Home মূল কাগজ পরামর্শ বর্ষা হোক উপভোগ্য, স্যাঁতস্যাঁতে নয়

বর্ষা হোক উপভোগ্য, স্যাঁতস্যাঁতে নয়

কামরুজ্জামান কাজল

বর্ষা আবেগের ঋতু। কদমের ঋতু। ঘনঘোর মেঘে রবীন্দ্রনাথে ডুবে যাওয়ার ঋতু। প্রশান্তিময় প্রকৃতির সঙ্গে আছে কিছু বাস্তব ঝামেলাও। বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং কর্মক্ষেত্রে ছুটতে হয় যাদের, তাদের জন্য বর্ষা বিড়ম্বনাও বয়ে আনে। সেই সঙ্গে আছে পোকা-মাকড়ের ঘরবসতি। আলমারি’র কাপড় থেকে ভ্যাপসা গন্ধের ভোগান্তি। যারা একটু পরিপাটি থাকতে পছন্দ করেন তাদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা যোগ হয় এই মাসটাতে। কিন্তু চাইলে খুব সহজেই এই বর্ষায় ঘর-গেরস্থালিতে ভালো থাকা সম্ভব। পরামর্শ দিয়েছেন ফারাজানা’স ব্লিজের সত্বাধিকারি ফারজানা গাজী।

না ভিজুক পর্দা
যখনি আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে, আমরা কিন্তু আগে ঘরের দরজা-জানালাই বন্ধ করি। তবে এরই মধ্যে বৃষ্টির ছাট এলে ভিজে যেতে পারে জানালায় ঝোলানো পর্দাগুলো। তাই এ সময় এমন কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা উচিত, যেন তা ভিজলেও সহজেই শুকিয়ে যায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ পর্দা ভেজা থাকলে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে সোঁদা গন্ধ। পলিয়েস্টার, রেশম বা পাতলা সুতির কাপড়ে তৈরি পর্দা এ সময়টার জন্য বেশ উপযোগী।
বৃষ্টি থেমে গেলে খুলে দিন জানালা, সরিয়ে দিন পর্দা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটাও বন্ধ থাক খানিকটা সময়। প্রাকৃতিক হাওয়া ঘরে এলে ঘরের গুমোট ভাব কেটে যাবে।

স্যাঁতস্যাঁতে ভাব নয়
ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব এড়াতে হলে খেয়াল রাখুন, ঘরে কোনো ভেজা জিনিস যেন না থাকে। ভেজা জুতা-মোজা বা ভেজা কাপড়-যেকোনোটির জন্যই ঘরে সোঁদা গন্ধ পাবেন আপনি। ঘরের ভেতরের দেয়াল বা মেঝে ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। দেয়াল বা ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়লে নির্মাণকর্মীদের দিয়ে দেয়াল বা ছাদের সমস্যাটি সারিয়ে নিন তাড়াতাড়ি।

প্রিয় বইয়ের যত্ন
যত্ন করে গুছিয়ে রাখা বইগুলোতেও বর্ষার প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত যে বইগুলো একটু কম নাড়াচাড়া হয়, সেগুলো এই মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। তাই মাঝেমধ্যেই সেগুলোকে তাক থেকে নামিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। এতে বইগুলো ভালো থাকবে বহুদিন। এ ছাড়া বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতা রাখতে পারেন। কোনো বইয়ের পাতায় বা মলাটে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা গেলে অপেক্ষা করুন রোদের জন্য। যেদিন খানিক রোদের দেখা মিলবে, সেদিন বইগুলোকে বারান্দায় রোদে রাখুন কিছুটা সময়ের জন্য।

কাপড়-চোপড়ের যত্ন
আলমারি বা ওয়্যারড্রোব থেকে কাপড় বের করার পর অবশ্যই তা ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো হলো কি না, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন, কারণ নিত্য-ব্যবহার্য আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো না হলে ভেতরে থাকা কাপড়গুলো বাতাসের আর্দ্রতার কারণে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়তে পারে।

সুরভিত প্রিয় ঘর
হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাজা বেলিফুলের একটা মালা ঘরে রেখে দেখুন, সতেজ হয়ে উঠবে ঘরের পরিবেশ। সুগন্ধি অন্য কোনো ফুলও পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গন্ধরাজ ফুলের মতো যেসব ফুলের পাপড়ি একটু পুরু, সেগুলো বেশ কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়। তবে ফুলদানি বা বোতলে পানি দিয়ে ফুল রাখলে অবশ্যই প্রতিদিন পানি পাল্টে দিতে হবে। ফুল সতেজ থাকা অবস্থায় যদি ডাঁটার কোনো অংশ পঁচে যায়, তাহলে পঁচা অংশটুকু কেটে ফেলে দিন।

  • মনে রাখা দরকার
    স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া ঘর আরও বেশি গরম করে তোলে। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে গোসল বা কাপড়-চোপড় ধোঁয়ার কাজটি হয় একদম সকালে, না-হয় বিকেলের দিকে করা ভালো। কারণ দুপুর বা দিনের গরম সময়ের দিকে এই কাজগুলো করলে ঘরের পরিবেশ আরও আর্দ্র বা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। তখন ঘর আরও গরম হয়ে ওঠে।
    ক্স ঘরের মেঝের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব থেকে রেহাই পেতে ঘরে মাঝে মাঝে ব্যবহার করুন রুম ফ্রেশনার। এতে ঝরঝরে থাকবে ঘরের আবহাওয়া।
    ক্স বাতাস চলাচলের জায়গা রাখতে হবে ঘরের ভেতর। সেটা সম্ভব হলে ঘরের দক্ষিণ পাশটাকে প্রাধান্য দিয়ে রাখুন।
    ক্স ঘরের দেয়ালের ছাদকে ছায়ায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে বারান্দা, সানশেড, কার্নিশ ব্যবহার করুন।
    ক্স আমরা অনেকেই বারো মাস কার্পেট ব্যবহার করি। সেটা বর্ষাকালে উপেক্ষা করাই ভালো। বর্ষাকাল দেয়াল-ঘরের মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে হয় বলে এ-সময় কার্পেট উঠিয়ে রেখে তা শীতের দিন ব্যবহার করাই ভালো।
    ক্স পোকামাকড়ের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত মেঝে পরিস্কার করে নিতে হবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply