।

অপ্রয়োজনীয় আসবাব এড়িয়ে চলতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় লোকের যাতায়াত না থাকাই ভালো। অতিরিক্ত আলোকসজ্জা
পরিহার করুন।

NO COMMENTS

Leave a Reply