Home অন্তর্জাতিক বিশ্বসেরা স্থপতিদের নকশায় সেরা ১০ ভবন

বিশ্বসেরা স্থপতিদের নকশায় সেরা ১০ ভবন

খালিদ জামিল


যারা ভবনের নকশা করেন তাদের মনে রাখতে হয় বেশকিছু বিষয়। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে হয় কল্পনাশক্তিকে। তবে বর্তমান সময়ে ভবনের নকশার ক্ষেত্রে সেটাকে আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি নিজের সৃষ্টির যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার মানুষ করতে পারে খেয়াল রাখতে হয় সেদিকেও। স্থপতি স্টিভেন হল তার ফার্মের নকশায় নির্মিত বেইজিংয়ের আবাসিক ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স লিঙ্কড হাইব্রিডের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আপনি ব্যাপারটা কোনোভাবেই বুঝবেন না যদি এর ওপর, ভেতর এবং চারদিক সম্পর্কে না জানেন।’
হল বলছেন, ‘এই স্থাপনা একটি ‘আল্ট্র গ্রিন প্রজেক্ট’, যেখানে রয়েছে ৬৫৫টি জিওথারমাল দেয়াল। এগুলো কমপ্লেক্সের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়েই এই বিষয়গুলো রাখতে হয়েছে।’
রেইকজাভিক’স হারপা কনসার্ট হল ও কনফারেন্স সেন্টারের উদাহরণও আসতে পারে এখানে। এই স্থাপনাটি স্থাপত্য ফার্ম হেনিং লারসন, বাটেরিও ও শিল্পী ওলাফুর ইলিয়াসনের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি। অ্যাসাইমেট্রিক্যাল ধাঁচের এই স্থাপনাতে ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি-অ্যালুমিনেটেড কাচ আর স্টিলের ইট। যে-কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থাপনাটি আভির্ভূত হয় অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে। বিশ্বের এমন সেরা ১০ স্থাপনার শেষ পাঁচ নিয়ে আমাদের আয়োজন।

১। প্যারট মিউজিয়াম অব ন্যাচার অ্যান্ড সায়েন্স
ডালাস
মেট্রোপলিস আর্কিটেক্টস (২০১২)
স্থপতি থম মায়ান ‘মরফোসিসে’র নকশা করে জিতেছিলেন বিশ্বখ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার। স্থাপত্যবিদ্যার বাধাধরা নিয়মের বাইরে ভাবতে পারায় বিশেষ পরিচিতি আছে তার। প্যারট মিউজিয়ামও এমনই সৃষ্টি। খাঁজকাটা কংক্রিটে নির্মিত পাঁচতলা কিউব। কোণগুলোতে আছে টেক্সাস ঘাস। নিচ থেকে কাচে মোড়ানো এস্কেলেটর দর্শনার্থীদের নিয়ে যায় সরাসরি ওপরের মূল প্রদর্শনীতে।

২। প্যারিস আর্ট মিউজিয়াম
ওয়াটার মিল, নিউইয়র্ক
জারজগ অ্যান্ড ডিমেউরন (২০১২)
ত্রিকোণ দ্বিতল ছাদ, সেগুলো আবার সাদা ঢেউ তোলা ধাতুতে নির্মিত। অনেকটা প্রাচীন শস্যাগারের মতো। সেই সঙ্গে কুঁড়েঘরের মতো আর্টিস্ট স্টুডিওটা সংযুক্ত লং আইল্যান্ডের পূর্ব প্রান্তের সঙ্গে।
কংক্রিটের এই স্থাপত্যর নকশা মূলত সুইস ফার্মটির সিনিয়র অংশীদার আসকান মারগেনথালারের। ভেতরটা ঠান্ডা রাখতে মূলত গ্যালারির ছাদের নিচে তিনি প্রাকৃতিক কাঠের সিলিং দিয়েছেন। পাশাপাশি ছাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে পর্যাপ্তসংখ্যক জানালা।

৩। গুয়ানজু অপেরা হাউজ
গুয়ানজু, চীন
জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস (২০১০)
সাম্প্রতিক সময়ের চীনা ভবনগুলো অন্যরকম সংস্কৃতি তৈরি করেছে। তবে জাহা হাদিদের মতো এমন স্থাপনার দেখা মেলা ভার। এটা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। বড়টা ১,৮০০ সিটের হলরুম আর ছোটটার ধারণক্ষমতা ৪০০।
দুই অংশেই আছে স্টিল-ফ্রেমের ওপর কাচের দেয়ালের ব্যবহার। আছে গ্রানাইটের প্যানেলও। এই উপকরণ ব্যবহারের কারণে এর নির্মাণের সময় এবং বর্তমানে দেখভালের জন্য বড় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে কমপ্লেক্সটি একুশ শতকের চীনের একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য।

৪। মেট্রোপোল পারাসোল
সেভিয়া, স্পেন
জে মায়ার এইচ আর্কিটেক্টস (২০১১)
গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্মিত সেভিয়ার প্লাজা ডি লা এনকারনেসিওনকে বিসর্জন দিয়েই এই প্রজেক্টের পক্ষে মত দিয়েছিলেন শহরের কর্তারা। এর ছাদের উচ্চতা ৯০ ফুট আর দৈর্ঘ্য ৫০০ ফুট। এর মধ্যেই রয়েছে একটি রেস্টুরেন্ট এবং একটি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর।

৫। অ্যাবসল্যুট ওয়ার্ল্ড
মিসিসাউগা, ওন্টারিও
ম্যাড আর্কিটেক্টস (২০১২)
টরেন্টোর সবচেয়ে বড় শহরতলিতে গড়ে উঠেছে এই বহুতল আবাসিক স্থাপনা। টানা বারান্দা আর উপবৃত্তাকার মেঝের বিন্যাস ৫০ ও ৫৬তলা ভবনকে আলাদা রূপ দিয়েছে। বেইজিংয়ের নতুন একটি ফার্ম এই স্থাপত্যের নকশা করেছে। তাদের সহযোগী হিসেবে অবশ্য ছিল বুরকা আর্কিটেক্টস। ২০০৪ সালে ম্যাড প্রতিষ্ঠা করেন ইয়ানসং মা। মঙ্গোলিয়ার অরডোস জাদুঘরের নকশা করে তারা বেশ খ্যাতি অর্জন করেন। অ্যাবসল্যুট ওয়ার্ল্ড প্রজেক্টের নকশাও তারা করেছেন আর ১০টা ভবনের তুলনায় বেশ আলাদাভাবে।

NO COMMENTS

Leave a Reply