Home অন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রাচীনতম পাঁচ স্থাপত্য-নির্দশন

বিশ্বের প্রাচীনতম পাঁচ স্থাপত্য-নির্দশন

0 131

প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতায় অনন্য অনেক স্থাপত্য-নির্দশন আমাদের নজর কাড়ে। প্রাচীনকালে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ছিল না। কিন্তু স্থাপত্যশৈলীতে প্রাচীনযুগ পিছিয়ে ছিল একথা বলা যাবে না। বরং প্রাচীনযুগের অনেক স্থাপত্য থেকে ধারণা নিয়ে গড়ে উঠেছে আজকের যত নান্দনিক স্থাপত্য। প্রস্তরযুগ থেকে শুরু করে মিশরযুগের পাঁচটি প্রাচীন স্থাপত্য-নিদর্শন নিয়ে এ আয়োজন।

মেগালিথিক টেম্পল, মাল্টা
মাল্টার মেগালিথিক টেম্পলকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন স্থায়ী কাঠামো বলে মনে করা হয়। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের তিন পর্বে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে মাল্টার হেরিটেজ বিভাগ মন্দিরটির দেখভাল করছে। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় মাল্টার অনেক জায়গায় মল্টিয় মন্দির নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি মন্দিরের ছিল অনন্য স্থাপত্য-বৈশিষ্ট্য। সেই সঙ্গে সব মন্দিরের স্থাপত্য-নির্দশনে একটি সাধারণ মিলও খুঁজে পাওয়া যেত।
এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ছিল, দেয়ালগুলো বড় পাথরের একটি অখণ্ড স্লাব দিয়ে তৈরি করা হতো। মন্দিরগুলোকে আলাদা করা যেত তাদের গম্বুজ-আকৃতির ছাদের সংখ্যার অনুপাতে। মন্দিরের আকারভেদে সেখানে তিন, চার, পাঁচ এমনকি ছয়টি গম্বুজও থাকত। মন্দিরের পূর্বপ্রান্তে গম্বুজ-আকৃতির ছাদের অর্ধবৃত্তাকার অংশগুলো আলগা পাথর এবং কখনও কখনও মাটি দিয়ে ভরাট করা থাকত।
মন্দিরের বাইরের দেয়াল কোরালাইন লাইমস্টোন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। কোরালাইন লাইমস্টোন খুবই শক্ত এক প্রকারের চুনাপাথর। যার কারণে বন্য পশুরা মন্দিরে আক্রমণ করতে পারত না। মন্দিরের ভেতরের দিককার দেয়ালে গ্লোবিজেরিনা লাইমস্টোন ব্যবহার করা হতো। গ্লোবিজেরিনা লাইমস্টোনের পাশাপাশি মন্দিরের অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জ্বায় বিভিন্ন গাছপালা এবং প্রাণীর দেহাবশেষ ব্যবহার করা হতো।

বারনেনেজ কেয়ার্ন, ফ্রান্স
বারনেনেজ কেয়ার্ন হলো বারনেনেজের স্মৃতিস্তম্ভ। ফ্রান্সের ব্রিটিনিতে অবস্থিত এই স্মৃতিস্তম্ভটিকে নিওলিথিক বা পাথরযুগের শেষ স্মৃতিস্তম্ভ মনে করা হয়। প্রস্তরবিদরা এটিকে ইউরোপের প্রাচীনতম মেগালিথিক স্মৃতিগুলোর মধ্যে একটি বলে মনে করেন। বারনেনেজ কেয়ার্নটি ৭২ মিটার দীর্ঘ, ২৫ মিটার প্রস্থ এবং এর উচ্চতা ৮ মিটার।
বারনেনেজ কেয়ার্ন দুটি পর্বে নির্মাণ করা হয়। প্রথম পর্বটি খ্রিস্টপূর্ব ৪২৫০ থেকে ৪৮৫০-এর মধ্যে এবং দ্বিতীয়টি ৪০০০ থেকে ৪৪৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। স্থাপনাটি নির্মাণে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার টন পাথর ব্যবহৃত হয়েছিল। স্মৃতিস্তম্ভটিতে গ্রানাইট এবং স্লেটের তৈরি ১১টি কক্ষ আছে, যা আলাদা প্যাসেজ দিয়ে ব্যবহার করা যায়। সবগুলো কক্ষের প্রবেশপথ পাথর দিয়ে বন্ধ করা ছিল। যার অনেক অংশ খননকারীরা আংশিক উম্মুক্ত করেছেন। সেখানে আরও নয়টি সংকীর্ণ শুকনো পাথরের দেয়াল আছে, যেগুলো স্লাব এবং সিসা দিয়ে আচ্ছাদিত।

