Home ফিচার বদলে যাবে ৩০০ ফুট সড়ক-এলাকার চিত্র

বদলে যাবে ৩০০ ফুট সড়ক-এলাকার চিত্র

0 51

সোহরাব আলম

রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়ক ও সংলগ্ন-এলাকার উন্নয়নে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গত ৪ নভেম্বর একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। আবাসন প্রকল্পের বাইরে রাজউকের সবচেয়ে বড় এই উন্নয়ন প্রকল্পটি মূলত ২০১৫ সালে পাস হওয়া ‘কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে (কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত) ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের সংশোধিত রূপ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর পূর্বাংশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খাল ডুমনি, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ সংস্কার করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। খালগুলো দিয়ে একসময় বিমানবন্দর, নিকুঞ্জ, বারিধারাসহ আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু তিনটি খালই প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এসব খালের পাশাপাশি ৩০০ ফুট সড়ক চওড়া করা হবে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশের ১০০ ফুট খালকে কেন্দ্র করে আরও কিছু উন্নয়নকাজ করবে রাজউক। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ৩০০ ফুট সড়ক ও আশপাশের এলাকা গড়ে উঠবে আধুনিক সাজে। বদলে যাবে পুরো এলাকার চিত্র।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর সঙ্গে আরও তিনটি খাল, সড়ক, সেতুসহ আনুষঙ্গিক বিষয় যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ২০১৫ সালের মূল প্রকল্পে কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের দুই পাশে ১০০ ফুট করে খাল খনন করতে ৯০ দশমিক ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করা এই অধিগ্রহণ বাবদ খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রকল্প-এলাকায় ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হয় ২০৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অধিগ্রহণ শেষে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ১০০ ফুট খালের খননকাজ শুরু হয়।
রাজউকের গত আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এর আগেই প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী, আরও ৫৫ দশমিক ১ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণ করা হবে। নতুন জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে আরও ১ হাজার ৪৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও দিতে হবে ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সংশোধনী অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পে মোট অধিগ্রহণ করা জমি হবে ১৪৫ দশমিক ২৫ একর।
সংশোধিত প্রকল্পে তিনটি খাল যুক্ত করা প্রসঙ্গে রাজউকের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্ষা মৌসুমে নিকুঞ্জ, বারিধারা, বারিধারা ডিওএইচএস, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জোয়ারসাহারা, সেনানিবাস, কালাচাঁদপুর, কাওলা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ১০০ ফুট খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে শুধু ১০০ ফুট খাল দিয়ে বিশাল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পের সঙ্গে নতুন করে ডুমনি, বোয়ালিয়া ও এডি-৮ খাল তিনটি যুক্ত করা হয়েছে। খালগুলো খননের পাশাপাশি পাড় বাঁধাইসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। এসব কাজ শেষ হলে নিকুঞ্জ-১, নিকুঞ্জ-২, জোয়ারসাহারা, সেনানিবাস, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কালাচাঁদপুর, কাওলা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আর জলাবদ্ধতা হবে না।
সংশোধিত প্রকল্পে ৩০০ ফুট সড়ক আরও প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত উভয় পাশে দুই লেন করে মোট চার লেনের সড়ক আছে। প্রতি লেনের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার। লেনের প্রস্থ একই রেখে কুড়িল থেকে বালু নদ পর্যন্ত চার লেনের সড়কটি আট লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে দুটি করে সার্ভিস-লেনও থাকবে। এ ছাড়া বালু নদ থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে।
এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচলের জন্য ২০১৫ সালের মূল প্রকল্পে ছয়টি বড় সেতু নির্মাণের কথা বলা ছিল। সংশোধিত প্রকল্পে ১০টি বড় সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হাতিরঝিলের আদলে ১৩টি আর্চ ব্রিজ (বাঁকানো সেতু) নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২২৭ কোটি টাকা। এক্সপ্রেসওয়ের পাশের এলাকার লোকজনের মূল সড়কের সঙ্গে সংযুক্তির জন্য ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া পাতালপথ থাকবে চারটি।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রকল্প-এলাকায় চার কিলোমিটার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের লাইন, দুটি কালভার্ট, ১২টি ওয়াটার বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হবে। মূল প্রকল্পে উল্লেখ থাকা পদচারী-সেতুর সংখ্যা চারটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি, পাম্পহাউস একটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি, স্লুইসগেট চারটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে ১০০ ফুট খাল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাকি কাজ ২০২১ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দর থেকে পূর্বাংশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে না। কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই লোকজন যাতায়াত করতে পারবেন।’ যোগ করেন রাজউক চেয়ারম্যান।

NO COMMENTS

Leave a Reply