Home ফিচার বাঁশের তৈরি ‘উভচর স্কুলে’র বিশ্বজয়

বাঁশের তৈরি ‘উভচর স্কুলে’র বিশ্বজয়

0 137

আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার ২০১৯

কারিকা প্রতিবেদক
কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ কানারচরের ‘আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্ট’ এ বছর আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার ২০১৯ জিতেছে। প্রজেক্টটির স্থপতি সাইফ উল হক।
গত ২৯ আগস্ট রুশ ফেডারেশনের তাতারস্তানের রাজধানী কাজানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
‘আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্ট’ একটি উভচর কাঠামোর স্কুল। এমন এলাকায় স্কুলটি অবস্থিত, যেখানে বছরের কয়েক মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। যখন পানি আসে, তখন স্কুলটি ভেসে থাকে; পানি চলে গেলে সেটি মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকে। স্কুলের পুরো কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে ড্রাম, বাঁশ ও দড়ি দিয়ে।
বিভিন্ন দেশের ছয়টি প্রজেক্ট এবার আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পেয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও বাহরাইন, ফিলিস্তিন, রুশ ফেডারেশন, সেনেগাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রকল্প পুরস্কার জিতেছে। বিজয়ীরা ১০ লাখ ডলার অর্থমূল্যের পুরস্কার ভাগ করে নেবে।
এ বছর পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল ২০টি প্রজেক্ট। এর মধ্যে দুটি প্রজেক্ট ছিল বাংলাদেশের। আর্কেডিয়া এডুকেশন ছাড়া অন্যটি হলো গাজীপুরের আম্বার ডেনিম লুম শেড।
আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্টটি সম্পর্কে প্রতিযোগিতার বিচারকরা বলেছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সময় স্থানীয় সামগ্রী ব্যবহার করে কীভাবে সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব, তা বাঁশের তৈরি স্কুলটি দেখিয়েছে। প্রজেক্টটি স্থপতি, নির্মাতা ও গ্রাহকের দলীয় প্রচেষ্টার ফল। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা স্কুলটি নির্মাণে উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখিয়েছেন।
কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ কানারচরের ইটাভাড়া সেতু-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গার শাখা-নদীর তীরে বাঁশ ও ড্রাম দিয়ে তৈরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নদীতে ভাসছিল। ঝকঝকে তকতকে স্কুল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বিভাগের মো. আবদুস সালাম জানান, এখানে বছরে নয় মাস ক্লাস চলে। বর্ষার সময় নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে হয়। এখন স্কুল বন্ধ রয়েছে।
স্থপতি সাইফ উল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো স্থাপনার জন্য আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পাওয়া সম্মানের। প্রজেক্টে আমার সঙ্গে অনেকে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
মালেকা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের জন্য আর্কেডিয়া এডুকেশন প্রজেক্টটির নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। ২০১৬ সালের ফ্রেরুয়ারিতে এটির নির্মাণ শেষ হয়। নির্মাণে ব্যয় হয় ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ টাকা।
প্রজেক্টটি সাধারণ হলেও এটি নদীর স্রোতে বাধা দেওয়া এবং বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান করেছে বলে পুরস্কারের বিচারকরা মনে করেছেন। তারা বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার মতো বৈশ্বিক সমস্যা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে প্রজেক্টটি সমাধানের পথ দেখিয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থাপত্য পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রাচীন ও সম্মানজনক আগা খান অ্যাওয়ার্ড দেওয়া শুরু হয় ১৯৭৭ সাল থেকে। প্রতি তিন বছর পর এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০১৬ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন দুই বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম ও কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। তাদের আগে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশিদের দ্বারা নির্মিত তিনটি স্থাপনা পেয়েছিল এ পুরস্কার। সেগুলো হলো জাতীয় সংসদ ভবন, গ্রামীণ ব্যাংক হাউজিং প্রকল্প ও রুদ্রপুর স্কুল।

NO COMMENTS

Leave a Reply