Home মূল কাগজ প্রচ্ছদ বাংলায় মসজিদ:স্থাপত্যে ঘরানার সূচনা

বাংলায় মসজিদ:স্থাপত্যে ঘরানার সূচনা

মিলটন মোললা
এক বর্গকিলোমিটার জায়গার ভেতর সবচেয়ে বেশি মসজিদ থাকার বিচারে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে আজকের বাংলাদেশ। কিন্তু কীভাবে তার শুরু? কোথা থেকে এলো এই দেশ? হাজার বছরের ইতিহাস খুঁড়ে বাংলা নামের আদিরূপ খুঁজতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, ‘ভঙ্গ’ নামে প্রাচীন এক জনগোষ্ঠীর নাম থেকে এর উদ্ভব, যাদের বাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে। ব্লকমান নামে এক ঐতিহাসিক বলছেন, বঙ্গ নামে এক রাজা ছিলেন, যিনি প্রাচীন রাজ্য ভঙ্গ-এর প্রতিষ্ঠাতা। ভারতের প্রাচীনতম পুরাণগ্রন্থ মহাভারতেও উল্লেখ রয়েছে এই রাজার কথা।
ইতিহাসে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ সালে আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের প্রেক্ষিতে। পরবর্তী গ্রিক ও লাতিন ইতিহাসকাররাও তার এ অভিযানের প্রেক্ষিতে বলেছেন, গঙ্গারিডি নামে এক শক্তিশালী রাজ্যের ভয়াবহ প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়ার ভয়েই শেষ পর্যন্ত ভারত অভিযান অসমাপ্ত রেখে ফিরে যান আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। গঙ্গা উপত্যকায় বাংলাতেই ছিল সেই দুর্ধর্ষ গঙ্গারিডি জাতির বসবাস। এই অঞ্চল খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ এবং দ্বিতীয় শতকে এবং পরবর্তীতে চতুর্থ ও পঞ্চম শতকে এটি মৌর্য এবং গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। সপ্তম শতকে এখান থেকেই সাম্রাজ্য গড়েন রাজা শশাঙ্ক এবং সপ্তম থেকে একাদশ শতক অবধি এ জনপদ শাসন করেন পাল রাজারা।
বাংলায় নগরসভ্যতার প্রাচীনতম স্থাপনা খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে প্রতিষ্ঠিত মহাস্থানগড়। বর্তমান বগুড়া জেলার কাছাকাছি এর অবস্থান। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে ১২ শতকের মধ্যে বাংলায় নির্মিত এবং এখনো টিকে থাকা প্রাচীন স্থাপনার অবশিষ্টাংশের মধ্যে আছে অসংখ্য ধর্মীয় ভবন এবং বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজশাহী জেলায় পাহাড়পুরে ৭৭০-৮১০ খ্রিস্টাব্দে এবং ৮ থেকে ১২ শতকের মধ্যে কুমিল্লার ময়নামতিতে নির্মিত হয় উপমহাদেশের বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। বাংলায় ১০৮০ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু সেন রাজাদের হাতে চলে যায় পাল রাজার ক্ষমতা। ১২০৪ সালে নবাগত মুসলিমদের হাতে চলে যাওয়ার পূর্ব অবধি বজায় থাকে এ পরিস্থিতি।

