Home বাজার দর পেইন্ট বাজারদর

বাজারদর

সাবরিনা মিলি


ইটঃ
বর্তমানে বাড়ি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের এবং মানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ধরন এবং মানের ওপর নির্ভর করে দামেরও ভিন্নতা রয়েছে।
আমরা বাড়ি নির্মাণে সাধারণত যে ধরনের ইট করি এ ধরনের ইটের মধ্যে ১ নম্বর ইট পরিবহন খরচ বাদে ৮ হাজার থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২ নম্বর ইটের দাম ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও দাম কিছুটা কম ছিল।

ব্লক ইট বা হলো ব্লকঃ
ইটের পরিবর্তে এখন অনেক নির্মাণ কাজে ব্লক ইট বা হলো ব্লক ব্যবহার হচ্ছে। কারণ তৈরিতে মাটি বা মাটি পোড়ানোর কোনো ঝামেলা নেই। ব্যবহার হয় পাথর, বালি এবং সিমেন্ট।
ইটের হাজার যেখানে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, সেখানে ১ হাজার হলো ব্লকের দাম ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। ইটের তুলনায় একটি ব্লক ৪ থেকে ৬ গুণ বড় এবং ভেতরে ফাঁপা। তাই ব্লক ইট পরিবেশবান্ধব, নির্মাণে খরচ কম এবং ভবনের ওজনও কমে যায়।
সাধারণ ভবনে এক বর্গফুটের নির্মাণ খরচ পড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ ব্লক ইট ব্যবহার করে ভবন তৈরি করতে প্রতি বর্গফুটে খরচ হয় মাত্র ১ হাজার ১৫০ টাকা।

থ্রি হোল ব্রিকঃ
এই ইটকে ইঞ্জিনিয়ারিং ইট বলে। মীর সিরামিক্স এই ইট উৎপাদন করে। এটির দাম একটু বেশি মনে হলেও অন্যান্য দিকে সাশ্রয়ী। থ্রি হোল ইট প্রতি হাজার পরিবহন খরচ বাদে বিক্রি হচ্ছে ১৯৫০০ টাকা। ইটের সাইজ ৭.৫ x ৪.৫ x ৬.৫ নির্মাণ কাজে এই ইট ব্যবহার করলে ওয়ালে প্লাস্টারের প্রয়োজন হয় না। সাধারণ ইটের থেকে এই ইট ভার্টিক্যালি বেশি লোড নিতে পারে। ১০০ এসেফটি নির্মাণে প্রয়োজন হয় ২৯৫টি ইট।

টেন হোল ইটঃ
এই ইটকে ইঞ্জিনিয়ারিং ইট বলে। এটির দাম একটু বেশি মনে হলেও অন্যান্য দিকে সাশ্রয়ী। টেন হোল ইট প্রতি হাজার পরিবহন খরচ বাদে বিক্রি হচ্ছে ১৮৯০০ টাকা। ইটের সাইজ ৯.৯x ৪.৫x ২.২৫। নির্মাণ কাজে এই ইট ব্যবহার করলে ওয়ালে প্লাস্টারের প্রয়োজন হয় না। সাধারণ ইটের থেকে এই ইট ভার্টিক্যালি বেশি লোড নিতে পারে। ১০০ এসেফটি নির্মাণে প্রয়োজন হয় ৫০০টি ইট। এটি মীর সিরামিক্সের একটি পণ্য।

বালিঃ
মাটিতে গর্ত করে এক ধরনের বালি পাওয়া যায়, যা মসৃণ, কোনাকার এবং ক্ষতিকারক লবণ থেকে মুক্ত থাকে। এই ধরনের বালি সাধারণত মর্টারের কাজে ব্যবহৃত হয়।
নদীর বালিঃএই ধরনের বালি নদীর উপকূলে পাওয়া যায়, যা চিকন ও গোলাকার হয়ে থাকে। এটা পিট বালি অপেক্ষা সূক্ষ্ম, তাই প্লাস্টারিংয়ের কাজে এই বালি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
মোটা দানাঃ বালির দানা তুলনামূলক একটু বড় আকৃতির হয়, তাই নির্মাণ কাজে ঢালাইয়ের সময় খুবই উপযোগী।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পরিবহন খরচসহ প্রতি ট্রাক (৫ টনি) ভালো মানের আস্তর বালি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। ভিটি বালি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়। তৈরিতে সিলেট বালি সমান থাকে।

