Home অন্তর্জাতিক বিশ্বসেরা স্থপতিদের নকশায় ৫ সেরা ভবন!

বিশ্বসেরা স্থপতিদের নকশায় ৫ সেরা ভবন!

খালিদ জামিল


যারা ভবনের নকশা করেন তাদের মনে রাখতে হয় বেশকিছু বিষয়। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে হয় কল্পনাশক্তিকে। তবে বর্তমান সময়ে ভবনের নকশার ক্ষেত্রে সেটাকে আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার মানুষ করতে পারে খেয়াল রাখতে হয় সেদিকেও। স্থপতি স্টিভেন হল তার ফার্মের নকশায় নির্মিত বেইজিংয়ের আবাসিক ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স লিঙ্কড হাইব্রিডের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আপনি ব্যাপারটা কোনোভাবেই বুঝবেন না যদি এর ওপর, ভেতর এবং চারদিক সম্পর্কে না জানেন।’
হল বলছেন, ‘এই স্থাপনা একটি ‘আল্ট্র গ্রিন প্রজেক্ট’, যেখানে রয়েছে ৬৫৫টি জিওথারমাল দেয়াল। এগুলো কমপ্লেক্সের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়েই এই বিষয়গুলো রাখতে হয়েছে।
রেইকজাভিক’স হারপা কনসার্ট হল ও কনফারেন্স সেন্টারের উদাহরণও আসতে পারে এখানে। এই স্থাপনাটি স্থাপত্য ফার্ম হেনিং লারসন, বাটেরিও ও শিল্পী ওলাফুর ইলিয়াসনের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি। অ্যাসাইমেট্রিক্যাল ধাঁচের এই স্থাপনাতে ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি-অ্যালুমিনেটেড কাচ আর স্টিলের ইট। যে-কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থাপনাটি আভির্ভূত হয় অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে। বিশ্বের এমন সেরা ১০ স্থাপনা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনের ১ম পর্ব।

১. হারপা কনসার্ট হল
রেইজাভিক আইল্যান্ড
হেনিং লারসন আর্কিটেক্ট এবং বাতেরিও আর্কিটেক্ট (২০১১)
আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার বেশ আগে থেকেই এই কনসার্ট হল আইল্যান্ডের চেহারাই বদলে দেয়। এক সময়ের ঘুমন্ত সৈকত যেন জেগে ওঠে। এর বিভিন্ন রঙের কাচ মানুষকে মোহিত করার ক্ষমতা রাখে। আর সে-কারণেই একে দেখতে স্থানীয়রা তো বটেই, বাইরে থেকেও মানুষ আসেন। শিল্পী ওলাফুর এলিসনের ক্রিস্টাল লাইন শেলটা পুরো স্থাপনার সঙ্গে মানিয়েছে অদ্ভুতভাবে। সাগরতীরে রাতে যখন এলইডি লাইটগুলো জ্বলে ওঠে, সেই সৌন্দর্য অবর্ণনীয়।

২. বুর্জ খলিফা
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
স্কিডমোর, ওইংস অ্যান্ড মেরিল (২০১০)
মরুভূমির বুকে সবকিছুকে পেছনে ফেলে যেন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ২,৭১৭ ফুট উচ্চতার এই সুপার টাওয়ার। বাগিয়ে নিয়েছে বিশ্বের উচ্চতম ভবনের তকমা। ১৬২তলা এই ভবনটিতে অফিস থেকে শুরু করে বাসা, রেস্টুরেন্ট এমনকি একটি আরমানি হোটেলও রয়েছে। অবজারভেশন ডেকটা ১২৪তলায়। কেবল উচ্চতার দিক দিয়ে নয়, নকশার আরো অনেক দিক দিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য স্থাপনাকে পেছনে ফেলেছে। স্টিলের ফ্রেমের ওপর গ্লাস-কার্টেন দেয়াল, যেটা আরবের প্রখর সূর্য থেকে ভবনের ভেতরটা রক্ষা করে। নিচ থেকে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে ভবনটি ‘ওয়াই’ আকৃতি ধারণ করেছে।

৩. গার্ডেন্স বাই দ্য বে
সিঙ্গাপুর
উইলকিনসন আয়ের আর্কিটেক্টস, গ্র্যান্ট অ্যাসোসিয়েটস (২০১২)
২০১২ সালের ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার ফেস্টিভ্যালে ‘বিল্ডিং অব দ্য ইয়ার’ মনোনীত হয় গার্ডেন্স বাই দ্য বে। মেরিনা বে ডিস্ট্রিক্টে প্যারাবোলিক আকৃতির বোটানিক্যাল গার্ডেন এটা। শুকনো এবং বর্ষা দুই মৌসুমের কথা মাথায় রেখেই এই নকশা করে উইলকিনসন আয়ের আর্কিটেক্টস। যে-কারণে তৃণভূমি কিংবা পাহাড়ি বনের মতোই আকর্ষণ এখানে। ভার্টিক্যাল বাগানটি তৈরিতে খুব বড় কিছু অবশ্য করেনি গ্র্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। দর্শকদের হাঁটার জন্য শুধু এলিভেটেড ওয়াকওয়ের ব্যবস্থা করা আছে, যেটা গিয়ে মিলেছে ‘সুপার স্ট্রিটের’ সঙ্গে। সঙ্গেই রয়েছে কয়েকটি জায়গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জন্য সোলার প্যানেল।

৪. লিঙ্কড হাইব্রিড
বেইজিং
স্টিভেন হল আর্কিটেক্টস (২০০৯)
এটা মূলত আটটি টাওয়ারের সমন্বয়। প্রত্যেকটি পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের কাজেই এটা ব্যবহৃত হয়। একুশ শতকের নগর উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে এই স্থাপনা। অভিজাত আবাসিক অংশটি যাতে স্থাপনার বাকি অংশ থেকে আলাদা না হয়ে পড়ে সেজন্য নিচতলায় খোলা প্যাসেজ রাখা হয়েছে। পাবলিক স্পেস যেমন বাগান, দোকান, রেস্টুরেন্ট এবং স্কুলগুলোতে যাওয়ার জন্য সব অংশ থেকেই রাখা হয়েছে পায়ে-চলার পথ। বাসিন্দা আর বাইরে থেকে আসা মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য রয়েছে কাচ আর ইস্পাতের মিশেলে তৈরি কয়েকটি সেতুও।

৫. দ্য শার্ড
লন্ডন
রেনজো পিয়ানো বিল্ডিং ওয়ার্কশপ (২০১২)
লন্ডনে আয়োজিত সর্বশেষ সামার অলিম্পিক যারা দেখেছেন তাদের কাছে ৭২তলাবিশিষ্ট এই ভবন পরিচিতই মনে হবে। পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু ভবন এটি। টেমস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ রাজধানীর স্কাইলাইনকে নতুন রূপ দিয়েছে এই বহুতল ভবন। কাচের আউটলাইনটার আটটি কোণ থাকায় শহরের প্রতিটা দিক যেমন এখান থেকে দেখা যায়, তেমনি ভেতরে সূর্যের আলো ঢুকতে পারে ভালোভাবেই। অফিস, অ্যাপার্টমেন্ট, রেস্টুরেন্ট আর হোটেল এ সবকিছু থাকায় ভবনটাকে বলা হয় ‘ভার্টিক্যাল ভিলেজ’। এ ছাড়া শহরটা অন্যভাবে দেখার জন্যও এখানে আসেন অনেকে। যেকোনো দিকে এখান থেকে দেখা যায় ৪০ মাইল পর্যন্ত।

 

NO COMMENTS

Leave a Reply