ভারত তথা বাংলায় মুসলিম আগমন
আরব ভূমিতে জন্ম নেয়ার পর তুরস্ক, পারস্য এবং আফগানিস্তান হয়ে ভারতবর্ষে পদার্পণ করে ইসলাম। ১২ শতকের দিকে উত্তর ভারতে প্রতিষ্ঠা ঘটে যায় তার। ১৬ শতকে মুঘল শাসন শুরু হওয়ার পূর্ব-অবধি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন স্থাপত্যের নির্মাণ ঘটে এসব শাসকের আনুকূল্যে। উত্তর ভারত, গুজরাট, দাক্ষিণাত্য এবং বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশে) এর প্রসার ঘটে সর্বাধিক। মুঘল আমলের নির্মাণশৈলীগুলো মূলত প্রথম যুগের এ নির্মাণশৈলীরই অনুকরণ বা তা দিয়ে অনুপ্রাণিত।
১২০৪ সালে মুহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয় এ সময়কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। এর ফলে সুদূর আরব-পারস্য থেকে শুরু হয়ে এশিয়ার পূর্বদিকে ইসলামী আধিপত্যের শেষ প্রান্তসীমা হয়ে দাঁড়ায় বাংলা। ফলে ওইসব এলাকা থেকে ভাগ্যান্বেষণ, জীবিকা এবং ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে বহু মানুষের আগমনও শুরু হয় এ অঞ্চলে। এসব মানুষের মেধা-কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মধ্যে ছিল নিজের দেশ থেকে বয়ে আনা স্থাপত্য আর কারিগরি জ্ঞান। নতুন দেশে আসার পর তার সঙ্গে মিশেল ঘটে যায় স্থানীয় কাঁচামাল এবং নির্মাণশৈলীর। এভাবেই একদিন হিন্দু এবং বৌদ্ধ প্রভাবপুষ্ট এ জনপদে প্রথমবার নিজেদের মতো করে নতুন নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করেন তারা। বিশ্বের যেখানেই গেছে মুসলিমরা, ধর্মের মূল নির্দেশনা প্রতিপালন, প্রতিদিন পাঁচবার নামাজ আদায়ের উদ্দেশে সেখানেই তারা নির্মাণ করেছে মসজিদ। বিহার এবং স্তুপা অধ্যুষিত নতুন দেশে স্থাপত্যশৈলীর বিচারে নতুন ধরনের এসব মসজিদ হয়ে ওঠে ভিন্ন স্থাপত্যের এক অনন্য নজির। পার্সি ব্রাউনের ভাষায়, রহস্যময়তার আধাররূপী মন্দিরের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে স্থানীয়দের সামনে মসজিদের স্থাপত্য-স্বভাবতই ঋজু ও সরলরূপে প্রতিভাত হয়।
মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্যণীয়। প্রতি শুক্রবার ধর্মানুগ মানুষের বৃহৎ সমাবেশকে ধারণ করার কথা মাথায় রেখেই শুরু হয় এর নির্মাণ-প্রক্রিয়া। মক্কায় কাবাঘরের দিকে মুখ থাকে প্রার্থনাকারীদের। মক্কার দিকে নির্দেশিত দেয়ালটি কিবলা দেয়াল এবং এর নাম ‘মিহরাব’ যা বস্তুত একটি অলঙ্কৃত কুলুঙ্গি। মসজিদে আরও থাকে ইমামের আসন বা মিম্বার, একটি মাকসুরা বা চারদিক ঘেরা একটি উঁচু স্থান, এক বা একাধিক মিনার, যেখান থেকে বিশ্বাসীদের প্রার্থনায় মিলিত হওয়ার আহবান জানান মুয়াজ্জিন। মসজিদে আরও থাকে একটি শান বা প্রাঙ্গণ, যেখানে রক্ষিত হয় কূপ কিংবা জলাধার, যার পানি দিয়ে নামাজে দাঁড়ানোর আগে অজু করেন নামাজি।
মুসলিমরা যখন বাংলায় আসে, তারা সঙ্গে নিয়ে আসে তাদের নতুন স্থাপত্য। মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে তারা নতুন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামগ্রী, প্রযুক্তি ও আবহাওয়ার মিশেল ঘটিয়ে দেন। মধ্যযুগে মুসলিম আগমনের সেই প্রথম যুগ থেকেই মসজিদ নির্মাণে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য গড়ে ওঠে বাংলায়। শাসকশ্রেণির চিন্তাভাবনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আকাঙ্খারও প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায় এসব নির্মাণে।
মুসলিমপ্রধান বাংলায় মসজিদ ইসলামী প্রেরণা ও সকল ধরনের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে ইসলামী ঝান্ডাতলে শামিল হয়ে যায় বাংলা। সেই সময় থেকেই মসজিদ নির্মাণের ধারা চলে এসেছে এ জনপদে। গবেষকরা মোটা দাগে সময়টিকে তিনভাগে ভাগ করেছেন-প্রাথমিক ইসলামী কাল, মুঘল আমল এবং ঔপনিবেশিক যুগ। আজ আমরা বাংলায় ঐতিহ্যমন্ডিত কয়েকটি মসজিদের কথা তুলে ধরছি।