নাপ অব হাওয়ার, স্কটল্যান্ড
নাপ অব হাওয়ার ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন দর্শনীয় স্থান। স্কটল্যান্ডে অবস্থিত নাপ অব হাওয়ারকে নিওলিথিক বা নবপ্রস্তরযুগের ফার্মহাউজ মনে করা হয়। স্থাপনাটি খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০ থেকে ৩৭০০ সাল পর্যন্ত ঔপনিবেশিক শাসকদের দখলে ছিল। প্রাচীন এই স্থাপনাটিতে সমুদ্রমুখী দুটি আয়তক্ষেত্রকার ভবন রয়েছে। একটি ভবন খামারিদের বসবাসের জন্য এবং অন্যটি পশুপালন ও পশুখাদ্য সংরক্ষণের ভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মাটির নিচে কোনো শক্ত ভিত্তি না থাকার কারণে ঔপনিবেশিক শাসনামলে ফার্মহাউজের ১.৬ মিটার দেয়াল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। খামারিদের বসবাসের ভবন এবং পশুপালনের ভবন দুটি দৈর্ঘ্যে ১০ মিটার এবং প্রস্থে ৫ মিটার।

নিউগ্রাঞ্জ, আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি মেথে অবস্থিত নিউগ্রাঞ্জ একটি প্রাগৈতিহাসিক নির্দশন। স্মৃতিস্তম্ভটি আনুমানিক খিস্টপূর্ব ৩২০০০ সালে নির্মিত হয়েছিল। নির্মাণের দিক দিয়ে স্থাপনাটি স্টোনহেন বা মিশরীয় পিরামিডের চেয়েও পুরনো। নিউগ্রাঞ্জ সমাধিসৌধের ভেতরে মানুষের হাড়গোড় ও বেশ কিছু পুরনো সমাধির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সমাধিসৌধের অভ্যন্তরীণ প্যাসেজ ও ৫৪৭টি কক্ষ মাটির শিলা দিয়ে তৈরি। ধারণা করা হয়, মাটির শিলা ৫ কিলোমিটার দূরের রকি বিচ থেকে আনা হয়। প্রস্তরবিদরা ধারণা করেন, সমাধিসৌধের চূড়ার অংশ এবং প্রবেশদ্বারটি উইকলো পর্বতমালার কোয়ার্টজ কোবলস্টোন দিয়ে তৈরি। ভেতরে ব্যবহৃত গ্রানাইট আনা হয় মোরেন পর্বতমালা থেকে।

জোসার পিরামিড, মিশর
মিশরের জোসার পিরামিড একটি অনন্য সুন্দর প্রাচীন স্থাপত্য-নির্দশন। এটি খ্রিস্টপূর্ব ২৬৪৮-২৬৬৭ অব্দে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মিশরীয় ওল্ড কিংডমের তৃতীয় রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা এটি নির্মাণ করেন। জোসার ১৯ বছর রাজ্য শাসন করেন। মিশরের অন্যান্য পিরামিড থেকে জোসার পিরামিডের আলাদা স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য আছে।
উদ্ভাবনী সমাধিটি তুরা চুনাপাথর দিয়ে বেষ্টিত, যা ১০.৫ মিটার উঁচু। এর পুরো কাঠামোটি মাটির ইট দিয়ে তৈরি। বাইরের দেয়াল একটিমাত্র শিলা দিয়ে বেষ্টিত; যার দৈর্ঘ্য ৭৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিটার।
সমাধিসৌধগুলো ভালো মানের গ্রানাইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এবং এর একটি সমাধি উম্মুক্ত ছিল। উম্মুক্ত সমাধিটি ৩.৫ টনের ব্লক দিয়ে সিল করা ছিল। প্রস্তরবিদরা মনে করেন, কবরটি সম্ভবত শত্র“পক্ষ লুট করে। কারণ সেটির অস্তিত্ব এখন আর দেখা যায় না।

কারিকা ডেস্ক

NO COMMENTS

Leave a Reply