Home বাজার দর আবাসন প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট কিনতে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন গ্রাহক

ফ্ল্যাট কিনতে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন গ্রাহক

রুখসানা মিলি
গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট কেনায় ঋণের সীমা ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এখন ব্যাংকগুলো ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে একজন ক্রেতাকে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। গত ১৯ নভেম্বর ২০১৯ বাংলাদেশ ব্যাংক জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের আগে এই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নতুন এই ঋণসীমা নির্ধারিত হয়। তবে গৃহঋণ এবং মূলধনের পরিমাণ আগের মতোই ৭০:৩০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর দাবির মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠায়।
সূত্রমতে, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠকে গৃহঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২ কোটি টাকা নির্ধারণের দাবি জানান।
ঋণের সীমা বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গৃহনির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, দেশে উচ্চতর মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ গ্রাহকের পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ৭০:৩০ অনুপাতের বাইরে গিয়েও ঋণ দিতে পারবে।
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পক্ষ থেকে ঋণের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন জানান, ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বাস্তবতা বিবেচনা করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হবেন।
সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আবাসন খাতে বিদ্যমান গতিস্বল্পতা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করে রিহ্যাব। আবাসন খাতে এই ঋণ-সুবিধা এ-খাতে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
তবে অধিকাংশ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গৃহঋণের সুদহার ডাবল ডিজিটে বিদ্যমান। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত গৃহঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট না হওয়ায় রিহ্যাব উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা যাতে ভাড়ার টাকায় মাথা গোঁজার একটা ঠিকানা খুঁজে পান- সেজন্য স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি একটি তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে রিহ্যাব।
তবে রিহ্যাবের দাবির মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট অনেকেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আবাসন ব্যবসায়ী বলেন, এক অঙ্কের স্বল্পসুদে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা না করা গেলে এই সীমা বাড়ানোর প্রভাব আবাসন খাতে খুব বেশি পড়বে না।

NO COMMENTS

Leave a Reply