ছোট সোনা মসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মুসলিম শাসনামলে বাংলায় অনেক নতুন শহর, দুর্গ, বিখ্যাতজনের স্মৃতিবিজড়িত তোরণ, বিজয়স্তম্ভ, মসজিদ, সমাধিসৌধ, সড়ক ও সেতু নির্মিত হয়। তবে এ শাসকরা সবচেয়ে বেশি যা নির্মাণ করেন, তা হচ্ছে মসজিদ আর বিশুদ্ধ পানির জন্য বিশাল পুকুর, দীঘি কিংবা জলাধার। বাংলায় ইসলামের প্রথম যুগে সুলতার হুসেন শাহের আমলে রাজধানী গৌড়ের একটি বিখ্যাত মসজিদ ছোটো সোনা মসজিদ। ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ সালের ভেতর এটি নির্মাণ করেন ওয়ালি মুহাম্মাদ নামে এক ব্যক্তি। আদিতে মাঝখানের সারিতে তিনটি চৌচালাসহ পনেরটি সোনায় মোড়ানো গম্বুজ ছিল এর ছাদে। প্রথমেই নজর কেড়ে নেয় মসজিদটির অসাধারণ অলঙ্করণ আর প্রতিটি দেয়ালের ভেতর এবং বাহির উভয় দিকেই খোদাইকাজ। অলঙ্কৃত পাথরের কারুকাজ দেখলে মনে হবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির কাজ। স্থাপনার মেঝেতে প্রথম দিকে ছিল পুষ্পনকশাখচিত চকচকে সুন্দর টালি। সরু খিলানঅলা একটি পাথরের তোরণ রয়েছে মসজিদের পূর্বদিকে।

বাঘা মসজিদ, রাজশাহী
হুসেন শাহের আমলে আরেকটি চমৎকার স্থাপনা ১৫২৩ সালে সুলতান নুসরাত শাহ নির্মিত বাঘা মসজিদ। উল্টো কাপের আকৃতিতে ছোট দশটি গম্বুজ রয়েছে এর ছাদে। প্রতিটি দেয়ালে বিশেষত মিহরাবের অলঙ্করণেও রয়েছে পোড়ামাটির অপূর্ব কারুকাজ, যাতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন নকশা, আঙুর আর গোলাপের আবহ।

কুসুম্বা মসজিদ, নওগাঁ
মুসলিম সালতানাতের শেষ দিককার স্থাপত্য-নিদর্শন কুসুম্বা মসজিদ। সুলতান গিয়াসউদ্দিন প্রথম বাহাদুর শাহের আমলে জনৈক সোলায়মান এটি নির্মাণ করেন। আয়তাকার এ মসজিদের ছাদে রয়েছে অর্ধগোলাকৃতি ছয়টি গম্বুজ। ইসলামী শাসনের প্রাথমিক যুগে নির্মিত মসজিদগুলোর মধ্যে মাত্র ছয়টি পাথরনির্মিত মসজিদ টিকে আছে বর্তমানে, কুসুম্বা মসজিদ তাদের অন্যতম। এতে ব্যবহৃত কালো ব্যাসাল্ট পাথরগুলো নদীপথে আমদানি করা হয় রাজমহল এবং বিহারের পাহাড় থেকে। মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোনে মজবুত পাথর নির্মিত পিলারের ওপর গড়ে তেলা হয়েছে একটি অলঙ্কৃত গ্যালারি। প্রার্থনাকক্ষের মেঝে থেকে একটি সিঁড়ি উঠে গেছে এই গ্যালারিতে। ধারণা করা হয়, এ গ্যালারিটি ছিল মূলত রাজ্যের সুলতান কিংবা শাসক কিংবা এর নির্মাতাদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত।

ষাট গম্বুজ মসজিদ, বাগেরহাট
বাগেরহাটের খান জাহান ঘরানায় নির্মিত এ মসজিদ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে মনোগ্রাহী এবং বৃহত্তম ইষ্টক-নির্মিত মসজিদ। এর ছাদের মাঝখানের সারিতে সাতটি চৌচালাসহ রয়েছে ৭৭টি ছোট গম্বুজ। ১৪৪২ সালে শুরু হয়ে মসজিদের নির্মাণ-কাজ শেষ হয় ১৪৫৯ সালে। ইউনেস্কো এটিকে ঘোষণা করেছে ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং ভারতবর্ষের সবচেয়ে নজরকাড়া মুসলিম স্থাপত্য’ হিসেবে। মসজিদের প্রার্থনা-কক্ষের আয়তন ১৬০ ফুট বাই ১৯০ ফুট এবং এর ধারণক্ষমতা একসঙ্গে ২,০০০ লোক। আলো-হাওয়া গমনাগমনের জন্য এর পূর্বদিকে ১১টি এবং উত্তর ও দক্ষিণে সাতটি করে খিলানঅলা দরজা রয়েছে।