সিমেন্ট
নির্মাণ কাজে সিমেন্ট একটি অপরিহার্য পর্দাথ। বর্তমান বাজারে সিমেন্টের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল। শাহ সিমেন্ট স্পেশাল ব্যাগ-প্রতি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে শাহ পপুলারের ব্যাগ-প্রতি দাম ৩৭০ থেকে ৩৭৫ টাকা। সেভেন রিং স্পেশালের ব্যাগ-প্রতি দাম ৪০০ টাকা, সেভেন রিং নরমাল ব্যাগ-প্রতি ৩৮০ টাকা এবং সেভেন রিং গোল্ড ব্যাগ-প্রতি ৪৩০ টাকা। হোলসিম নরমাল ব্যাগ-প্রতি দাম ৪৩৫ থেকে ৪৪০ টাকা, হোলসিম ওপিসির ব্যাগ-প্রতি দাম ৪৮৫ থেকে ৪৯০ টাকা। স্ক্যান ব্যাগ-প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ টাকায়। ডায়মন্ড সিমেন্ট ব্যাগ-প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪১০ থেকে ৪১৫ টাকা।

রডঃ
কেএসআরএমের ৬০ গ্রেড এবং ৫০০ডব্লিউ রডের প্রতি টন ৫১ হাজার থেকে ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। বিএসআরএমের দাম প্রতি টন ৫২ হাজার টাকা। একেএস ৫০০টিএমটি প্রতি টন ৫১ হাজার টাকা। আনোয়ারের রডের প্রতি টন ৪৯ হাজার থেকে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা।

টাইলসঃ
দেশে তৈরি ১২ ইঞ্চি বাই ২০ ইঞ্চি সাইজের ওয়াল টাইলস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ১০ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি ৫০ থেকে ৬৫ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১৮ ইঞ্চি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফ্লোরের জন্য সাড়ে ১২ ইঞ্চি বাই সাড়ে ১২ ইঞ্চি সাইজের টাইলস বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের হোমোজিনাস টাইলস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ১৬ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি সাইজের হোমোজিনাস টাইলস ৫৭ থেকে ৬৫ টাকা। অপরদিকে ১২ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি সাইজের চায়না ওয়াল টাইলসের দাম ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা, ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের দাম ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা। আর ১২ ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি সাইজের ফ্লোর টাইলসের দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

রঙঃ
চাহিদাসম্পন্ন অধিকাংশ রঙের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বার্জার, এশিয়ান ও আরএকের মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডের রঙ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বার্জারের ১৮.২ লিটারের বালতি-ভর্তি প্লাস্টিক ইমালশন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫০ টাকা, অ্যানামেল পেইন্ট প্রতি গ্যালন বিক্রি হচ্ছে ৯৬০ টাকা। অপরদিকে ১৮.২ লিটারের বালতি-ভর্তি ডিসটেম্পার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকা। একই পরিমাপের ওয়েদারকোট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ টাকা। একই পরিমাপের ওয়াটার সিলার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০ কেজি ডিওরোসেম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এশিয়ান অনুরূপ ওজনের রঙ যথাক্রমে বিক্রি করছে ৩ হাজার ৩৫০, ২ হাজার ৬৫০, ৬৮০, ১ হাজার ৪৫০, ৪ হাজার ৪০০, ২ হাজার ৮০০ ও ১ হাজার ১৫০ টাকা। আরএকে বিক্রি করছে ৩ হাজার, ৯৫০, ৪ হাজার ২০০, ২ হাজার ৬০০ ও ১ হাজার ২০০ টাকা।

বি. দ্র. : স্থান ও সময়ভেদে দামের তারতম্য হতে পারে।

NO COMMENTS

Leave a Reply