শুরা মসজিদ, দিনাজপুর
ইট-পাথরে নির্মিত শুরা মসজিদ মুসলিম সালতানাতের আরেকটি চমৎকার স্থাপত্য-নমুনা। এতে মূল প্রার্থনাকক্ষটি বর্গাকৃতির, যার সামনে পূর্বদিকে আছে একটি করিডোর এবং ছয়টি অষ্টভ‚জাকৃতির টারেট বা খুদে মঞ্চ। তৎকালীন স্থাপত্যের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল এটি। ঢালু হয়ে নেমে গেছে এর কার্নিশ এবং তিনটি মিহরাবসমৃদ্ধ পশ্চিম দেয়ালে আকীর্ণ রয়েছে বিস্তর পোড়ামাটির অলঙ্করণে। এর মূল প্রার্থনাকক্ষের ওপর রয়েছে একটিমাত্র লম্বা পেটমোটা গম্বুজ। এ ছাড়া করিডোর ঘিরে আছে তিনটি ছোট গম্বুজ। গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদের মতো এর দেয়ালেও অলঙ্কৃত হয়েছে পাথরের খোদাই কারুকাজ।

গৌড়ের দারাশবাড়ি মসজিদ
ইলিয়াস শাহী আমলের প্রবীণ স্থাপত্যের এক উৎকৃষ্ট নমুনা দারাশবাড়ি মসজিদ। সুলতান ইউসুফ শাহের আমলে ১৪৭০ সালে এর নির্মাণ। বারান্দায় সাতটি খিলানঅলা ফটক দিয়ে ঢুকতে হয় মূল প্রার্থনাকক্ষে। ধারণা করা যায়, এর ছাদের ওপর একগুচ্ছ চৌচালাসহ ছিল সারিবদ্ধ গম্বুজ। বাইরে থেকে সিঁড়ি উঠে গেছে উত্তর-পূর্ব কোনে একটি গ্যালারিতে। ভেতরে পশ্চিম দিকে দেয়ালে উৎকীর্ণ রয়েছে নয়টি মিহরাব। এর গায়ে শিল্পিত হয়েছে পুষ্প ও জ্যামিতি আকারে নজরকাড়া পোড়ামাটির অলঙ্করণ।

গৌড়ের রাজবিবি মসজিদ
একটি মাত্র গম্বুজঅলা বর্গাকৃতির এ মসজিদের গায়ে একটি বারান্দা, যার ছাদে তিনটি ক্ষুদ্রাকৃতির গম্বুজ। এর দেয়ালে উৎকীর্ণ পোড়ামাটির অলঙ্করণ, যাতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ফুলের নকশা। কালো ব্যাসাল্ট নির্মিত পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে গম্বুজ। প্রার্থনাকক্ষের পশ্চিম দেয়ালের শোভা বর্ধন করেছে অলঙ্কৃত কালো পাথরের মিহরাব। স্থাপত্যশৈলী থেকে এটি ১৫ শতকের নির্মাণ বলে মনে করা হয়। স্থাপনার গায়ে কোরানের একটি আয়াত আরবিতে উৎকীর্ণ রয়েছে এখনো। রাজবিবির পরিচিতি সুস্পষ্ট নয়, তবে তিনি রাজকীয় হেরেমের কোনো প্রভাবশালী নারী হয়ে থাকবেন বলেই ধারণা করা হয়।

গৌড়ের ধুনিচক মসজিদ
আয়তাকার এ প্রার্থনাভবনের নির্মাণশৈলীতে ইলিয়াস শাহ আমলের ঘরানা সুস্পষ্ট। এতেও রয়েছে একটিমাত্র গম্বুজ। তিনটি অলঙ্কৃত মিহরাব রয়েছে পশ্চিমের দেয়ালে। প্রতিটি মিহরাবের গায়ে লতানো অলঙ্করণ।

গোয়ালদি মসজিদ, সোনারগাঁও
সুলতান আমলের আরেকটি এক-গম্বুজঅলা মসজিদের নিদর্শন গোয়ালদি মসজিদ। পানাম নগরের আধামাইল উত্তর-পূর্বে এর অবস্থান। সুলতান হুসাইন শাহের আমলে ১৪১৯ সালে হিজাবার আকবর খান এটি নির্মাণ করেন। তিনটি অসাধারণ বক্র মিহরাবসমৃদ্ধ ১৬ বর্গফুট আয়তনের একটি চমৎকার নির্মাণ এ মসজিদ। তিন মিহারবের মাঝখানেরটির গায়ে খোদাই কাজে দেখা যায় ফুলের নকশা। অন্যগুলো নকশা করা হয়েছে পোড়ামাটির অলঙ্করণে। ভেতরে গম্বুজের ভার বহন করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরের স্তম্ভ।

চুনাখোলা মসজিদ, বাগেরহাট
শস্যবহুল সমতল জমির প্রেক্ষাপটে ছবির মতো মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে চুনাখোলা মসজিদ। সিঙ্গাইর মসজিদের অনুরূপ স্থাপত্যে নির্মিত এবং একইরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তীব্র আবহাওয়ার দাপটে।

NO COMMENTS

Leave a Reply